
◼️আরেফিন ইসলাম–নীলফামারি
নীলফামারীর জলঢাকা থানার ধর্মপাল ইউনিয়নের হযরত শাহ গোরক কামাল (রহ.) মাজার শরীফ এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় গরীব, এতিম ও সাধারণ ছাত্রদের মাঝে মানতি ছাগলের মাংস খাওয়ার এক ভিন্নধর্মী আবহ তৈরি হয়েছে। প্রতি মাসেই নানা মানত বা ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছাগল নিয়ে আসে মাজার প্রাঙ্গণে। শুধু ছাগল নয়, এর সাথে থাকে চাল, ডাল, তেল ও তরকারির অন্যান্য উপকরণও।
মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ হেলালুজ্জামান হিলু জানান, “এই প্রতিষ্ঠানে যারা পড়ে, তাদের অনেকেই গরীব, এতিম এবং হতদরিদ্র। তাই এসব মানতি প্রাণী শুধুমাত্র ছাত্রদের খাওয়ার জন্যই ব্যবহার করা হয়। এখানে মাদ্রাসার কমিটি বা অন্য কেউ এসব খাওয়ায় অংশ নিতে পারে না।
তিনি আরও জানান, “মাদ্রাসার পুকুরে মাছ চাষ করা হলেও তা কেউ নিজের জন্য নিতে পারত না। কেউ কিনতে চাইলে বাজারদরের ভিত্তিতে নিতে হতো। সেই নিয়ম আজও বহাল আছে।
এই মাদ্রাসায় নুরানি ও হেফজ্ বিভাগে বর্তমানে চল্লিশের বেশি ছাত্র অধ্যয়ন করছে। শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ জন ছাত্র হেফজ সম্পন্ন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সুনাম অর্জন করেছে।
হেফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ মোঃ জোবায়দুল ইসলাম বলেন, “অনেক আগে থেকেই লিল্লাহ বোর্ডিং চালুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। দূর থেকে যারা আসে, তাদের থাকা-খাওয়ার সমস্যার কারণে অনেক সময় ভর্তি বাধাগ্রস্ত হয়। স্থানীয় লোকদের বাসায় থেকেই কিছু ছাত্র লেখাপড়া করে। তবে ছাত্র সংখ্যা বাড়লে সবার জন্য জায়গা পাওয়া সম্ভব নয়। তাই আবাসিক চালু করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, যদি আবাসিক ব্যবস্থা চালু হয়, তাহলে এসব মানতি ছাগল ও অন্যান্য হালাল প্রাণী দূর-দূরান্ত থেকে আগত ছাত্রদের জন্য একটি বড় সহায়তা হবে। এতে করে অনেক গরিব ছাত্রের জন্য মাদ্রাসায় ভর্তি সহজ হয়ে যাবে।
মাদ্রাসাটির পাশে রয়েছে নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠ। প্রতি ঈদে এই মাঠে প্রায় বাইশ থেকে চব্বিশটি জামাতে নামাজ আদায় করা হয়। জানা যায়, পাল বংশের শাসনামলে ধর্মপাল রাজারা এই অঞ্চল শাসন করতেন। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেও এলাকাটি retains একটি ধর্মীয় গুরুত্ব ও মর্যাদা।
মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকার সচেতন মহল সকলের সহযোগিতায় একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক মাদ্রাসা বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখছে, যেখানে গরিব ও এতিম ছাত্ররা আরও ভালোভাবে ইসলামি শিক্ষায় নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে।
প্রতিবেদকের নাম 


























