Dhaka ০৩:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কুড়িগ্রামে আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন: মাদরাসা শিক্ষক আটক নরসিংদীর রায়পুরায় ১৮টি জাল ৫০ টাকার নোটসহ ইমন গ্রেপ্তার মেসের কক্ষে মিলল নার্সিং ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত কক্সবাজারের রামুতে আগামীকাল ‘ওয়াক ফর জাস্টিস, এগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ পদযাত্রা কুড়িগ্রামে সাংবাদিক জুবায়েরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের আইনের আওতার দাবি সুনামগঞ্জে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর অবমাননার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ ও শাস্তির দাবি বগুড়ার শাজাহানপুরে নদী থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার ২০ হাজার অবৈধ অটোরিকশার দখলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, প্রশাসনিক ঠেলাঠেলিতে স্থবির জনজীবন

৩২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩২০ জনের-ই জিপিএ ৫,চমকপ্রদ ফলাফল নাকি সাজানো সাফল্য?

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
  • ৪৯৭ সময় দেখুন
print news

আল-আমিন, নরসিংদী থেকে◼️

 

২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নরসিংদীর নাসিমা কাদির মোল্লা এম কে এম স্কুল অ্যান্ড হোমসের (এনকেএম) ফলাফল ছিল বেশ চমকপ্রদ। প্রতিষ্ঠানটির ৩২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এমন ফলাফল অভিভাবকদের একাংশের কাছে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে—তারা বলছেন, এটি প্রকৃত অর্জনের চেয়ে “ব্যবসায়িক সাফল্য”।

স্থানীয় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—একটি শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর ফলাফল কি একই মানের হতে পারে? যেখানে প্রত্যেকের দক্ষতা ও সক্ষমতা ভিন্ন, সেখানে শতভাগ শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ ফলাফল প্রাপ্তি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সংশয় তৈরি হয়েছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, নবম শ্রেণিতে যারা রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন, এসএসসি পরীক্ষায় তাদের সবাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। কিছু শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় ফেল দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ‘ছাঁটাই’ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় বলে অভিভাবকদের দাবি, তবে এ ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে ‘নীরব চুক্তি’ হয়।

এই পদ্ধতিকে মানবিকতা ও শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করে একজন অভিভাবক বলেন, “আমার সন্তানকে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করেছিলেন, এখন তাকে ‘মেধাহীন’ আখ্যা দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হলো। এর দায় কে নেবে?

তিনি আরও বলেন, “যে শিক্ষার্থী ১০ বছর ধরে একটি প্রতিষ্ঠানে পড়ল, তার ভবিষ্যৎ কেবল জিপিএ-৫ না পাওয়ার কারণে ধ্বংস করে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মতে, অনেক সাধারণ স্কুলও তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম করিয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করাচ্ছে, যা প্রকৃত শিক্ষার দৃষ্টান্ত। এনকেএম হোমসের ফলাফলকে অনেকে “মেকি রেজাল্ট” বলেও অভিহিত করছেন।

অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, এই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচরে আনার দাবি জানিয়েছেন, যেন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষা নয়, শুধুই ‘ব্যবসা’ হিসেবে না দাঁড়ায়।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

কুড়িগ্রামে আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন: মাদরাসা শিক্ষক আটক

৩২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩২০ জনের-ই জিপিএ ৫,চমকপ্রদ ফলাফল নাকি সাজানো সাফল্য?

আপডেটের সময়: ০৮:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
print news

আল-আমিন, নরসিংদী থেকে◼️

 

২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নরসিংদীর নাসিমা কাদির মোল্লা এম কে এম স্কুল অ্যান্ড হোমসের (এনকেএম) ফলাফল ছিল বেশ চমকপ্রদ। প্রতিষ্ঠানটির ৩২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এমন ফলাফল অভিভাবকদের একাংশের কাছে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে—তারা বলছেন, এটি প্রকৃত অর্জনের চেয়ে “ব্যবসায়িক সাফল্য”।

স্থানীয় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—একটি শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর ফলাফল কি একই মানের হতে পারে? যেখানে প্রত্যেকের দক্ষতা ও সক্ষমতা ভিন্ন, সেখানে শতভাগ শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ ফলাফল প্রাপ্তি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সংশয় তৈরি হয়েছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, নবম শ্রেণিতে যারা রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন, এসএসসি পরীক্ষায় তাদের সবাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। কিছু শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় ফেল দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ‘ছাঁটাই’ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় বলে অভিভাবকদের দাবি, তবে এ ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে ‘নীরব চুক্তি’ হয়।

এই পদ্ধতিকে মানবিকতা ও শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করে একজন অভিভাবক বলেন, “আমার সন্তানকে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করেছিলেন, এখন তাকে ‘মেধাহীন’ আখ্যা দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হলো। এর দায় কে নেবে?

তিনি আরও বলেন, “যে শিক্ষার্থী ১০ বছর ধরে একটি প্রতিষ্ঠানে পড়ল, তার ভবিষ্যৎ কেবল জিপিএ-৫ না পাওয়ার কারণে ধ্বংস করে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মতে, অনেক সাধারণ স্কুলও তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম করিয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করাচ্ছে, যা প্রকৃত শিক্ষার দৃষ্টান্ত। এনকেএম হোমসের ফলাফলকে অনেকে “মেকি রেজাল্ট” বলেও অভিহিত করছেন।

অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, এই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচরে আনার দাবি জানিয়েছেন, যেন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষা নয়, শুধুই ‘ব্যবসা’ হিসেবে না দাঁড়ায়।