Dhaka ০৮:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

৩২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩২০ জনের-ই জিপিএ ৫,চমকপ্রদ ফলাফল নাকি সাজানো সাফল্য?

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
  • ৫০৪ সময় দেখুন
print news

আল-আমিন, নরসিংদী থেকে◼️

 

২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নরসিংদীর নাসিমা কাদির মোল্লা এম কে এম স্কুল অ্যান্ড হোমসের (এনকেএম) ফলাফল ছিল বেশ চমকপ্রদ। প্রতিষ্ঠানটির ৩২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এমন ফলাফল অভিভাবকদের একাংশের কাছে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে—তারা বলছেন, এটি প্রকৃত অর্জনের চেয়ে “ব্যবসায়িক সাফল্য”।

স্থানীয় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—একটি শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর ফলাফল কি একই মানের হতে পারে? যেখানে প্রত্যেকের দক্ষতা ও সক্ষমতা ভিন্ন, সেখানে শতভাগ শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ ফলাফল প্রাপ্তি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সংশয় তৈরি হয়েছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, নবম শ্রেণিতে যারা রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন, এসএসসি পরীক্ষায় তাদের সবাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। কিছু শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় ফেল দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ‘ছাঁটাই’ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় বলে অভিভাবকদের দাবি, তবে এ ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে ‘নীরব চুক্তি’ হয়।

এই পদ্ধতিকে মানবিকতা ও শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করে একজন অভিভাবক বলেন, “আমার সন্তানকে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করেছিলেন, এখন তাকে ‘মেধাহীন’ আখ্যা দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হলো। এর দায় কে নেবে?

তিনি আরও বলেন, “যে শিক্ষার্থী ১০ বছর ধরে একটি প্রতিষ্ঠানে পড়ল, তার ভবিষ্যৎ কেবল জিপিএ-৫ না পাওয়ার কারণে ধ্বংস করে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মতে, অনেক সাধারণ স্কুলও তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম করিয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করাচ্ছে, যা প্রকৃত শিক্ষার দৃষ্টান্ত। এনকেএম হোমসের ফলাফলকে অনেকে “মেকি রেজাল্ট” বলেও অভিহিত করছেন।

অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, এই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচরে আনার দাবি জানিয়েছেন, যেন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষা নয়, শুধুই ‘ব্যবসা’ হিসেবে না দাঁড়ায়।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

৩২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩২০ জনের-ই জিপিএ ৫,চমকপ্রদ ফলাফল নাকি সাজানো সাফল্য?

আপডেটের সময়: ০৮:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
print news

আল-আমিন, নরসিংদী থেকে◼️

 

২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নরসিংদীর নাসিমা কাদির মোল্লা এম কে এম স্কুল অ্যান্ড হোমসের (এনকেএম) ফলাফল ছিল বেশ চমকপ্রদ। প্রতিষ্ঠানটির ৩২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এমন ফলাফল অভিভাবকদের একাংশের কাছে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে—তারা বলছেন, এটি প্রকৃত অর্জনের চেয়ে “ব্যবসায়িক সাফল্য”।

স্থানীয় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—একটি শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর ফলাফল কি একই মানের হতে পারে? যেখানে প্রত্যেকের দক্ষতা ও সক্ষমতা ভিন্ন, সেখানে শতভাগ শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ ফলাফল প্রাপ্তি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সংশয় তৈরি হয়েছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, নবম শ্রেণিতে যারা রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন, এসএসসি পরীক্ষায় তাদের সবাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। কিছু শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় ফেল দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ‘ছাঁটাই’ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় বলে অভিভাবকদের দাবি, তবে এ ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে ‘নীরব চুক্তি’ হয়।

এই পদ্ধতিকে মানবিকতা ও শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করে একজন অভিভাবক বলেন, “আমার সন্তানকে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করেছিলেন, এখন তাকে ‘মেধাহীন’ আখ্যা দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হলো। এর দায় কে নেবে?

তিনি আরও বলেন, “যে শিক্ষার্থী ১০ বছর ধরে একটি প্রতিষ্ঠানে পড়ল, তার ভবিষ্যৎ কেবল জিপিএ-৫ না পাওয়ার কারণে ধ্বংস করে দেওয়া কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের মতে, অনেক সাধারণ স্কুলও তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম করিয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করাচ্ছে, যা প্রকৃত শিক্ষার দৃষ্টান্ত। এনকেএম হোমসের ফলাফলকে অনেকে “মেকি রেজাল্ট” বলেও অভিহিত করছেন।

অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, এই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচরে আনার দাবি জানিয়েছেন, যেন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষা নয়, শুধুই ‘ব্যবসা’ হিসেবে না দাঁড়ায়।