
টানা বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে মৌলভীবাজারের তিনটি ইউনিয়নের অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বুধবার রাতে নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ, গ্রামীণ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মোখাবিল এলাকায় ধলাই নদীর বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। পানির তোড়ে মুহূর্তের মধ্যে ইসলামপুর, মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়। ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ, মোখাবিল এলাকার বাঁধটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সময়মতো স্থায়ী সংস্কার না করায় আজ তাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বন্যায় ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারও মানুষ। পাশাপাশি তলিয়ে গেছে আউশ ধানের ক্ষেত।
এদিকে, টানা বর্ষণে জেলার নদ-নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া কুশিয়ারা ও জুড়ী নদের পানির স্তরও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ জানান, ধলাই নদীর যে অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেটি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধার কারণে সেখানে স্থায়ীভাবে কাজ করা সম্ভব হয়নি; তবে যতটুকু সম্ভব রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। পানিবন্দী পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে উদ্ধার তৎপরতা চলছে এবং প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
এহিয়া আহমদ রাফি (কমলগঞ্জ) মৌলভীবাজার 




















