Dhaka ০১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত কক্সবাজারের রামুতে আগামীকাল ‘ওয়াক ফর জাস্টিস, এগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ পদযাত্রা কুড়িগ্রামে সাংবাদিক জুবায়েরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের আইনের আওতার দাবি সুনামগঞ্জে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর অবমাননার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ ও শাস্তির দাবি বগুড়ার শাজাহানপুরে নদী থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার ২০ হাজার অবৈধ অটোরিকশার দখলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, প্রশাসনিক ঠেলাঠেলিতে স্থবির জনজীবন নওগাঁর রাণীনগরে নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত: শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সংবর্ধনা খুলনার দাকোপে প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত নরসিংদীতে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

নরসিংদীতে লটকনের বাম্পার ফলন, দাম কম নিয়ে চাষিদের দুশ্চিন্তা

45 / 100 SEO Score
print news

‘লটকনের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত নরসিংদীতে এবার অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর লাল মাটির গুণে মৌসুমি ফল লটকনের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার বাগানগুলোতে থোকায় থোকায় ফল ঝুললেও বাজারে দাম কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় চাষিরা।

নরসিংদীর শিবপুর, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লটকনের আবাদ হয়ে থাকে। স্থানীয়ভাবে ‘বুগি’ নামে পরিচিত এই ফলটি ইতোমধ্যে ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই (GI) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। একসময়ের অবহেলিত এই বনজ ফলটি এখন জেলার হাজারো কৃষক পরিবারের প্রধান অর্থকরী ফসলে রূপ নিয়েছে। পাশাপাশি অনেক শিক্ষিত তরুণও বাণিজ্যিকভাবে বাগান গড়ে তুলে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ হয়েছে। এখানকার লাল মাটিতে ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকায় উৎপাদিত লটকনের স্বাদ ও মান দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশ উন্নত। চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি লটকন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা।

এদিকে বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের মুখে কিছুটা মলিনতা দেখা দিয়েছে। চাষিদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি লটকনে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। ফলে উৎপাদন ভালো হলেও খরচ বাদ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

নরসিংদীর শিবপুরের লটকন চাষি করিম চৌধুরী জানান, তিনি নিজেই পাইকারি বাজারে লটকন বিক্রি করে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার চেষ্টা করছেন। চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমির বাগান থেকে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা আয়ের আশা করলেও ‘বল্লা পোকা’র আক্রমণ প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। সময়মতো কীটনাশকযুক্ত ফাঁদ ব্যবহার করে এই পোকা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে জানান তিনি। পাইকারি ব্যবসায়ী হিমেল বলেন, মৌসুমের শুরুতে সাতটি বাগান কিনে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শেষ পর্যন্ত ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।

নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজুল হক জানান, নরসিংদীর আবহাওয়া ও মাটি লটকন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন দারুণ হয়েছে। লটকন চাষকে আরও বেশি লাভজনক করতে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, উন্নত জাত উদ্ভাবন এবং ফলের গুণগত মান বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

নরসিংদীতে লটকনের বাম্পার ফলন, দাম কম নিয়ে চাষিদের দুশ্চিন্তা

আপডেটের সময়: ০৩:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
45 / 100 SEO Score
print news

‘লটকনের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত নরসিংদীতে এবার অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর লাল মাটির গুণে মৌসুমি ফল লটকনের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার বাগানগুলোতে থোকায় থোকায় ফল ঝুললেও বাজারে দাম কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় চাষিরা।

নরসিংদীর শিবপুর, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লটকনের আবাদ হয়ে থাকে। স্থানীয়ভাবে ‘বুগি’ নামে পরিচিত এই ফলটি ইতোমধ্যে ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই (GI) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। একসময়ের অবহেলিত এই বনজ ফলটি এখন জেলার হাজারো কৃষক পরিবারের প্রধান অর্থকরী ফসলে রূপ নিয়েছে। পাশাপাশি অনেক শিক্ষিত তরুণও বাণিজ্যিকভাবে বাগান গড়ে তুলে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ হয়েছে। এখানকার লাল মাটিতে ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকায় উৎপাদিত লটকনের স্বাদ ও মান দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশ উন্নত। চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি লটকন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১৪৬ কোটি টাকা।

এদিকে বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের মুখে কিছুটা মলিনতা দেখা দিয়েছে। চাষিদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতে গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি লটকনে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। ফলে উৎপাদন ভালো হলেও খরচ বাদ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।

নরসিংদীর শিবপুরের লটকন চাষি করিম চৌধুরী জানান, তিনি নিজেই পাইকারি বাজারে লটকন বিক্রি করে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার চেষ্টা করছেন। চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমির বাগান থেকে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা আয়ের আশা করলেও ‘বল্লা পোকা’র আক্রমণ প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। সময়মতো কীটনাশকযুক্ত ফাঁদ ব্যবহার করে এই পোকা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে জানান তিনি। পাইকারি ব্যবসায়ী হিমেল বলেন, মৌসুমের শুরুতে সাতটি বাগান কিনে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শেষ পর্যন্ত ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।

নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজুল হক জানান, নরসিংদীর আবহাওয়া ও মাটি লটকন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ফলন দারুণ হয়েছে। লটকন চাষকে আরও বেশি লাভজনক করতে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, উন্নত জাত উদ্ভাবন এবং ফলের গুণগত মান বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।