
মা চলো আমার সাথে… তোমার জন্য ভালো খাবার রান্না করেছি।”নরসিংদী সদরের ৬৫ বছর বয়সী মা জয় মালা হয়তো এই কথাটি শুনে খুশিতে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলেন। বৃদ্ধ বয়সে ছেলের মুখে এমন আদরের ডাক শুনলে কোন মায়ের মন না গলে? নিজের গর্ভধারিণী মা-কে ভালো খাবারের লোভ দেখিয়ে ছেলে মোশাররফ নিয়ে গেল তার শ্বশুরবাড়িতে। মা হয়তো ভেবেছিলেন, ছেলে বড় হয়েছে, আজ তাকে আদর করে খাওয়াবে।
কিন্তু মা জানতেন না, সেই খাবারের নিমন্ত্রণ ছিল আসলে তার মৃ-ত্যু-পুরীর দাওয়াত!
শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পরই শুরু হলো আসল রূপ। ছেলে, পুত্রবধূ আর শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে ঘিরে ধরল অসহায় বৃদ্ধাকে। দাবি একটাই— “৯ ডিসিম সম্পত্তি লিখে দাও।” মা হয়তো অবাক হয়ে ছেলের চোখের দিকে তাকিয়েছিলেন, যে চোখ দিয়ে একদিন তিনি পৃথিবী দেখেছিলেন। কিন্তু সম্পত্তি আর লোভের নেশায় সেই ছেলের চোখ তখন অন্ধ।
সম্পত্তি লিখে দেননি বলে সেই পি-শা-চ ছেলে আর তার সহযোগীরা মিলে নিজের মায়ের গলা টি-পে ধরল।
যে মা একসময় মুখে খাবার তুলে দিতেন, সেই মায়েরই নিশ্বাস ব-ন্ধ করে দিল জন্মদাতা সন্তান! সম্পত্তির দলিল কি শেষ পর্যন্ত মায়ের জীবনের চেয়েও দামী হলো?
খাবারের তৃপ্তি পেতে আসা মা আজ কবরের মাটির নিচে শান্ত হয়ে শুয়ে আছেন। তার অ-পরাধ ছিল তিনি মা ছিলেন, তার অপরাধ ছিল তিনি বিশ্বাস করেছিলেন নিজের সন্তানকে।
ধি-ক্কা-র জানাই এই সমাজকে, ধি-ক্কা-র জানাই এমন কু-লা-ঙ্গার সন্তানকে! নরসিংদীর এই ঘটনার পর আজ প্রতিটি মায়ের আকাশ ডুকরে কাঁ-দ-ছে। এই পাষণ্ড মোশাররফ আর তার সহযোগীদের এমন শা/স্তি হোক যা দেখে পৃথিবীর আর কোনো সন্তান যেন তার মায়ের দিকে চোখ রাঙিয়ে তাকানোর সাহস না পায়।
মোস্তফা মিয়া–নরসিংদী সদর প্রতিনিধি 

























