
আল আমিন–নরসিংদী◼️
নরসিংদী সিটি হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলার জেরে মোসা: লিমা আক্তার (২৮) নামের এক প্রসূতির পেটে রয়ে গেছে ১৮ ইঞ্চি দীর্ঘ রক্ত পরিস্কারের ‘মব’ কাপড়। অস্ত্রোপচারের পর সেই কাপড় রেখেই সেলাই করা হয় পেট, যার জেরে বর্তমানে ওই নারী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর নরসিংদী সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর ভাই। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
ভুক্তভোগী লিমা আক্তার শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের দত্তেরগাঁও মির্জাকান্দি এলাকার রহিম মিয়ার স্ত্রী। প্রসব ব্যথা শুরু হলে গত ১৭ জুন তাকে ভর্তি করা হয় নরসিংদী পৌর এলাকার বাসাইল এলাকার সিটি হাসপাতালে। সেদিন বিকেলে চিকিৎসক শিউলি আক্তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন এবং তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
তবে হাসপাতাল থেকে ২১ জুন ছাড়পত্র পাওয়ার পর থেকেই শুরু হয় জটিলতা। পেটে তীব্র ব্যথা, ইনফেকশন এবং ফুলে যাওয়াসহ নানা উপসর্গ দেখা দিলে ভুক্তভোগীর পরিবার সিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রথমে তাদের বলা হয় সবকিছু স্বাভাবিক। পরবর্তীতে নরসিংদীর অন্য একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
ঢাকায় নেওয়ার পর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যায়, রোগীর পেটে রয়ে গেছে সিজারের সময় ব্যবহৃত রক্ত পরিস্কারের ‘মব’ কাপড়। এরপর ৩ জুলাই রাতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ.এইচ.এম. শাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করে কাপড়টি বের করা হয়।
ভুক্তভোগীর বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, “চিকিৎসকের ভুলের কারণে আমার বোনের পেটে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে। সে প্রতিনিয়ত ব্যথায় কাতরাচ্ছে। এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি।
নরসিংদী সিভিল সার্জনের দপ্তর জানিয়েছে, এ ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা জেলার স্বাস্থ্যখাতের দায়িত্বশীলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















