Dhaka ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত কক্সবাজারের রামুতে আগামীকাল ‘ওয়াক ফর জাস্টিস, এগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ পদযাত্রা কুড়িগ্রামে সাংবাদিক জুবায়েরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের আইনের আওতার দাবি সুনামগঞ্জে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর অবমাননার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ ও শাস্তির দাবি বগুড়ার শাজাহানপুরে নদী থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার ২০ হাজার অবৈধ অটোরিকশার দখলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, প্রশাসনিক ঠেলাঠেলিতে স্থবির জনজীবন নওগাঁর রাণীনগরে নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত: শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সংবর্ধনা খুলনার দাকোপে প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত নরসিংদীতে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

তাড়াশে সোনালী আঁশের জোয়ারে জেগে উঠছে কৃষকের সুদিন

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৬৮ সময় দেখুন
print news

◼️এস. এম. রুহুল তাড়াশী–চলনবিল প্রতিনিধি 

 

বাংলার হৃদয়ে বিস্তৃত চলনবিল-যেন এক জীবন্ত কবিতা। বর্ষার জলে ধুয়ে যাওয়া বিলের বুক এখন ভাসছে কৃষকের স্বপ্নে। জলরাশির মাঝে দুলছে পাটের আঁশ, ভাসছে গরুর গাড়ি, বাজারমুখী নৌকা, আর সর্বত্র প্রতিধ্বনিত হচ্ছে গ্রামীণ জীবনের এক অদম্য উচ্ছ্বাস।

এই মৌসুমে তাড়াশের কৃষকেরা যেন ফিরে পেয়েছেন তাদের হারানো আস্থা। দীর্ঘ দিনের পরিশ্রম আর স্নেহে লালিত জমিতে সোনালী আঁশের সমারোহে ভরে উঠেছে মাঠ থেকে বিল। খাল-ডোবা, নদী-নালায় দেখা যায় কৃষকের ব্যস্ততা, কেউ কোমরপানিতে দাঁড়িয়ে আঁশ ছাড়াচ্ছেন, কেউ আবার হাতে টান দিচ্ছেন ভেজা আঁশের রেশমি সুতোয়, আর বাজারমুখী কেউ বোঝাই করছেন ভ্যানে কিংবা গরুর গাড়িতে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর তাড়াশ উপজেলার আট ইউনিয়নের বিভিন্ন বিলে ৮ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮০ হেক্টর বেশি। কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে এক হাজার একশ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে অতিরিক্ত সেচ খরচ হয়নি, আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাইয়ের আক্রমণও ছিল কম। সব মিলিয়ে কৃষকের ব্যয় কমেছে, উৎপাদন বেড়েছে, আর পাটের দামও উঠেছে প্রত্যাশার ঊর্ধ্বে।

মাগুরা বিনোদ ইউনিয়নের হামকুড়িয়া ও আমাবাড়িয়া গ্রামের কৃষকেরা জানালেন, এক বিঘা জমিতে খরচ পড়ে সাত থেকে আট হাজার টাকা। উৎপাদন হয় আট থেকে দশ মণ। বাজারে প্রতিমণ পাট এখন বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার দুইশ থেকে তিন হাজার আটশ টাকায়। অর্থাৎ এক বিঘা জমি থেকে মিলছে প্রায় পঁইত্রিশ হাজার টাকার সমমূল্য, তার সঙ্গে অতিরিক্ত দু’হাজার টাকার পাটকাঠি। গত বছরের তুলনায় এ দাম কৃষকের মনে এনেছে সোনালী আশার ঢেউ।

তবে চলনবিলের উঁচু জমির কৃষকেরা কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় তাঁরা আঁশ ছাড়াতে হিমশিম খাচ্ছেন। তবুও সর্বত্র যে চিত্র ভেসে উঠছে, তা হলো সুদিনের।

