Dhaka ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

দরিদ্র মানুষের নামে লাখ লাখ টাকার জালিয়াতি: এসডিএফ সভাপতিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

print news

◼️মো:রিয়াজ–শেরপুর জেলা

 

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)-এর বিরুদ্ধে ভয়াবহ ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় দরিদ্র মানুষের নামে ভুয়া ঋণ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে নলকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম মানিককুড়া গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭০ সদস্যের মধ্যে ১৩১ জনের নামে দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৮শ ৮০ টাকার ঋণ। তবে বাস্তবে অন্তত ৭০-৮০ জন কোনো টাকা পাননি। তাদের নামে ১০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন ভিক্ষুক, দিনমজুর ও হতদরিদ্র মানুষ।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে তাদের নাম ব্যবহার করে সমিতির সভাপতি মমিনা বেগম, সম্পাদক আঞ্জুয়ারা, কোষাধ্যক্ষ মিনারা বেগম এবং উপজেলা ক্লাস্টার অফিসার হারাধন মহন অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। ভুক্তভোগী সুফিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা গরীব মানুষ, সামান্য আয় দিয়ে সংসার চলে না। অথচ আমাদের নামে নাকি অনেক টাকা ঋণ উঠেছে! আমি এক টাকাও পাইনি। এখন যদি এই টাকার দায় আমার ঘাড়ে চাপানো হয়, আমি কোথায় যাব?”

অন্য এক ভুক্তভোগী আবিরন বেগম বলেন, “আমাদের নাম ব্যবহার করে টাকা তুলে খেয়ে ফেলেছে ওরা। আমরা তো কিছুই জানতাম না। এখন যদি সমিতি কিস্তি চাই, আমরা কী দিয়ে শোধ করব? আমরা এর দায় থেকে মুক্তি চাই।”

সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সমিতির সভাপতি, সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পালিয়ে যান। উপজেলা ক্লাস্টার অফিসার হারাধন মহন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। তদন্ত ছাড়া কিছু বলা যাবে না।”

ঝিনাইগাতী ইউএনও মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “দরিদ্র মানুষের নামে ঋণ দেখিয়ে কেউ যদি টাকা আত্মসাৎ করে থাকে, তাদের ছাড় দেয়া হবে না। সঠিক তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। গ্রামবাসী দাবি করছেন, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

দরিদ্র মানুষের নামে লাখ লাখ টাকার জালিয়াতি: এসডিএফ সভাপতিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৩:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
print news

◼️মো:রিয়াজ–শেরপুর জেলা

 

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)-এর বিরুদ্ধে ভয়াবহ ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় দরিদ্র মানুষের নামে ভুয়া ঋণ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে নলকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম মানিককুড়া গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭০ সদস্যের মধ্যে ১৩১ জনের নামে দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৮শ ৮০ টাকার ঋণ। তবে বাস্তবে অন্তত ৭০-৮০ জন কোনো টাকা পাননি। তাদের নামে ১০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন ভিক্ষুক, দিনমজুর ও হতদরিদ্র মানুষ।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে তাদের নাম ব্যবহার করে সমিতির সভাপতি মমিনা বেগম, সম্পাদক আঞ্জুয়ারা, কোষাধ্যক্ষ মিনারা বেগম এবং উপজেলা ক্লাস্টার অফিসার হারাধন মহন অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। ভুক্তভোগী সুফিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা গরীব মানুষ, সামান্য আয় দিয়ে সংসার চলে না। অথচ আমাদের নামে নাকি অনেক টাকা ঋণ উঠেছে! আমি এক টাকাও পাইনি। এখন যদি এই টাকার দায় আমার ঘাড়ে চাপানো হয়, আমি কোথায় যাব?”

অন্য এক ভুক্তভোগী আবিরন বেগম বলেন, “আমাদের নাম ব্যবহার করে টাকা তুলে খেয়ে ফেলেছে ওরা। আমরা তো কিছুই জানতাম না। এখন যদি সমিতি কিস্তি চাই, আমরা কী দিয়ে শোধ করব? আমরা এর দায় থেকে মুক্তি চাই।”

সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সমিতির সভাপতি, সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পালিয়ে যান। উপজেলা ক্লাস্টার অফিসার হারাধন মহন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। তদন্ত ছাড়া কিছু বলা যাবে না।”

ঝিনাইগাতী ইউএনও মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “দরিদ্র মানুষের নামে ঋণ দেখিয়ে কেউ যদি টাকা আত্মসাৎ করে থাকে, তাদের ছাড় দেয়া হবে না। সঠিক তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। গ্রামবাসী দাবি করছেন, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।