Dhaka ০৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত কক্সবাজারের রামুতে আগামীকাল ‘ওয়াক ফর জাস্টিস, এগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ পদযাত্রা কুড়িগ্রামে সাংবাদিক জুবায়েরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের আইনের আওতার দাবি সুনামগঞ্জে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর অবমাননার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ ও শাস্তির দাবি বগুড়ার শাজাহানপুরে নদী থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার ২০ হাজার অবৈধ অটোরিকশার দখলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, প্রশাসনিক ঠেলাঠেলিতে স্থবির জনজীবন নওগাঁর রাণীনগরে নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত: শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সংবর্ধনা খুলনার দাকোপে প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত নরসিংদীতে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

কিশোরকে হত্যার পর লাশে আগুন, ৭ বছরেও মেলেনি তার পরিচয়

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৭:১১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৭৩ সময় দেখুন
print news

◼️অপূর্ব–কক্সবাজার

 

সাত বছর আগে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে একটি পরিত্যক্ত সীমানাদেয়ালের ভেতর থেকে দগ্ধ এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। কিন্তু কে এই কিশোর, কীভাবেই–বা আগুনে পুড়েছে সে, তার কারণ জানা যায়নি আজও। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই কিশোরকে খুন করা হয়েছিল। তার মাথায় আঘাতেরও চিহ্ন ছিল।

এ ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্তকারী পাল্টেছে একের পর এক। শেষে সপ্তম তদন্তকারী কর্মকর্তা কিছুই করতে না পেরে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন গত জুন মাসে। চলতি আগস্টে আদালত তা গ্রহণ না করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল। সেদিন রাতে দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে নগরের হালিশহরে ফইল্যাতলী খালপাড় এলাকার একটি পরিত্যক্ত সীমানাদেয়ালের ভেতর থেকে ১৬–১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে। আগুনে তার শরীরের ৯০ শতাংশ অংশ পুড়ে যায়। এ ঘটনায় হালিশহর থানায় মামলা করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামকে হস্তান্তর করা হয়।

শুরুতে মামলাটি তদন্ত শুরু করে হালিশহর থানা-পুলিশ। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুর্জয় চক্রবর্তী ও জীবন চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করলে ওই বছরের ২৬ এপ্রিল জীবন চক্রবর্তী জবানবন্দি দেন। এতে স্বীকার করেন, পুড়ে যাওয়া লাশের নাম দিলীপ আচার্য। গাঁজা সেবনের জন্য সহকর্মীর (দিলীপ) কাছ থেকে ৫০ টাকা ধার নেন দুজন। ধারের টাকা না দেওয়ায় ওই সহকর্মী তাঁদের চড় মারে। এর প্রতিশোধ নিতেই গলায় গামছা পেঁচিয়ে খুন করেন সহকর্মীকে। এতেই ক্ষান্ত হননি, প্রমাণ মুছে দিতে লাশ পুড়িয়েও দেন।

কিন্তু গোল বাধে দেড় বছরের মাথায় মৃত দিলীপ আচার্য নিজেই আদালতে হাজির হলে! আদালত প্রশ্ন তোলেন, তাহলে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি কীভাবে এল? জবাবে আসামি জানালেন, চার দিন ধরে টানা নির্যাতন আর রীতিমতো ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে পুলিশের সাজানো গল্পই তিনি আদালতে জবানবন্দি হিসেবে দিয়েছেন। ২০২২ সালের ২২ অক্টোবর নির্দেশ দিলে দিলীপ আচার্য নিজে, মামলার প্রথম তদন্তকারী হালিশহর থানার তৎকালীন এসআই সাইফুদ্দীন ও কামরুল ইসলাম এবং জবানবন্দি প্রদানকারী আসামি জীবন চক্রবর্তী (১৮) ও আসামি দুর্জয় আচার্য (১৮) হাজির হন। তাঁরা দুজনই একটি রডের কারখানায় কাজ করেন। বর্তমানে এই মামলায় তাঁরা দুজন জামিনে রয়েছেন।

হালিশহর থানা-পুলিশের আরও দুজন এসআই মামলাটি তদন্ত করেন। কিন্তু কিনারা করতে না পারায় ২০২২ সালে আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআইয়ের সাইফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও মহিদুল আলম তদন্ত করেন। কিন্তু কেউ খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারেননি।

শেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মহিদুল আলম আদালতে জমা দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, পোড়া লাশটির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনায় কে বা কারা জড়িত, তা তদন্তে পাওয়া যায়নি।

