
ডেস্ক রিপোর্ট◼️
রংপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাইকোর্টের রায় ও শিক্ষা বোর্ডের সুস্পষ্ট মতামতের পরও, ২০০১ সালে ভুয়া যোগ্যতায় নিয়োগ পাওয়া এবং পরে বরখাস্ত হওয়া আলতাফ হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আবারও চাকরিতে পুনঃনিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
আলতাফ হোসেন ২০০১ সালে এসএসসিতে তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে যোগ দেন। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে তার কোনো নিয়োগপত্র, যোগদানের প্রমাণ বা নথিপত্র পাওয়া যায়নি। এমনকি তিনি ২০১২ সালে ডিপ্লোমা অর্জন করলেও তা পূর্বের চাকরির বৈধতা প্রমাণ করে না—এমন মতামত দিয়েছে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি।
২০১২ সালে বরখাস্তের পর একই পদে কেকা সরকার নামের একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু আলতাফ হোসেন একাধিকবার মামলা করে হেরে যান। রিট পিটিশন নং ১০২৩৬/২০১৯-এও হাইকোর্ট তার আবেদন খারিজ করে।
তারপরও ২১ মে ২০২৫ সালে একটি গভর্নিং বডি সভায় হঠাৎ করেই তার বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করে বকেয়া ভাতা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অথচ উক্ত সভায় কোন আদালতের রায় বা আদেশের উল্লেখ ছিল না, ছিল না বিধিমালার ব্যাখ্যাও।
এই সিদ্ধান্তে অংশ নেয়া অধিকাংশ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কোঅর্ডিনেটর, যিনি পরিচালনা কমিটির সদস্য নন, তাকেও এ সভায় সক্রিয়ভাবে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই অনিয়মে জড়িত, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি—হাইকোর্টের রায় উপেক্ষা করে এ ধরনের অনৈতিক ও বেআইনি সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তারা দুর্নীতি দমন কমিশনের দ্রুত তদন্ত দাবি করেছেন।
সংক্ষিপ্তভাবে মূল অভিযোগসমূহ:
আলতাফ হোসেন ২০০১ সালে যোগদানের সময় প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করেননি।
তার কোনো নিয়োগ বা যোগদানের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
হাইকোর্ট তার নিয়োগ বৈধতা খারিজ করেছে।
তারপরও তাকে পুনঃনিয়োগের জন্য নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও কিছু প্রশাসনিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়িত্বচ্যুতির অভিযোগ উঠেছে।
সুধীজন মনে করছেন, একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদকের নাম 




















