Dhaka ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত কক্সবাজারের রামুতে আগামীকাল ‘ওয়াক ফর জাস্টিস, এগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ পদযাত্রা কুড়িগ্রামে সাংবাদিক জুবায়েরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের আইনের আওতার দাবি সুনামগঞ্জে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর অবমাননার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ ও শাস্তির দাবি বগুড়ার শাজাহানপুরে নদী থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার ২০ হাজার অবৈধ অটোরিকশার দখলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, প্রশাসনিক ঠেলাঠেলিতে স্থবির জনজীবন নওগাঁর রাণীনগরে নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত: শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সংবর্ধনা খুলনার দাকোপে প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত নরসিংদীতে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

নাগরিক সেবাবঞ্চিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া: যানজট, মাদক ও চাঁদাবাজিতে স্থবির জনজীবন

56 / 100 SEO Score
print news

ছোট্ট একটি জেলা শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তবে এই শহরের সমস্যা ও ভোগান্তির তালিকা যেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চরম বিশৃঙ্খলা, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ, লাগামহীন যানজট থেকে শুরু করে ফুটপাত দখল এবং হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসায় অনিয়ম—সব মিলিয়ে শহরজুড়ে এক বিষাদময় পরিবেশ বিরাজ করছে। ওপর দিয়ে শহরটি সচল মনে হলেও ভেতরে ভেতরে নাগরিক সুবিধা ও সুশাসনের কঙ্কালসার রূপ স্পষ্ট ফুটে উঠছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, শহরের অলিগলিতে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে চলছে মাদকের কারবার। কালো টাকার দাপটে অবৈধভাবে পুকুর ও ফসলি জমি ভরাট এবং সরকারি খাস জমি দখলের মহোৎসব চলছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট, অবৈধ পরিবহন থেকে মাসোহারা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, দালালি এবং ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এসব সমস্যার সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান বা কার্যকর পদক্ষেপ কারো মাঝেই চোখে পড়ে না।

শহরের হাজারও অনিয়ম আর প্রশাসনিক ব্যর্থতার মূল ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিক। প্রভাবশালী, অঢেল সম্পদের মালিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতাবানদের জন্য যেন কোনো আইন বা ভোগান্তি নেই; আইন প্রয়োগের কঠোরতা কেবল সাধারণ মানুষের বেলাতেই দৃশ্যমান।

এদিকে এসব সমস্যা ও ভোগান্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে কথা বলতে গেলে মিলে কেবল দায় এড়ানোর অজুহাত। এক দপ্তর অন্য দপ্তরের ওপর দোষ চাপিয়ে পার পেতে চায়। উল্টো অনেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নিয়মবহির্ভূত দাবিদাওয়া পূরণ না করলে পদে পদে হুমকি ও বদলির মুখোমুখি হতে হয়।

দেশের সংবিধানে ও প্রচলিত আইনি কাঠামোয় নাগরিক সেবা ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এর যথাযথ প্রয়োগ দেখা যায় না। ফলে দিন দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরটি যেন পুরোপুরি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ছে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উচ্চপদে থাকা ব্যক্তিত্বদের মধ্যে কেউ কি শক্ত হাতে এসব সমস্যার লাগাম টানবেন না? নাগরিকদের সচেতন করে একটি বাসযোগ্য ও নিরাপদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ে তুলতে কে এগিয়ে আসবে—এই প্রশ্নই এখন জেলার প্রতিটি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

নাগরিক সেবাবঞ্চিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া: যানজট, মাদক ও চাঁদাবাজিতে স্থবির জনজীবন

আপডেটের সময়: ০৩:৩১:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
56 / 100 SEO Score
print news

ছোট্ট একটি জেলা শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তবে এই শহরের সমস্যা ও ভোগান্তির তালিকা যেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চরম বিশৃঙ্খলা, ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ, লাগামহীন যানজট থেকে শুরু করে ফুটপাত দখল এবং হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসায় অনিয়ম—সব মিলিয়ে শহরজুড়ে এক বিষাদময় পরিবেশ বিরাজ করছে। ওপর দিয়ে শহরটি সচল মনে হলেও ভেতরে ভেতরে নাগরিক সুবিধা ও সুশাসনের কঙ্কালসার রূপ স্পষ্ট ফুটে উঠছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, শহরের অলিগলিতে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে চলছে মাদকের কারবার। কালো টাকার দাপটে অবৈধভাবে পুকুর ও ফসলি জমি ভরাট এবং সরকারি খাস জমি দখলের মহোৎসব চলছে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট, অবৈধ পরিবহন থেকে মাসোহারা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, দালালি এবং ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এসব সমস্যার সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান বা কার্যকর পদক্ষেপ কারো মাঝেই চোখে পড়ে না।

শহরের হাজারও অনিয়ম আর প্রশাসনিক ব্যর্থতার মূল ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিক। প্রভাবশালী, অঢেল সম্পদের মালিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতাবানদের জন্য যেন কোনো আইন বা ভোগান্তি নেই; আইন প্রয়োগের কঠোরতা কেবল সাধারণ মানুষের বেলাতেই দৃশ্যমান।

এদিকে এসব সমস্যা ও ভোগান্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে কথা বলতে গেলে মিলে কেবল দায় এড়ানোর অজুহাত। এক দপ্তর অন্য দপ্তরের ওপর দোষ চাপিয়ে পার পেতে চায়। উল্টো অনেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নিয়মবহির্ভূত দাবিদাওয়া পূরণ না করলে পদে পদে হুমকি ও বদলির মুখোমুখি হতে হয়।

দেশের সংবিধানে ও প্রচলিত আইনি কাঠামোয় নাগরিক সেবা ও শৃঙ্খলা রক্ষার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে এর যথাযথ প্রয়োগ দেখা যায় না। ফলে দিন দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরটি যেন পুরোপুরি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ছে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উচ্চপদে থাকা ব্যক্তিত্বদের মধ্যে কেউ কি শক্ত হাতে এসব সমস্যার লাগাম টানবেন না? নাগরিকদের সচেতন করে একটি বাসযোগ্য ও নিরাপদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ে তুলতে কে এগিয়ে আসবে—এই প্রশ্নই এখন জেলার প্রতিটি সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।