তবে সিআইডি আশাবাদী, তারা খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারবে। জানতে চাইলে সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার সূত্রধর ত্রিপুরা দৈনিক ক্রাইম তালাশ কে বলেন,বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সূত্রহীন এই খুনের মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে সিআইডি।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

কিশোরকে হত্যার পর লাশে আগুন, ৭ বছরেও মেলেনি তার পরিচয়

আপডেটের সময়: ০৭:১১:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
print news

◼️অপূর্ব–কক্সবাজার

 

সাত বছর আগে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে একটি পরিত্যক্ত সীমানাদেয়ালের ভেতর থেকে দগ্ধ এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। কিন্তু কে এই কিশোর, কীভাবেই–বা আগুনে পুড়েছে সে, তার কারণ জানা যায়নি আজও। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই কিশোরকে খুন করা হয়েছিল। তার মাথায় আঘাতেরও চিহ্ন ছিল।

এ ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্তকারী পাল্টেছে একের পর এক। শেষে সপ্তম তদন্তকারী কর্মকর্তা কিছুই করতে না পেরে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন গত জুন মাসে। চলতি আগস্টে আদালত তা গ্রহণ না করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল। সেদিন রাতে দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে নগরের হালিশহরে ফইল্যাতলী খালপাড় এলাকার একটি পরিত্যক্ত সীমানাদেয়ালের ভেতর থেকে ১৬–১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে। আগুনে তার শরীরের ৯০ শতাংশ অংশ পুড়ে যায়। এ ঘটনায় হালিশহর থানায় মামলা করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামকে হস্তান্তর করা হয়।

শুরুতে মামলাটি তদন্ত শুরু করে হালিশহর থানা-পুলিশ। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুর্জয় চক্রবর্তী ও জীবন চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করলে ওই বছরের ২৬ এপ্রিল জীবন চক্রবর্তী জবানবন্দি দেন। এতে স্বীকার করেন, পুড়ে যাওয়া লাশের নাম দিলীপ আচার্য। গাঁজা সেবনের জন্য সহকর্মীর (দিলীপ) কাছ থেকে ৫০ টাকা ধার নেন দুজন। ধারের টাকা না দেওয়ায় ওই সহকর্মী তাঁদের চড় মারে। এর প্রতিশোধ নিতেই গলায় গামছা পেঁচিয়ে খুন করেন সহকর্মীকে। এতেই ক্ষান্ত হননি, প্রমাণ মুছে দিতে লাশ পুড়িয়েও দেন।

কিন্তু গোল বাধে দেড় বছরের মাথায় মৃত দিলীপ আচার্য নিজেই আদালতে হাজির হলে! আদালত প্রশ্ন তোলেন, তাহলে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি কীভাবে এল? জবাবে আসামি জানালেন, চার দিন ধরে টানা নির্যাতন আর রীতিমতো ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে পুলিশের সাজানো গল্পই তিনি আদালতে জবানবন্দি হিসেবে দিয়েছেন। ২০২২ সালের ২২ অক্টোবর নির্দেশ দিলে দিলীপ আচার্য নিজে, মামলার প্রথম তদন্তকারী হালিশহর থানার তৎকালীন এসআই সাইফুদ্দীন ও কামরুল ইসলাম এবং জবানবন্দি প্রদানকারী আসামি জীবন চক্রবর্তী (১৮) ও আসামি দুর্জয় আচার্য (১৮) হাজির হন। তাঁরা দুজনই একটি রডের কারখানায় কাজ করেন। বর্তমানে এই মামলায় তাঁরা দুজন জামিনে রয়েছেন।

হালিশহর থানা-পুলিশের আরও দুজন এসআই মামলাটি তদন্ত করেন। কিন্তু কিনারা করতে না পারায় ২০২২ সালে আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআইয়ের সাইফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও মহিদুল আলম তদন্ত করেন। কিন্তু কেউ খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারেননি।

শেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মহিদুল আলম আদালতে জমা দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, পোড়া লাশটির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনায় কে বা কারা জড়িত, তা তদন্তে পাওয়া যায়নি।

তবে সিআইডি আশাবাদী, তারা খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারবে। জানতে চাইলে সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার সূত্রধর ত্রিপুরা দৈনিক ক্রাইম তালাশ কে বলেন,বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সূত্রহীন এই খুনের মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে সিআইডি।