
নীলফামারীর জলঢাকায় সরকারি সেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভেঙে অফিসটি এখন দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত এক সেবাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের যোগদানের পর থেকে আমূল বদলে গেছে এখানকার চিত্র, যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
সরকারি দপ্তরে সেবা পেতে ভোগান্তি বা দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য অনেকটা নিয়মে পরিণত হলেও জলঢাকা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ঘটেছে তার উল্টোটা। বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা গ্রহণে অতীতে যারা ঘুষ ও হয়রানির শিকার হতেন, এখন তারা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি কর্মকর্তার দোরগোড়ায় সেবা পাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, অফিসের পরিবেশ এখন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ। কোনো প্রকার তদবির বা অর্থের বিনিময় ছাড়াই নিয়ম মেনে সঠিকভাবে সরকারি অনুদান ও সেবা প্রদান নিশ্চিত করা হচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেবাপ্রত্যাশীদের সহযোগিতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, “আমরা এখানে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করছি। সেবা পেতে কোনো অর্থ লেনদেনের প্রয়োজন নেই। যোগ্য সেবাগ্রহীতারা অনলাইনে আবেদন করলেই যথাযথ নিয়ম মেনে আমরা তাদের সহায়তা প্রদান করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি অনুদান প্রকৃত হকদারদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল অঙ্গীকার।”
স্থানীয় সুধী সমাজ ও সেবাগ্রহীতাদের মতে, কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে কার্যালয়টিতে সুশাসন ও শৃঙ্খলা ফিরেছে। ভাতা কার্ডের জন্য এখন আর কাউকে দালালের পেছনে ছুটতে হয় না বা বাড়তি খরচ করতে হয় না। সরকারি সেবার এই স্বচ্ছ ও মানবিক রূপ জলঢাকার সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে।
মোঃ রোকনুজ্জামান | নিলফামারী 




















