Dhaka ০৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

চন্দ্রগঞ্জে বণিক সমিতির নামে অর্থ আত্মসাৎ,দুর্নীতির অভিযোগে সরব ব্যবসায়ীরা

print news

আরিফুর রহমান তীব্র–লক্ষ্মীপুর সদর◼️

 

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র চন্দ্রগঞ্জ বাজার। দীর্ঘদিন ধরে এ বাজারের ব্যবসায়ীরা দ্বিধাবিভক্ত দুটি বণিক সমিতির অকার্যকারিতায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একাধিক নাম ও পরিচয়ে বিভিন্ন সময় গঠিত এসব সমিতি চাঁদা ও নানা অজুহাতে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করলেও এর কোনো সদ্ব্যবহার বা জবাবদিহিতা নেই।

চন্দ্রগঞ্জ বাজারে বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতাহীন বণিক সমিতি ও বণিক কল্যাণ সমিতির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে বললেই চলে। অথচ, বাজারের প্রাথমিক কাঠামো উন্নয়ন, যানজট নিরসন, সুরক্ষা ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। সামান্য বৃষ্টিতেই জমে যায় পানি, দুর্গন্ধ ছড়ায় নর্দমা থেকে, আর ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।

বাজারের ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, একসময় নিজেদের স্বার্থ রক্ষা ও বাজার উন্নয়নের লক্ষ্যেই “চন্দ্রগঞ্জ বাজার বণিক সমিতি” নামে একটি সংগঠন গঠিত হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অন্তর্দ্বন্দ্ব, গ্রুপিং ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে এই সংগঠনটি কার্যকারিতা হারায়।

পরবর্তীতে একাধিক নাম ও ব্যানারে নানা ধরনের বণিক সংগঠন ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি গড়ে তোলা হলেও, সেগুলোর কোনো দাপ্তরিক বৈধতা কিংবা স্বচ্ছতা ছিল না বলে ব্যবসায়ীরা জানান। বরং, এই সংগঠনগুলোর আড়ালে একটি প্রভাবশালী মহল বাজার উন্নয়নের নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

চন্দ্রগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা এখন সুস্পষ্টভাবে একটি দাবির পক্ষে একত্র হয়েছেন—নিবন্ধিত “চন্দ্রগঞ্জ বণিক সমিতি”-র কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে হবে। একইসাথে, অতীতে চাঁদা আদায় ও অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছ হিসাব জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে।

বাজারের পরিবেশ, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রসঙ্গত, চন্দ্রগঞ্জ বাজারে বর্তমানে ছোট-বড় প্রায় দেড় হাজারের বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এত বিশাল পরিসরের একটি বাজার কার্যকর কোনো বণিক সমিতি ছাড়া পরিচালিত হওয়াটা ব্যবসায়ীদের দৃষ্টিতে গভীর সংকট।

তারা বলছেন, গণতান্ত্রিক পন্থায় স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করে একটি শক্তিশালী বণিক সমিতি গঠন করা এখন সময়ের দাবি। তা না হলে বাজার ব্যবস্থাপনায় নৈরাজ্য ও দুর্নীতির বিস্তার ঠেকানো সম্ভব হবে না।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

চন্দ্রগঞ্জে বণিক সমিতির নামে অর্থ আত্মসাৎ,দুর্নীতির অভিযোগে সরব ব্যবসায়ীরা

আপডেটের সময়: ০৬:৪৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
print news

আরিফুর রহমান তীব্র–লক্ষ্মীপুর সদর◼️

 

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্র চন্দ্রগঞ্জ বাজার। দীর্ঘদিন ধরে এ বাজারের ব্যবসায়ীরা দ্বিধাবিভক্ত দুটি বণিক সমিতির অকার্যকারিতায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একাধিক নাম ও পরিচয়ে বিভিন্ন সময় গঠিত এসব সমিতি চাঁদা ও নানা অজুহাতে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করলেও এর কোনো সদ্ব্যবহার বা জবাবদিহিতা নেই।

চন্দ্রগঞ্জ বাজারে বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতাহীন বণিক সমিতি ও বণিক কল্যাণ সমিতির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে বললেই চলে। অথচ, বাজারের প্রাথমিক কাঠামো উন্নয়ন, যানজট নিরসন, সুরক্ষা ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। সামান্য বৃষ্টিতেই জমে যায় পানি, দুর্গন্ধ ছড়ায় নর্দমা থেকে, আর ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।

বাজারের ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, একসময় নিজেদের স্বার্থ রক্ষা ও বাজার উন্নয়নের লক্ষ্যেই “চন্দ্রগঞ্জ বাজার বণিক সমিতি” নামে একটি সংগঠন গঠিত হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অন্তর্দ্বন্দ্ব, গ্রুপিং ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে এই সংগঠনটি কার্যকারিতা হারায়।

পরবর্তীতে একাধিক নাম ও ব্যানারে নানা ধরনের বণিক সংগঠন ও বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি গড়ে তোলা হলেও, সেগুলোর কোনো দাপ্তরিক বৈধতা কিংবা স্বচ্ছতা ছিল না বলে ব্যবসায়ীরা জানান। বরং, এই সংগঠনগুলোর আড়ালে একটি প্রভাবশালী মহল বাজার উন্নয়নের নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

চন্দ্রগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা এখন সুস্পষ্টভাবে একটি দাবির পক্ষে একত্র হয়েছেন—নিবন্ধিত “চন্দ্রগঞ্জ বণিক সমিতি”-র কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে হবে। একইসাথে, অতীতে চাঁদা আদায় ও অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছ হিসাব জনসমক্ষে তুলে ধরতে হবে।

বাজারের পরিবেশ, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থে তারা স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রসঙ্গত, চন্দ্রগঞ্জ বাজারে বর্তমানে ছোট-বড় প্রায় দেড় হাজারের বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এত বিশাল পরিসরের একটি বাজার কার্যকর কোনো বণিক সমিতি ছাড়া পরিচালিত হওয়াটা ব্যবসায়ীদের দৃষ্টিতে গভীর সংকট।

তারা বলছেন, গণতান্ত্রিক পন্থায় স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করে একটি শক্তিশালী বণিক সমিতি গঠন করা এখন সময়ের দাবি। তা না হলে বাজার ব্যবস্থাপনায় নৈরাজ্য ও দুর্নীতির বিস্তার ঠেকানো সম্ভব হবে না।