Dhaka ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

শান্তিগঞ্জের আলম-পুরে প্রভাবশালীদের দাপটে চলছে মাটি চুরি : প্রশাসনের নীরব ভূমিকা

print news

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে ফসলি জমির মাটি লুটের মহোৎসব শুরু হয়েছে। এলাকার প্রভাবশালী চক্রের নেতৃত্বে গাইল্লার হাওরের উ র্বর কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে নির্বিচারে কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন হাওরের কৃষি অর্থনীতি হুমকিতে পড়ছে, অন্যদিকে ভারী ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আলমপুর সংলগ্ন গাইল্লার হাওরে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ফসলি জমিজুড়ে একাধিক এস্কেভেটর দিয়ে বড় বড় গর্ত করে মাটি তোলা হচ্ছে। দিন-রাত সমানতালে চলছে এই মাটি কাটার কাজ। সারি সারি ড্রাম ট্রাক এই মাটি নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তিগত বসতবাড়ি ও রাস্তা ভরাটের কাজে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার প্রভাবশালী সাবেক মেম্বার সাইদুল ইসলাম ও কালাম মিয়ার সরাসরি নেতৃত্বে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

মাটি কাটার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় কৃষকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক জানান, ফসলি জমির সবচেয়ে উর্বর অংশ হলো এর উপরিভাগের কয়েক ইঞ্চি মাটি (টপ সয়েল)। এই মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া গভীর গর্ত করে মাটি তোলায় পাশের জমিগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রভাবশালীদের ভয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে না পারলেও কৃষকদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। একজন কৃষক আর্তনাদ করে বলেন, “হাওরের বুক এভাবে চিরে ফেললে আগামীতে আবাদ করার মতো জমি থাকবে না। আমরা প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ চাই।”

দেশের প্রচলিত ‘বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী, কৃষিজমি থেকে বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা প্রভাব খাটিয়ে এই চক্রটি নিয়মিত হাওরের পরিবেশ ধ্বংস করছে। মাটির ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামের নবনির্মিত রাস্তাগুলোও ধসে যাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা তুজ-জোহরা বলেন, “ফসলি জমির টপ সয়েল কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। আলমপুর গ্রামে মাটি কাটার বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। যারা এই ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িত, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল জরিমানা নয়, বরং এস্কেভেটর জব্দসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক জেল-জরিমানা নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শান্তিগঞ্জের কৃষি অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

শান্তিগঞ্জের আলম-পুরে প্রভাবশালীদের দাপটে চলছে মাটি চুরি : প্রশাসনের নীরব ভূমিকা

আপডেটের সময়: ০৮:৫২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
print news

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে ফসলি জমির মাটি লুটের মহোৎসব শুরু হয়েছে। এলাকার প্রভাবশালী চক্রের নেতৃত্বে গাইল্লার হাওরের উ র্বর কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে নির্বিচারে কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন হাওরের কৃষি অর্থনীতি হুমকিতে পড়ছে, অন্যদিকে ভারী ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আলমপুর সংলগ্ন গাইল্লার হাওরে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ফসলি জমিজুড়ে একাধিক এস্কেভেটর দিয়ে বড় বড় গর্ত করে মাটি তোলা হচ্ছে। দিন-রাত সমানতালে চলছে এই মাটি কাটার কাজ। সারি সারি ড্রাম ট্রাক এই মাটি নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ব্যক্তিগত বসতবাড়ি ও রাস্তা ভরাটের কাজে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার প্রভাবশালী সাবেক মেম্বার সাইদুল ইসলাম ও কালাম মিয়ার সরাসরি নেতৃত্বে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

মাটি কাটার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় কৃষকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক জানান, ফসলি জমির সবচেয়ে উর্বর অংশ হলো এর উপরিভাগের কয়েক ইঞ্চি মাটি (টপ সয়েল)। এই মাটি কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া গভীর গর্ত করে মাটি তোলায় পাশের জমিগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রভাবশালীদের ভয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে না পারলেও কৃষকদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। একজন কৃষক আর্তনাদ করে বলেন, “হাওরের বুক এভাবে চিরে ফেললে আগামীতে আবাদ করার মতো জমি থাকবে না। আমরা প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ চাই।”

দেশের প্রচলিত ‘বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী, কৃষিজমি থেকে বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা প্রভাব খাটিয়ে এই চক্রটি নিয়মিত হাওরের পরিবেশ ধ্বংস করছে। মাটির ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামের নবনির্মিত রাস্তাগুলোও ধসে যাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা তুজ-জোহরা বলেন, “ফসলি জমির টপ সয়েল কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। আলমপুর গ্রামে মাটি কাটার বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। যারা এই ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িত, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল জরিমানা নয়, বরং এস্কেভেটর জব্দসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক জেল-জরিমানা নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শান্তিগঞ্জের কৃষি অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।