Dhaka ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত কক্সবাজারের রামুতে আগামীকাল ‘ওয়াক ফর জাস্টিস, এগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ পদযাত্রা কুড়িগ্রামে সাংবাদিক জুবায়েরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের আইনের আওতার দাবি সুনামগঞ্জে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর অবমাননার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ ও শাস্তির দাবি বগুড়ার শাজাহানপুরে নদী থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার ২০ হাজার অবৈধ অটোরিকশার দখলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, প্রশাসনিক ঠেলাঠেলিতে স্থবির জনজীবন নওগাঁর রাণীনগরে নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত: শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সংবর্ধনা খুলনার দাকোপে প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত নরসিংদীতে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

স্ত্রীর ষড়যন্ত্রে অতিষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা: টাকা, মামলা আর অপবাদে ভাঙছে জীবন

print news

খাইরুল ইসলাম–ডেস্ক রিপোর্ট◼️

 

একটি শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক জীবন চেয়েছিলেন সরকারি কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন। কিন্তু বিয়ের পর থেকে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলার কাইটাল ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমিকে ২০২০ সালে বিয়ে করেন তিনি। দেনমোহর নির্ধারিত হয় ১৫ লক্ষ টাকা। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় টানাপোড়েন।

বোরহানের অভিযোগ, সুমি বিয়ের পর থেকেই দেনমোহরের টাকা চেয়ে নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। সংসার করতে না চাওয়ার পাশাপাশি সন্তান নিতেও অনীহা দেখান তিনি। পরিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও, সম্পর্কের অবনতি ঘটে। অবশেষে ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের সময় সুমি বাসা ছেড়ে চলে যান।

বোরহান জানান, বহু চেষ্টা করেও সুমিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি ডিভোর্স দেন। কিন্তু ডিভোর্সের পরপরই সুমি তার বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি চলমান থাকলেও আদালত দেনমোহরের টাকা কিস্তিতে পরিশোধের আদেশ দেন।

তবে সুমি এতে সন্তুষ্ট নন। বরং তিনি বোরহানের বিরুদ্ধে এসিড নিক্ষেপের মিথ্যা অভিযোগ আনার চেষ্টা করেন। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় সেটি এজাহারভুক্ত হয়নি।

এছাড়া আরও একটি অভিযোগ ১৮ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে দায়ের করেন সুমি, যা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় ফাইনাল রিপোর্ট দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খলিল।

ভুক্তভোগী বোরহান জানান, সুমি ও তার ভাই তার ব্যবহৃত সুজুকি মোটরসাইকেল (নম্বর: ময়মনসিংহ-ল ১১-৬৫০১) জোরপূর্বক আটকে রেখেছেন এবং তা ফেরত দিচ্ছেন না। থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো কোনো প্রতিকার মেলেনি।

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সুমির রাজনৈতিক পরিচিতি। জানা গেছে, তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ এবং তার ভাই ছিলেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এছাড়া ময়মনসিংহের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গেও সুমির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে।

ঘটনার আরও বিস্ময়কর দিক হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বোরহানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এক ভুয়া পরিচয়ধারী ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে বোরহানের নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি এর আগে মাদকের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ভুক্তভোগী দাবি করেন, এই ভুয়া সাংবাদিক সুমির পক্ষে কাজ করছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার মানহানি করার চেষ্টা করছে।

এতসব ঘটনার পর বোরহান প্রশ্ন রেখেছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি মিথ্যা মামলায় এমনভাবে হয়রানির শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

তিনি উচ্চ আদালতের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। সেইসাথে এই ধরনের প্রতারণামূলক বিয়ে এবং পরবর্তী অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে।

একটি বিয়ে, একটি সম্পর্ক, একটি জীবন—সবই যেন আজ ধ্বংসের পথে। বোরহানের জীবন এই সমাজের অনেক পুরুষের চোখে সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তিনি কি আদৌ ন্যায়বিচার পাবেন, নাকি মিথ্যার জালে আরও জড়িয়ে পড়বেন?

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

স্ত্রীর ষড়যন্ত্রে অতিষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা: টাকা, মামলা আর অপবাদে ভাঙছে জীবন

আপডেটের সময়: ১০:১৩:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
print news

খাইরুল ইসলাম–ডেস্ক রিপোর্ট◼️

 

একটি শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক জীবন চেয়েছিলেন সরকারি কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন। কিন্তু বিয়ের পর থেকে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলার কাইটাল ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমিকে ২০২০ সালে বিয়ে করেন তিনি। দেনমোহর নির্ধারিত হয় ১৫ লক্ষ টাকা। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় টানাপোড়েন।

বোরহানের অভিযোগ, সুমি বিয়ের পর থেকেই দেনমোহরের টাকা চেয়ে নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। সংসার করতে না চাওয়ার পাশাপাশি সন্তান নিতেও অনীহা দেখান তিনি। পরিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও, সম্পর্কের অবনতি ঘটে। অবশেষে ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের সময় সুমি বাসা ছেড়ে চলে যান।

বোরহান জানান, বহু চেষ্টা করেও সুমিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি ডিভোর্স দেন। কিন্তু ডিভোর্সের পরপরই সুমি তার বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি চলমান থাকলেও আদালত দেনমোহরের টাকা কিস্তিতে পরিশোধের আদেশ দেন।

তবে সুমি এতে সন্তুষ্ট নন। বরং তিনি বোরহানের বিরুদ্ধে এসিড নিক্ষেপের মিথ্যা অভিযোগ আনার চেষ্টা করেন। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় সেটি এজাহারভুক্ত হয়নি।

এছাড়া আরও একটি অভিযোগ ১৮ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে দায়ের করেন সুমি, যা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় ফাইনাল রিপোর্ট দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খলিল।

ভুক্তভোগী বোরহান জানান, সুমি ও তার ভাই তার ব্যবহৃত সুজুকি মোটরসাইকেল (নম্বর: ময়মনসিংহ-ল ১১-৬৫০১) জোরপূর্বক আটকে রেখেছেন এবং তা ফেরত দিচ্ছেন না। থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো কোনো প্রতিকার মেলেনি।

ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সুমির রাজনৈতিক পরিচিতি। জানা গেছে, তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ এবং তার ভাই ছিলেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এছাড়া ময়মনসিংহের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গেও সুমির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের তথ্য পাওয়া গেছে।

ঘটনার আরও বিস্ময়কর দিক হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বোরহানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এক ভুয়া পরিচয়ধারী ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে বোরহানের নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি এর আগে মাদকের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ভুক্তভোগী দাবি করেন, এই ভুয়া সাংবাদিক সুমির পক্ষে কাজ করছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার মানহানি করার চেষ্টা করছে।

এতসব ঘটনার পর বোরহান প্রশ্ন রেখেছেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি মিথ্যা মামলায় এমনভাবে হয়রানির শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

তিনি উচ্চ আদালতের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। সেইসাথে এই ধরনের প্রতারণামূলক বিয়ে এবং পরবর্তী অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে।

একটি বিয়ে, একটি সম্পর্ক, একটি জীবন—সবই যেন আজ ধ্বংসের পথে। বোরহানের জীবন এই সমাজের অনেক পুরুষের চোখে সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, তিনি কি আদৌ ন্যায়বিচার পাবেন, নাকি মিথ্যার জালে আরও জড়িয়ে পড়বেন?