Dhaka ১০:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কুড়িগ্রামে আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন: মাদরাসা শিক্ষক আটক নরসিংদীর রায়পুরায় ১৮টি জাল ৫০ টাকার নোটসহ ইমন গ্রেপ্তার মেসের কক্ষে মিলল নার্সিং ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত কক্সবাজারের রামুতে আগামীকাল ‘ওয়াক ফর জাস্টিস, এগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ পদযাত্রা কুড়িগ্রামে সাংবাদিক জুবায়েরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের আইনের আওতার দাবি সুনামগঞ্জে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর অবমাননার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ ও শাস্তির দাবি বগুড়ার শাজাহানপুরে নদী থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার ২০ হাজার অবৈধ অটোরিকশার দখলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, প্রশাসনিক ঠেলাঠেলিতে স্থবির জনজীবন

২০ হাজার অবৈধ অটোরিকশার দখলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, প্রশাসনিক ঠেলাঠেলিতে স্থবির জনজীবন

59 / 100 SEO Score
print news

তীব্র যানজট, হর্নের কানফাটা শব্দ আর চরম জনদুর্ভোগে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহর। অভিযোগ উঠেছে, ট্রাফিক বিভাগের অনিয়ম এবং পৌরসভার উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে শহরজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রায় ২০ হাজার অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক)। তবে এই নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণের প্রকৃত দায়িত্ব কার—প্রশাসনের পারস্পরিক দায় এড়ানোর খেলায় সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ইজিবাইক চালকদের সূত্রে জানা যায়, শহরজুড়ে প্রায় ২০ হাজার ইজিবাইক চলাচল করলেও এর একটিরও বৈধ লাইসেন্স নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অটোরিকশা ব্যবসায়ী জানান, ট্রাফিক বিভাগকে নির্দিষ্ট অঙ্কের মাসিক মাসোহারা দিয়েই এসব অবৈধ যান চালানো হচ্ছে। যাদের একাধিক গাড়ি রয়েছে, তারা সরাসরি ট্রাফিক বিভাগে মাস পৌঁছে দেন। বিনিময়ে সড়কে নির্বিঘ্নে গাড়ি চলাচলের সুযোগ মেলে।

শহরের কাউতলী, কুমারশীল মোড়, মেড্ডা, পৈরতলা, কালিবাড়ি মোড় ও হাসপাতাল মোড়—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দিনভর লেগেই থাকছে তীব্র যানজট। সামান্য ২০০ থেকে ৩০০ মিটার রাস্তা পার হতেই ৩০ মিনিটের বেশি সময় অপচয় হচ্ছে। ছুটির দিনগুলোতে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

এদিকে অতিরিক্ত ইজিবাইকের কারণে শহরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছে সচেতন মহল। প্রতিদিন হাজার হাজার ব্যাটারি চার্জ করতে গিয়ে বিদ্যুতের একটি বড় অংশ খরচ হচ্ছে, যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বর্তমান বিদ্যুৎ ঘাটতিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পৌর কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। পৌরসভার প্রশাসক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ২০২২ সালের পর পৌরসভা থেকে কোনো ইজিবাইকের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। শহরের বাকি সব গাড়ি সম্পূর্ণ অবৈধ ও নকল নেমপ্লেট ব্যবহার করছে। ট্রাফিক বিভাগ বাধা না দিলে একটি অবৈধ গাড়িও শহরে নামতে পারে না উল্লেখ করে তিনি ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন।

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ট্রাফিক ইনচার্জ সোহরাব হোসেন বলেন, “অটোরিকশার লাইসেন্স চেক করা বা নিয়ন্ত্রণ করা ট্রাফিক পুলিশের কাজ নয়। পৌরসভা অভিযান পরিচালনা করলে ট্রাফিক পুলিশ কেবল সহযোগিতা করবে।” ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।

প্রশাসনের এমন দায়িত্বশীলদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে চরম ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক আবু সাইদ জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে এবং খুব দ্রুত সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথমে লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে কঠোর অভিযানে নামবে প্রশাসন।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

কুড়িগ্রামে আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন: মাদরাসা শিক্ষক আটক

২০ হাজার অবৈধ অটোরিকশার দখলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, প্রশাসনিক ঠেলাঠেলিতে স্থবির জনজীবন

আপডেটের সময়: ০৭:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
59 / 100 SEO Score
print news

তীব্র যানজট, হর্নের কানফাটা শব্দ আর চরম জনদুর্ভোগে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহর। অভিযোগ উঠেছে, ট্রাফিক বিভাগের অনিয়ম এবং পৌরসভার উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে শহরজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে প্রায় ২০ হাজার অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক)। তবে এই নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণের প্রকৃত দায়িত্ব কার—প্রশাসনের পারস্পরিক দায় এড়ানোর খেলায় সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ইজিবাইক চালকদের সূত্রে জানা যায়, শহরজুড়ে প্রায় ২০ হাজার ইজিবাইক চলাচল করলেও এর একটিরও বৈধ লাইসেন্স নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অটোরিকশা ব্যবসায়ী জানান, ট্রাফিক বিভাগকে নির্দিষ্ট অঙ্কের মাসিক মাসোহারা দিয়েই এসব অবৈধ যান চালানো হচ্ছে। যাদের একাধিক গাড়ি রয়েছে, তারা সরাসরি ট্রাফিক বিভাগে মাস পৌঁছে দেন। বিনিময়ে সড়কে নির্বিঘ্নে গাড়ি চলাচলের সুযোগ মেলে।

শহরের কাউতলী, কুমারশীল মোড়, মেড্ডা, পৈরতলা, কালিবাড়ি মোড় ও হাসপাতাল মোড়—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দিনভর লেগেই থাকছে তীব্র যানজট। সামান্য ২০০ থেকে ৩০০ মিটার রাস্তা পার হতেই ৩০ মিনিটের বেশি সময় অপচয় হচ্ছে। ছুটির দিনগুলোতে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

এদিকে অতিরিক্ত ইজিবাইকের কারণে শহরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছে সচেতন মহল। প্রতিদিন হাজার হাজার ব্যাটারি চার্জ করতে গিয়ে বিদ্যুতের একটি বড় অংশ খরচ হচ্ছে, যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বর্তমান বিদ্যুৎ ঘাটতিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পৌর কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। পৌরসভার প্রশাসক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ২০২২ সালের পর পৌরসভা থেকে কোনো ইজিবাইকের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। শহরের বাকি সব গাড়ি সম্পূর্ণ অবৈধ ও নকল নেমপ্লেট ব্যবহার করছে। ট্রাফিক বিভাগ বাধা না দিলে একটি অবৈধ গাড়িও শহরে নামতে পারে না উল্লেখ করে তিনি ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন।

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ট্রাফিক ইনচার্জ সোহরাব হোসেন বলেন, “অটোরিকশার লাইসেন্স চেক করা বা নিয়ন্ত্রণ করা ট্রাফিক পুলিশের কাজ নয়। পৌরসভা অভিযান পরিচালনা করলে ট্রাফিক পুলিশ কেবল সহযোগিতা করবে।” ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।

প্রশাসনের এমন দায়িত্বশীলদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে চরম ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক আবু সাইদ জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা সভায় আলোচনা হয়েছে এবং খুব দ্রুত সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথমে লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে কঠোর অভিযানে নামবে প্রশাসন।