
◼️মো: রিয়াজ–শেরপুর জেলা
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘহাতা থেকে হাসধরা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ একটি কাঁচা রাস্তা বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ রাস্তাটি যেন দুর্ভোগের এক চিরচেনা নাম হয়ে ওঠে।
প্রতিদিন এই রাস্তায় প্রায় দুই হাজার মানুষ যাতায়াত করে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ নানা প্রয়োজনেই এ রাস্তাটির উপর নির্ভরশীল এলাকাবাসী। তবে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে থাকা রাস্তা পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিনিয়তই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সবাই।
সরেজমিনে জানা যায়, রাস্তাটির পাশে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ব্র্যাক স্কুল, কওমি মাদ্রাসা ও একাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরা সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারেন না, আর রোগী বহনে তো গাড়ি চলাচলই একপ্রকার অসম্ভব।
স্থানীয় শিক্ষক সবুজ মিয়া বলেন, বহু বছর ধরে এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করলেও কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। রোগী নিয়ে পায়ে হেঁটে যেতে হয় হাসপাতাল পর্যন্ত।
একই এলাকার যুবক খাইরুল ইসলাম জানান, রাস্তাটির পাশে স্কুল ও মসজিদ থাকা সত্ত্বেও শিশুদের কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়। বর্ষায় অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে, হাঁটা পর্যন্ত যায় না।
কৃষক জায়েদ বলেন, ফসল উঠানোর সময় এই রাস্তা দিয়ে কিছুই নেয়া যায় না। গরুর গাড়ি তো দূরের কথা, ভ্যানও চলতে পারে না। জীবিকা নিয়ে পড়তে হচ্ছে চরম অনিশ্চয়তায়।
এলাকার শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিন কাদায় পড়ে জামাকাপড় নষ্ট হয়। কেউ কেউ ভয়ে স্কুলেই যেতে চায় না।
এমন পরিস্থিতিতে মানবিক বিবেচনায় দ্রুত রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের এই অবহেলা উন্নয়নকে স্থবির করে দিচ্ছে।
এ বিষয়ে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাবের আহম্মেদ জানান, ভবিষ্যতে বরাদ্দ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর আশা, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে তাদের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং শ্রীবরদীর এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি নতুন করে চলার পথ হয়ে উঠবে।
প্রতিবেদকের নাম 

























