Dhaka ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

কালিয়াকৈরে উচ্ছেদ অভিযানের দুই বছর না পেরুতেই ফের বনভূমি দখল, উল্টো সাংবাদিকদের হুমকি

63 / 100 SEO Score
print news

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে উচ্ছেদ অভিযানের দুই বছর পূর্ণ না হতেই ফের বন বিভাগের জমি দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত নজরদারি ও তদারকির অভাবেই দখলদাররা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

জানা গেছে, কালিয়াকৈর রেঞ্জের মৌচাক বন বিটের আওতাধীন ভান্নারা সাব-বিটের ভান্নারা মৌজায় বন বিভাগের জায়গায় জবরদখল করে গড়ে উঠেছিল ‘বটতলা বনফুল বাজার’। ২০২৩ সালে বন বিভাগ সেখানে সাঁড়াশি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে বনের জমি উদ্ধার করে। সে সময় উদ্ধারকৃত জমিতে লাল নিশানাযুক্ত খুঁটি গেড়ে, কাঁটাতার দিয়ে বেড়া নির্মাণ এবং বনায়নের জন্য বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন ওই এলাকায় কোনো দোকানপাট ছিল না।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, সেই উদ্যোগের সুফল টেকেনি। রাস্তার পাশে সারি সারি টিন ও ত্রিপল টাঙিয়ে আবারও নতুন করে ছোট-বড় অস্থায়ী দোকানপাট নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব স্থাপনা সম্পূর্ণভাবেই বন বিভাগের সংরক্ষিত জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে। শুধু একবার উচ্ছেদ অভিযান চালালেই বনভূমি রক্ষা করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তারা বলেন, নিয়মিত তদারকি এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে অবশিষ্ট বন জমিও বেদখল হয়ে যাবে।

এদিকে, বনের জমি পুনরায় দখলের এই চিত্র এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে গাজীপুর কালিয়াকৈর রেঞ্জের মৌচাক বিটের ফরেস্ট অফিসার মো. শাহজাহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো সাংবাদিকদের ওপর চিপ্ত হন। তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বলেন, “এই দায়িত্ব আপনাদেরকে কে দিয়েছে? পারলে সবকিছু ভেঙে দেন।” এছাড়া তিনি সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমান সরকারের সময়ে যখন বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে একজন দায়িত্বশীল বন কর্মকর্তার এমন অসৎ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অবিলম্বে এই অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ এবং বন বিভাগের উদাসীনতা ও অসদুপায়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও পরিবেশবাদীরা।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

কালিয়াকৈরে উচ্ছেদ অভিযানের দুই বছর না পেরুতেই ফের বনভূমি দখল, উল্টো সাংবাদিকদের হুমকি

আপডেটের সময়: ০৮:১৮:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
63 / 100 SEO Score
print news

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে উচ্ছেদ অভিযানের দুই বছর পূর্ণ না হতেই ফের বন বিভাগের জমি দখল হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত নজরদারি ও তদারকির অভাবেই দখলদাররা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

জানা গেছে, কালিয়াকৈর রেঞ্জের মৌচাক বন বিটের আওতাধীন ভান্নারা সাব-বিটের ভান্নারা মৌজায় বন বিভাগের জায়গায় জবরদখল করে গড়ে উঠেছিল ‘বটতলা বনফুল বাজার’। ২০২৩ সালে বন বিভাগ সেখানে সাঁড়াশি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে বনের জমি উদ্ধার করে। সে সময় উদ্ধারকৃত জমিতে লাল নিশানাযুক্ত খুঁটি গেড়ে, কাঁটাতার দিয়ে বেড়া নির্মাণ এবং বনায়নের জন্য বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘদিন ওই এলাকায় কোনো দোকানপাট ছিল না।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, সেই উদ্যোগের সুফল টেকেনি। রাস্তার পাশে সারি সারি টিন ও ত্রিপল টাঙিয়ে আবারও নতুন করে ছোট-বড় অস্থায়ী দোকানপাট নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব স্থাপনা সম্পূর্ণভাবেই বন বিভাগের সংরক্ষিত জমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে। শুধু একবার উচ্ছেদ অভিযান চালালেই বনভূমি রক্ষা করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তারা বলেন, নিয়মিত তদারকি এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে অবশিষ্ট বন জমিও বেদখল হয়ে যাবে।

এদিকে, বনের জমি পুনরায় দখলের এই চিত্র এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে গাজীপুর কালিয়াকৈর রেঞ্জের মৌচাক বিটের ফরেস্ট অফিসার মো. শাহজাহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টো সাংবাদিকদের ওপর চিপ্ত হন। তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বলেন, “এই দায়িত্ব আপনাদেরকে কে দিয়েছে? পারলে সবকিছু ভেঙে দেন।” এছাড়া তিনি সংবাদকর্মীদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমান সরকারের সময়ে যখন বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে একজন দায়িত্বশীল বন কর্মকর্তার এমন অসৎ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অবিলম্বে এই অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ এবং বন বিভাগের উদাসীনতা ও অসদুপায়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও পরিবেশবাদীরা।