
◼️মো:রিয়াজ–শেরপুর জেলা
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)-এর বিরুদ্ধে ভয়াবহ ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় দরিদ্র মানুষের নামে ভুয়া ঋণ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে নলকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম মানিককুড়া গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭০ সদস্যের মধ্যে ১৩১ জনের নামে দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৮শ ৮০ টাকার ঋণ। তবে বাস্তবে অন্তত ৭০-৮০ জন কোনো টাকা পাননি। তাদের নামে ১০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন ভিক্ষুক, দিনমজুর ও হতদরিদ্র মানুষ।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে তাদের নাম ব্যবহার করে সমিতির সভাপতি মমিনা বেগম, সম্পাদক আঞ্জুয়ারা, কোষাধ্যক্ষ মিনারা বেগম এবং উপজেলা ক্লাস্টার অফিসার হারাধন মহন অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। ভুক্তভোগী সুফিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা গরীব মানুষ, সামান্য আয় দিয়ে সংসার চলে না। অথচ আমাদের নামে নাকি অনেক টাকা ঋণ উঠেছে! আমি এক টাকাও পাইনি। এখন যদি এই টাকার দায় আমার ঘাড়ে চাপানো হয়, আমি কোথায় যাব?”
অন্য এক ভুক্তভোগী আবিরন বেগম বলেন, “আমাদের নাম ব্যবহার করে টাকা তুলে খেয়ে ফেলেছে ওরা। আমরা তো কিছুই জানতাম না। এখন যদি সমিতি কিস্তি চাই, আমরা কী দিয়ে শোধ করব? আমরা এর দায় থেকে মুক্তি চাই।”
সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সমিতির সভাপতি, সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পালিয়ে যান। উপজেলা ক্লাস্টার অফিসার হারাধন মহন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। তদন্ত ছাড়া কিছু বলা যাবে না।”
ঝিনাইগাতী ইউএনও মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, “দরিদ্র মানুষের নামে ঋণ দেখিয়ে কেউ যদি টাকা আত্মসাৎ করে থাকে, তাদের ছাড় দেয়া হবে না। সঠিক তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। গ্রামবাসী দাবি করছেন, দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
প্রতিবেদকের নাম 




















