
মোঃ মাসুদ রানা–স্টাফ রিপোর্টার◼️
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ও বাবাকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অবশেষে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে গ্রেফতার হয়েছে এক ডাকাত সর্দারসহ তিনজন। হত্যার রহস্য উন্মোচন ও মালামাল উদ্ধারের তথ্য মিলেছে অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তিতে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান মঙ্গলবার দুপুরে জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, গ্রেফতার হওয়া তিনজন হলো: দুপচাঁচিয়ার বেরুঞ্জ গ্রামের চিহ্নিত ডাকাত সর্দার আব্দুল হাকিম (৩৪), লক্ষীমন্ডপ গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে আব্দুল মান্নান (৫০) এবং আদমদিঘীর বাসিকোড়া গ্রামের লছির আকন্দের ছেলে রফিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই গভীর রাতে ডাকাত চক্রটি লক্ষীমন্ডপ গ্রামের প্রবাসী আফতাব উদ্দিনের বাড়িতে হানা দেয়। প্রথমে বাড়ির মালিক আফতাব উদ্দিনকে ডেকে এনে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে পাশের ঘরে থাকা তার পুত্রবধূ রিভা খাতুনকেও একইভাবে হত্যা করে। তবে ঘরে থাকা পাঁচ বছরের শিশু রুকাইয়া তাসনিম মালিহা অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায়। ডাকাতরা তাকে চোখ বন্ধ করে রাখতে বলে ভয় দেখায়।
এ সময় বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার, দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নেয় তারা।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী ছিল আফতাব উদ্দিনের সাবেক কর্মচারী আব্দুল মান্নান। সে দীর্ঘদিন আফতাবের সেচপাম্পে কাজ করলেও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে চাকরি হারায়। এরপরই প্রতিশোধ নিতে এই পরিকল্পনায় যুক্ত হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে হাকিম ও মান্নানকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুড়িগ্রামের চর জামাল গ্রামে অভিযান চালিয়ে ধরা হয় রফিকুলকে।
গ্রেফতারদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে স্বর্ণের কানের দুল, চুড়ি, আংটি, দুটি মোবাইল, একটি ঘড়ি ও নগদ সাড়ে সাত হাজার টাকা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় নেমেছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। জেলা পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবেদকের নাম 

























