Dhaka ০৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কুড়িগ্রামে আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন: মাদরাসা শিক্ষক আটক নরসিংদীর রায়পুরায় ১৮টি জাল ৫০ টাকার নোটসহ ইমন গ্রেপ্তার মেসের কক্ষে মিলল নার্সিং ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত কক্সবাজারের রামুতে আগামীকাল ‘ওয়াক ফর জাস্টিস, এগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ পদযাত্রা কুড়িগ্রামে সাংবাদিক জুবায়েরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের আইনের আওতার দাবি সুনামগঞ্জে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর অবমাননার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ ও শাস্তির দাবি বগুড়ার শাজাহানপুরে নদী থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার ২০ হাজার অবৈধ অটোরিকশার দখলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, প্রশাসনিক ঠেলাঠেলিতে স্থবির জনজীবন

রামুতে কাভার্ড ভ্যান-সিএনজি সংঘর্ষে উখিয়ার দুই বোনসহ নিহত ৩

63 / 100 SEO Score
print news

কক্সবাজারের রামু উপজেলার মধ্যম খুনিয়াপালং এলাকায় একটি দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আপন দুই বোনসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আদালতের একটি পারিবারিক কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।

এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক নিয়ম না মানার কারণে এই ধরনের দুর্ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুই নারী কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা এবং তাঁরা সম্পর্কে আপন দুই বোন। পারিবারিক একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাঁরা উখিয়া থেকে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতে এসেছিলেন। কাজ শেষ করে বিকেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে তাঁরা নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন।

পথিমধ্যে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের রামু উপজেলার মধ্যম খুনিয়াপালং এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সিএনজিটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে।

দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আশপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং হতাহতদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেন। খবর পেয়ে রামু থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।

 

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুই বোনসহ তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিহত দুই বোন হলেন—উখিয়া উপজেলার হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা। আদালতের একটি পারিবারিক নথিপত্র সংক্রান্ত কাজ শেষ করে সিএনজিতে করে তাঁরা উখিয়ায় নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। অপর নিহত ব্যক্তি ওই অটোরিকশার চালক অথবা অন্য কোনো যাত্রী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তৃতীয় ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশ ও পিবিআই টিম কাজ করছে।

 

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রামু থানা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজিটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মরদেহ বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পলাতক কাভার্ড ভ্যানচালককে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে দূরপাল্লার ভারী যানবাহনগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। বিশেষ করে কচ্ছপ গতির থ্রি-হুইলার এবং দ্রুতগতির ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যানের এই প্রতিযোগিতা প্রায়ই প্রাণঘাতী রূপ নিচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং এবং স্পিডব্রেকার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

কুড়িগ্রামে আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন: মাদরাসা শিক্ষক আটক

রামুতে কাভার্ড ভ্যান-সিএনজি সংঘর্ষে উখিয়ার দুই বোনসহ নিহত ৩

আপডেটের সময়: ০৫:৪৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
63 / 100 SEO Score
print news

কক্সবাজারের রামু উপজেলার মধ্যম খুনিয়াপালং এলাকায় একটি দ্রুতগামী কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আপন দুই বোনসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। আদালতের একটি পারিবারিক কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।

এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক নিয়ম না মানার কারণে এই ধরনের দুর্ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুই নারী কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা এবং তাঁরা সম্পর্কে আপন দুই বোন। পারিবারিক একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাঁরা উখিয়া থেকে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতে এসেছিলেন। কাজ শেষ করে বিকেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে তাঁরা নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন।

পথিমধ্যে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের রামু উপজেলার মধ্যম খুনিয়াপালং এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে সিএনজিটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে।

দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আশপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং হতাহতদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেন। খবর পেয়ে রামু থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।

 

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুই বোনসহ তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিহত দুই বোন হলেন—উখিয়া উপজেলার হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা। আদালতের একটি পারিবারিক নথিপত্র সংক্রান্ত কাজ শেষ করে সিএনজিতে করে তাঁরা উখিয়ায় নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। অপর নিহত ব্যক্তি ওই অটোরিকশার চালক অথবা অন্য কোনো যাত্রী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তৃতীয় ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশ ও পিবিআই টিম কাজ করছে।

 

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রামু থানা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজিটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মরদেহ বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পলাতক কাভার্ড ভ্যানচালককে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে দূরপাল্লার ভারী যানবাহনগুলো বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। বিশেষ করে কচ্ছপ গতির থ্রি-হুইলার এবং দ্রুতগতির ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যানের এই প্রতিযোগিতা প্রায়ই প্রাণঘাতী রূপ নিচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং এবং স্পিডব্রেকার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।