
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে নরসিংদীর বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পৌর শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন জেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। এদিকে, বেলাবো উপজেলায় বৃষ্টির কারণে মাটির দেয়াল ধসে রশোনা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আমলাব ইউনিয়নের ধুকুন্দী গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ধারণা, টানা বৃষ্টির কারণে মাটির দেয়াল নরম হয়ে যাওয়ায় সেটি ধসে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নরসিংদী পৌরসভা, ভেলানগর, সার্কিট হাউস এলাকাসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণেও পানি জমেছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পানি ওঠায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। অচল হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জমে থাকা পানির সাথে ময়লা-আবর্জনা মিশে একাকার হয়ে গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করেছে। পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, মেঘনা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ১৩ জুলাই সকাল ৯টা পর্যন্ত নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৩.২৩ মিটার, যা বিপৎসীমার ২.০২ মিটার নিচে। অর্থাৎ, নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচে থাকলেও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণেই মূলত লোকালয়ে জলাবদ্ধতার এই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি ত্রাণ ও সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মোস্তফা মিয়া, নরসিংদী 




















