
ক্ষমতার দাপট আর চেয়ার দখলের লড়াইয়ে শিক্ষার পবিত্র আঙিনায় এক নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে সুনামগঞ্জের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে চলমান পরীক্ষার শত শত শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দেখা যায়, উত্তাল পরিস্থিতি। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, সকালে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি দাশ যখন দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তখন প্রত্যাহারকৃত প্রধান শিক্ষক বেলাল আহমদ বিলাল কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তারা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় প্রতিবাদ করলে বিদ্যালয়ের এক গণিত শিক্ষককেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও চলমান পরীক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, “যারা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেছে এবং আমাদের শিক্ষককে আহত করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা অবিলম্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রত্যাহারকৃত প্রধান শিক্ষক বেলাল আহমদ বিলাল হাইকোর্টের আদেশের কথা উল্লেখ করেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ার বদলে কেন এমন ন্যাক্কারজনক পন্থা অবলম্বন করা হলো, তার সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অরাজকতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও একাডেমিক সুপারভাইজার মো. আরিফুল হক জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার অধিকার কারো নেই। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অস্থিতিশীল এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত তালা খুলে দিয়ে পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
এরশাদুল হক (সুনামগঞ্জ) 




















