Dhaka ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কুড়িগ্রামে আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন: মাদরাসা শিক্ষক আটক নরসিংদীর রায়পুরায় ১৮টি জাল ৫০ টাকার নোটসহ ইমন গ্রেপ্তার মেসের কক্ষে মিলল নার্সিং ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত কক্সবাজারের রামুতে আগামীকাল ‘ওয়াক ফর জাস্টিস, এগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ পদযাত্রা কুড়িগ্রামে সাংবাদিক জুবায়েরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের আইনের আওতার দাবি সুনামগঞ্জে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর অবমাননার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ ও শাস্তির দাবি বগুড়ার শাজাহানপুরে নদী থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার ২০ হাজার অবৈধ অটোরিকশার দখলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, প্রশাসনিক ঠেলাঠেলিতে স্থবির জনজীবন

উন্নয়ন বিহীন দুই কিলোমিটার, রুগ্ন রাস্তা পাড়ি দিচ্ছে হাজারো মানুষ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০১:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
  • ১৮৫ সময় দেখুন
print news

◼️মো: রিয়াজ–শেরপুর জেলা

 

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘহাতা থেকে হাসধরা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা রাস্তা বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ রাস্তাটি যেন দুর্ভোগের এক চিরচেনা নাম হয়ে ওঠে।

প্রতিদিন এই রাস্তায় প্রায় দুই হাজার মানুষ যাতায়াত করে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ নানা প্রয়োজনেই এ রাস্তাটির উপর নির্ভরশীল এলাকাবাসী। তবে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে থাকা রাস্তা পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিনিয়তই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সবাই।

সরেজমিনে জানা যায়, রাস্তাটির পাশে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্র্যাক স্কুল, কওমি মাদ্রাসা ও একাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারেন না, আর রোগী বহনে তো গাড়ি চলাচলই একপ্রকার অসম্ভব।

স্থানীয় শিক্ষক সবুজ মিয়া বলেন, বহু বছর ধরে এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করলেও কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। রোগী নিয়ে পায়ে হেঁটে যেতে হয় হাসপাতাল পর্যন্ত।

একই এলাকার যুবক খাইরুল ইসলাম জানান, রাস্তাটির পাশে স্কুল ও মসজিদ থাকা সত্ত্বেও শিশুদের কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়। বর্ষায় অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে, হাঁটা পর্যন্ত যায় না।

কৃষক জায়েদ বলেন, ফসল উঠানোর সময় এই রাস্তা দিয়ে কিছুই নেয়া যায় না। গরুর গাড়ি তো দূরের কথা, ভ্যানও চলতে পারে না। জীবিকা নিয়ে পড়তে হচ্ছে চরম অনিশ্চয়তায়।

এলাকার শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন কাদায় পড়ে জামাকাপড় নষ্ট হয়। কেউ কেউ ভয়ে স্কুলেই যেতে চায় না।

এমন পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনায় দ্রুত রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের এই অবহেলা উন্নয়নকে স্থবির করে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাবের আহম্মেদ জানান, ভবিষ্যতে বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর আশা, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে তাদের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং শ্রীবরদীর এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি নতুন করে চলার পথ হয়ে উঠবে।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

কুড়িগ্রামে আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন: মাদরাসা শিক্ষক আটক

উন্নয়ন বিহীন দুই কিলোমিটার, রুগ্ন রাস্তা পাড়ি দিচ্ছে হাজারো মানুষ

আপডেটের সময়: ০১:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
print news

◼️মো: রিয়াজ–শেরপুর জেলা

 

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘহাতা থেকে হাসধরা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা রাস্তা বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ রাস্তাটি যেন দুর্ভোগের এক চিরচেনা নাম হয়ে ওঠে।

প্রতিদিন এই রাস্তায় প্রায় দুই হাজার মানুষ যাতায়াত করে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ নানা প্রয়োজনেই এ রাস্তাটির উপর নির্ভরশীল এলাকাবাসী। তবে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে থাকা রাস্তা পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিনিয়তই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সবাই।

সরেজমিনে জানা যায়, রাস্তাটির পাশে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্র্যাক স্কুল, কওমি মাদ্রাসা ও একাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারেন না, আর রোগী বহনে তো গাড়ি চলাচলই একপ্রকার অসম্ভব।

স্থানীয় শিক্ষক সবুজ মিয়া বলেন, বহু বছর ধরে এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করলেও কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। রোগী নিয়ে পায়ে হেঁটে যেতে হয় হাসপাতাল পর্যন্ত।

একই এলাকার যুবক খাইরুল ইসলাম জানান, রাস্তাটির পাশে স্কুল ও মসজিদ থাকা সত্ত্বেও শিশুদের কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়। বর্ষায় অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে, হাঁটা পর্যন্ত যায় না।

কৃষক জায়েদ বলেন, ফসল উঠানোর সময় এই রাস্তা দিয়ে কিছুই নেয়া যায় না। গরুর গাড়ি তো দূরের কথা, ভ্যানও চলতে পারে না। জীবিকা নিয়ে পড়তে হচ্ছে চরম অনিশ্চয়তায়।

এলাকার শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন কাদায় পড়ে জামাকাপড় নষ্ট হয়। কেউ কেউ ভয়ে স্কুলেই যেতে চায় না।

এমন পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনায় দ্রুত রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের এই অবহেলা উন্নয়নকে স্থবির করে দিচ্ছে।

এ বিষয়ে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাবের আহম্মেদ জানান, ভবিষ্যতে বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এলাকাবাসীর আশা, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে তাদের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং শ্রীবরদীর এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি নতুন করে চলার পথ হয়ে উঠবে।