Dhaka ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

চায়না-দুয়ারির ফাঁদে হারিয়ে যাচ্ছে ২৫০ প্রজাতির মাছ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:৫২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৮৬ সময় দেখুন
print news

◼️এস.এম. রুহুল–তাড়াশ(চলনবিল)

 

বর্ষাকাল মানেই খাল-বিলে পানি আর দেশীয় প্রজাতির নানা মাছের ছুটে বেড়ানো। কিন্তু এ বছর সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার খাল-বিলে দেশীয় মাছের দেখা মিলছে না বললেই চলে। মৎস্যজীবীরা বলছেন, কারেন্ট জালের পাশাপাশি ‘চায়না দুয়ারি’ নামে নতুন এক ফাঁদ দেশীয় মাছের অস্তিত্বের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ফাঁদ শুধু মাছই নয়, সাপ, ব্যাঙসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীকেও নির্বিচারে নিধন করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চায়না দুয়ারি চাঁই বা কারেন্ট জালের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর, যা মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন সম্পূর্ণরূপে বাধাগ্রস্ত করছে।

উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা খাল-বিলে সমৃদ্ধ হলেও এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। দশ বছর আগে পর্যন্ত দেশীয় ছাই, ফলো, ঠেলা জাল বা বড়শি দিয়ে মাছ শিকার হলেও বংশবিস্তার থেমে যেত না। কিন্তু বর্তমানে অসাধু শিকারিরা বিক্রির উদ্দেশ্যে এবং নিজেদের চাহিদা মেটাতে চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় এক মৎস্যজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্ষার নতুন পানি এলে চায়না দুয়ারি ব্যবহার না করে উপায় থাকে না। কয়েক দশক আগেও এ অঞ্চলে প্রায় ২৫০ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ ছিল। কিন্তু মানুষের অসচেতনতা, প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা এবং অবৈধ শিকারের ফলে বহু প্রজাতি এখন আর চোখে পড়ে না।

ভি এস এ উচ্চ বিদ্যালয় ভায়াট, তাড়াশের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, “দেশীয় মাছ হারিয়ে যাওয়ার পেছনে প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন দায়ী, তেমনি মানুষের সচেতনতার অভাবও বড় কারণ। হারিয়ে যাওয়া প্রজাতি রক্ষায় এখন গবেষণা চলছে।”

বিশিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ী সোলেমান হোসেন জানান, তাড়াশে গভীর খাল-বিলের সংখ্যা কম হওয়ায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি না থাকার কারণে মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয়। এর সঙ্গে অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে মাছের সংখ্যা দিন দিন কমছে।

স্থানীয়রা বলছেন, যদি অবিলম্বে অবৈধ জাল ও ফাঁদ ব্যবহার বন্ধ না করা হয়, তবে আগামী প্রজন্ম হয়তো দেশীয় মাছের নামই শুধু শুনে যাবে, চোখে দেখার সুযোগ পাবে না।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

চায়না-দুয়ারির ফাঁদে হারিয়ে যাচ্ছে ২৫০ প্রজাতির মাছ

আপডেটের সময়: ০৯:৫২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
print news

◼️এস.এম. রুহুল–তাড়াশ(চলনবিল)

 

বর্ষাকাল মানেই খাল-বিলে পানি আর দেশীয় প্রজাতির নানা মাছের ছুটে বেড়ানো। কিন্তু এ বছর সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার খাল-বিলে দেশীয় মাছের দেখা মিলছে না বললেই চলে। মৎস্যজীবীরা বলছেন, কারেন্ট জালের পাশাপাশি ‘চায়না দুয়ারি’ নামে নতুন এক ফাঁদ দেশীয় মাছের অস্তিত্বের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ফাঁদ শুধু মাছই নয়, সাপ, ব্যাঙসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীকেও নির্বিচারে নিধন করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চায়না দুয়ারি চাঁই বা কারেন্ট জালের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর, যা মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন সম্পূর্ণরূপে বাধাগ্রস্ত করছে।

উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা খাল-বিলে সমৃদ্ধ হলেও এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। দশ বছর আগে পর্যন্ত দেশীয় ছাই, ফলো, ঠেলা জাল বা বড়শি দিয়ে মাছ শিকার হলেও বংশবিস্তার থেমে যেত না। কিন্তু বর্তমানে অসাধু শিকারিরা বিক্রির উদ্দেশ্যে এবং নিজেদের চাহিদা মেটাতে চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় এক মৎস্যজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্ষার নতুন পানি এলে চায়না দুয়ারি ব্যবহার না করে উপায় থাকে না। কয়েক দশক আগেও এ অঞ্চলে প্রায় ২৫০ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ ছিল। কিন্তু মানুষের অসচেতনতা, প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা এবং অবৈধ শিকারের ফলে বহু প্রজাতি এখন আর চোখে পড়ে না।

ভি এস এ উচ্চ বিদ্যালয় ভায়াট, তাড়াশের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান বলেন, “দেশীয় মাছ হারিয়ে যাওয়ার পেছনে প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন দায়ী, তেমনি মানুষের সচেতনতার অভাবও বড় কারণ। হারিয়ে যাওয়া প্রজাতি রক্ষায় এখন গবেষণা চলছে।”

বিশিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ী সোলেমান হোসেন জানান, তাড়াশে গভীর খাল-বিলের সংখ্যা কম হওয়ায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি না থাকার কারণে মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয়। এর সঙ্গে অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে মাছের সংখ্যা দিন দিন কমছে।

স্থানীয়রা বলছেন, যদি অবিলম্বে অবৈধ জাল ও ফাঁদ ব্যবহার বন্ধ না করা হয়, তবে আগামী প্রজন্ম হয়তো দেশীয় মাছের নামই শুধু শুনে যাবে, চোখে দেখার সুযোগ পাবে না।