Dhaka ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বগুড়ায় বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ বগুড়ায় জলাবদ্ধতার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ নরসিংদীতে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফল করতে কৃষক দলের প্রস্তুতি সভা নরসিংদীতে ২ মাসের নবজাতকের পা ভাঙার অভিযোগ, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল বর্বরতা নরসিংদীর মাদকের আস্তানায় র‍্যাবের অভিযান: অস্ত্র ও ককটেল উদ্ধার সুনামগঞ্জে ২৪ বোতল বিদেশি মদসহ মাদক কারবারি আটক বগুড়ার কাহালুতে জলাবদ্ধতা, জনদুর্ভোগ কমাতে সরাসরি মাঠে ইউএনও বগুড়া শহরে মাদকবিরোধী অভিযান: ১০ মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড নরসিংদীতে টানা বর্ষণে লাখো মানুষ পানিবন্দি, দেয়াল ধসে বৃদ্ধার মৃত্যু কক্সবাজারের রামুতে অস্ত্র ও ডাকাতি মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে ‘নিখোঁজ’ কৌশল: একটি সমসাময়িক পর্যালোচনা

print news

◾মোঃ শাহারিয়ার নাজিম শুভ- ঢাকা

গত এক দশকে বাংলাদেশে ‘নিখোঁজ’ বা কথিত গুমের ঘটনা নিয়ে নানা বিতর্ক ও উদ্বেগ জন্ম নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনাগুলোর বিষয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও সরকার সবসময় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে, তবুও নিখোঁজ হওয়া রাজনীতিবিদ, কর্মী, সাংবাদিক বা ছাত্রনেতাদের পরিবার ও সহকর্মীদের অভিযোগে উঠে এসেছে একটি চিহ্নিত রাজনৈতিক পটভূমি।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে এবং ভয়ের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে এ ধরনের নিখোঁজ ঘটনার আশ্রয় নেওয়া হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই ধরনের অভিযোগের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মী ও আন্দোলনকারী পরিবার অভিযোগ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সশস্ত্র লোকেরা বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে, এরপর আর তাদের হদিস পাওয়া যায়নি।

২০১৩-১৪ সালে রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় একাধিক ছাত্রদল, বিএনপি ও জামায়াতপন্থী নেতাকর্মী নিখোঁজ হয়, যাদের অনেকে এখনও ফেরেনি। কিছু কিছু ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ একাধিকবার বাংলাদেশে জবাবদিহিতার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

তবে এই প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ বলছে, এটি একটি রাজনৈতিক অপপ্রচার। তারা দাবি করে, অনেক ক্ষেত্রেই নিখোঁজদের অন্য কোনো কারণে গা ঢাকা দেওয়া বা অন্য রাষ্ট্রে পলায়নের ঘটনা ঘটেছে।

বিষয়টি নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে একটি আতঙ্ক কাজ করে একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কেউ হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে গেলে পরিবার বিচার কোথায় চাইবে? বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার থাকলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন অনেকাংশেই প্রশ্নবিদ্ধ।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এ ধরনের গুমের ঘটনা তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনা সময়ের দাবি। তা না হলে এই সংস্কৃতি শুধু রাজনীতি নয়, সমাজের সব স্তরে ভয় আর অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে দেবে।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

বগুড়ায় বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে ‘নিখোঁজ’ কৌশল: একটি সমসাময়িক পর্যালোচনা

আপডেটের সময়: ০৩:০২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ মে ২০২৫
print news

◾মোঃ শাহারিয়ার নাজিম শুভ- ঢাকা

গত এক দশকে বাংলাদেশে ‘নিখোঁজ’ বা কথিত গুমের ঘটনা নিয়ে নানা বিতর্ক ও উদ্বেগ জন্ম নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনাগুলোর বিষয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও সরকার সবসময় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে, তবুও নিখোঁজ হওয়া রাজনীতিবিদ, কর্মী, সাংবাদিক বা ছাত্রনেতাদের পরিবার ও সহকর্মীদের অভিযোগে উঠে এসেছে একটি চিহ্নিত রাজনৈতিক পটভূমি।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে এবং ভয়ের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে এ ধরনের নিখোঁজ ঘটনার আশ্রয় নেওয়া হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই ধরনের অভিযোগের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মী ও আন্দোলনকারী পরিবার অভিযোগ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে সশস্ত্র লোকেরা বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে, এরপর আর তাদের হদিস পাওয়া যায়নি।

২০১৩-১৪ সালে রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় একাধিক ছাত্রদল, বিএনপি ও জামায়াতপন্থী নেতাকর্মী নিখোঁজ হয়, যাদের অনেকে এখনও ফেরেনি। কিছু কিছু ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ একাধিকবার বাংলাদেশে জবাবদিহিতার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

তবে এই প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ বলছে, এটি একটি রাজনৈতিক অপপ্রচার। তারা দাবি করে, অনেক ক্ষেত্রেই নিখোঁজদের অন্য কোনো কারণে গা ঢাকা দেওয়া বা অন্য রাষ্ট্রে পলায়নের ঘটনা ঘটেছে।

বিষয়টি নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে একটি আতঙ্ক কাজ করে একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কেউ হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে গেলে পরিবার বিচার কোথায় চাইবে? বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার থাকলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন অনেকাংশেই প্রশ্নবিদ্ধ।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এ ধরনের গুমের ঘটনা তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনা সময়ের দাবি। তা না হলে এই সংস্কৃতি শুধু রাজনীতি নয়, সমাজের সব স্তরে ভয় আর অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে দেবে।