Dhaka ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত কক্সবাজারের রামুতে আগামীকাল ‘ওয়াক ফর জাস্টিস, এগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ পদযাত্রা কুড়িগ্রামে সাংবাদিক জুবায়েরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের আইনের আওতার দাবি সুনামগঞ্জে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর অবমাননার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ ও শাস্তির দাবি বগুড়ার শাজাহানপুরে নদী থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার ২০ হাজার অবৈধ অটোরিকশার দখলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, প্রশাসনিক ঠেলাঠেলিতে স্থবির জনজীবন নওগাঁর রাণীনগরে নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত: শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সংবর্ধনা খুলনার দাকোপে প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত নরসিংদীতে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

চিকিৎসাকেন্দ্রে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ

63 / 100 SEO Score
print news

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসককে ‘স্যার’ এর পরিবর্তে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় এক রোগীর দুই বছর বয়সী শিশুকে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস এলাকার বাসিন্দা তানভীর হাসান তার দুই বছর বয়সী শিশুসন্তান রুজায়াইনকে নিয়ে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। শিশুটিকে একটি বিড়াল আঁচড় দেওয়ায় জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

ভুক্তভোগী তানভীর হাসানের অভিযোগ, জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামকে সালাম দিয়ে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে তিনি শিশুর সমস্যার কথা জানান। তখন ওই চিকিৎসক জানান, বিড়ালের আঁচড়ের প্রয়োজনীয় টিকা এই মুহূর্তে হাসপাতালে নেই এবং তাদের বিকেলে আসতে বলেন। এরপর যোগাযোগের সুবিধার জন্য চিকিৎসকের ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর চাইলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে বলে দাবি করেন তানভীর।

তার ভাষ্যমতে, চিকিৎসক তখন ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন যে তিনি একজন বিসিএস ক্যাডার, তাকে কেন ‘ভাই’ বলে ডাকা হলো—এমন মন্তব্য করে তিনি তাদের অবিলম্বে হাসপাতাল থেকে চলে যেতে বলেন।

ঘটনার সময় ধারণকৃত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে রোগীর স্বজনকে চিকিৎসকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। সেখানে ওই স্বজনকে বলতে শোনা যায়, “প্রথমে ঢুকেই আপনাকে সালাম দিলাম, এরপর ভাই বললাম। আপনি কোন গেজেটেড অফিসার যে আপনাকে ভাই বলা যাবে না?” জবাবে চিকিৎসককে বলতে শোনা যায়, “আপনি চলে যান, আপনার সঙ্গে কোনো কথা বলব না।”

তানভীর হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি অসুস্থ একটি শিশুকে নিয়ে চিকিৎসাপ্রত্যাশী হয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। চিকিৎসককে সম্মান জানিয়েই কথা বলেছি। কিন্তু কেবল ‘ভাই’ বলায় তিনি চরম বিরক্ত হন। পরে যোগাযোগের নম্বর চাওয়ায় আমার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং আমার সন্তানকে চিকিৎসা না দিয়েই হাসপাতাল থেকে বের করে দেন।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, “ডা. আরিফুল ইসলাম একজন দায়িত্বশীল ও কর্মঠ চিকিৎসক। মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোগী যোগাযোগের জন্য নম্বর চাইলে হাসপাতালের নিজস্ব অফিসিয়াল নম্বর দেওয়া যেতে পারত। এছাড়া ভাইরাল হওয়া ভিডিওতেও ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করতে নিষেধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে শোনা যায় না। আমার মতে, উভয় পক্ষের ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।”

এদিকে সরকারি হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের আরও পেশাদার, দায়িত্বশীল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

চিকিৎসাকেন্দ্রে ‘স্যার’ না বলে ‘ভাই’ ডাকায় চিকিৎসাসেবা না দেওয়ার অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৭:১৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
63 / 100 SEO Score
print news

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসককে ‘স্যার’ এর পরিবর্তে ‘ভাই’ সম্বোধন করায় এক রোগীর দুই বছর বয়সী শিশুকে চিকিৎসাসেবা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস এলাকার বাসিন্দা তানভীর হাসান তার দুই বছর বয়সী শিশুসন্তান রুজায়াইনকে নিয়ে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যান। শিশুটিকে একটি বিড়াল আঁচড় দেওয়ায় জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।

ভুক্তভোগী তানভীর হাসানের অভিযোগ, জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামকে সালাম দিয়ে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে তিনি শিশুর সমস্যার কথা জানান। তখন ওই চিকিৎসক জানান, বিড়ালের আঁচড়ের প্রয়োজনীয় টিকা এই মুহূর্তে হাসপাতালে নেই এবং তাদের বিকেলে আসতে বলেন। এরপর যোগাযোগের সুবিধার জন্য চিকিৎসকের ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর চাইলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে বলে দাবি করেন তানভীর।

তার ভাষ্যমতে, চিকিৎসক তখন ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন যে তিনি একজন বিসিএস ক্যাডার, তাকে কেন ‘ভাই’ বলে ডাকা হলো—এমন মন্তব্য করে তিনি তাদের অবিলম্বে হাসপাতাল থেকে চলে যেতে বলেন।

ঘটনার সময় ধারণকৃত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে রোগীর স্বজনকে চিকিৎসকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হতে দেখা যায়। সেখানে ওই স্বজনকে বলতে শোনা যায়, “প্রথমে ঢুকেই আপনাকে সালাম দিলাম, এরপর ভাই বললাম। আপনি কোন গেজেটেড অফিসার যে আপনাকে ভাই বলা যাবে না?” জবাবে চিকিৎসককে বলতে শোনা যায়, “আপনি চলে যান, আপনার সঙ্গে কোনো কথা বলব না।”

তানভীর হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি অসুস্থ একটি শিশুকে নিয়ে চিকিৎসাপ্রত্যাশী হয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। চিকিৎসককে সম্মান জানিয়েই কথা বলেছি। কিন্তু কেবল ‘ভাই’ বলায় তিনি চরম বিরক্ত হন। পরে যোগাযোগের নম্বর চাওয়ায় আমার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং আমার সন্তানকে চিকিৎসা না দিয়েই হাসপাতাল থেকে বের করে দেন।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মো. আরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ বলেন, “ডা. আরিফুল ইসলাম একজন দায়িত্বশীল ও কর্মঠ চিকিৎসক। মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোগী যোগাযোগের জন্য নম্বর চাইলে হাসপাতালের নিজস্ব অফিসিয়াল নম্বর দেওয়া যেতে পারত। এছাড়া ভাইরাল হওয়া ভিডিওতেও ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করতে নিষেধ করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে শোনা যায় না। আমার মতে, উভয় পক্ষের ভুল বোঝাবুঝি থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।”

এদিকে সরকারি হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের আরও পেশাদার, দায়িত্বশীল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুরো ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।