আজকের চলনবিল কেবল জমিন আর ফসলের খামার নয়, এটি যেন বাংলার কৃষকের হৃদয়বীণায় বেজে ওঠা এক সুর। পাটের আঁশে ভেসে আসছে নতুন ভোরের গান। সোনালী আঁশ আবার ফিরিয়ে আনছে বাংলার হারানো গৌরব, কৃষকের ঘরে ফিরছে হাসি, বিলে ভাসছে স্বপ্ন, আর বাংলার আঙিনায় আবারও জেগে উঠছে সেই অনন্ত সোনালী দিন।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

তাড়াশে সোনালী আঁশের জোয়ারে জেগে উঠছে কৃষকের সুদিন

আপডেটের সময়: ০৬:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
print news

◼️এস. এম. রুহুল তাড়াশী–চলনবিল প্রতিনিধি 

 

বাংলার হৃদয়ে বিস্তৃত চলনবিল-যেন এক জীবন্ত কবিতা। বর্ষার জলে ধুয়ে যাওয়া বিলের বুক এখন ভাসছে কৃষকের স্বপ্নে। জলরাশির মাঝে দুলছে পাটের আঁশ, ভাসছে গরুর গাড়ি, বাজারমুখী নৌকা, আর সর্বত্র প্রতিধ্বনিত হচ্ছে গ্রামীণ জীবনের এক অদম্য উচ্ছ্বাস।

এই মৌসুমে তাড়াশের কৃষকেরা যেন ফিরে পেয়েছেন তাদের হারানো আস্থা। দীর্ঘ দিনের পরিশ্রম আর স্নেহে লালিত জমিতে সোনালী আঁশের সমারোহে ভরে উঠেছে মাঠ থেকে বিল। খাল-ডোবা, নদী-নালায় দেখা যায় কৃষকের ব্যস্ততা, কেউ কোমরপানিতে দাঁড়িয়ে আঁশ ছাড়াচ্ছেন, কেউ আবার হাতে টান দিচ্ছেন ভেজা আঁশের রেশমি সুতোয়, আর বাজারমুখী কেউ বোঝাই করছেন ভ্যানে কিংবা গরুর গাড়িতে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর তাড়াশ উপজেলার আট ইউনিয়নের বিভিন্ন বিলে ৮ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮০ হেক্টর বেশি। কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে এক হাজার একশ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে অতিরিক্ত সেচ খরচ হয়নি, আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রোগবালাইয়ের আক্রমণও ছিল কম। সব মিলিয়ে কৃষকের ব্যয় কমেছে, উৎপাদন বেড়েছে, আর পাটের দামও উঠেছে প্রত্যাশার ঊর্ধ্বে।

মাগুরা বিনোদ ইউনিয়নের হামকুড়িয়া ও আমাবাড়িয়া গ্রামের কৃষকেরা জানালেন, এক বিঘা জমিতে খরচ পড়ে সাত থেকে আট হাজার টাকা। উৎপাদন হয় আট থেকে দশ মণ। বাজারে প্রতিমণ পাট এখন বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার দুইশ থেকে তিন হাজার আটশ টাকায়। অর্থাৎ এক বিঘা জমি থেকে মিলছে প্রায় পঁইত্রিশ হাজার টাকার সমমূল্য, তার সঙ্গে অতিরিক্ত দু’হাজার টাকার পাটকাঠি। গত বছরের তুলনায় এ দাম কৃষকের মনে এনেছে সোনালী আশার ঢেউ।

তবে চলনবিলের উঁচু জমির কৃষকেরা কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। পর্যাপ্ত পানি না থাকায় তাঁরা আঁশ ছাড়াতে হিমশিম খাচ্ছেন। তবুও সর্বত্র যে চিত্র ভেসে উঠছে, তা হলো সুদিনের।

আজকের চলনবিল কেবল জমিন আর ফসলের খামার নয়, এটি যেন বাংলার কৃষকের হৃদয়বীণায় বেজে ওঠা এক সুর। পাটের আঁশে ভেসে আসছে নতুন ভোরের গান। সোনালী আঁশ আবার ফিরিয়ে আনছে বাংলার হারানো গৌরব, কৃষকের ঘরে ফিরছে হাসি, বিলে ভাসছে স্বপ্ন, আর বাংলার আঙিনায় আবারও জেগে উঠছে সেই অনন্ত সোনালী দিন।