
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা বাজার সংলগ্ন বাইপাস কাঁচা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। পশ্চিমপাড়া মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে পাঞ্জেগানা মসজিদ ঘেঁষে প্রায় ৭০০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বর্তমানে এলাকাবাসীর জন্য দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মঙ্গলকাটা গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় কাঁচা এই সড়কটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে রাস্তা ডুবে যায় হাঁটু পানিতে আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে পথচারীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে তারা প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, সড়কটি পাকাকরণ করা হলে একদিকে যেমন মানুষের যাতায়াত সহজ হবে অন্যদিকে মঙ্গলকাটা বাজারের যানজট অনেকাংশে কমে আসবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বাইপাস সড়কটি নিচু এবং কাঁচা হওয়ায় আমাদের চলাচলে প্রচুর সমস্যা হয়। বর্ষাকালে হাঁটু পানি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়ে। দ্রুত রাস্তাটি পাকা করা দরকার।
জাহাঙ্গীরনগর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মিয়া জানান, এই সড়কটি পাকা না থাকায় বাজারের মূল সড়কে প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকে। বাইপাস রাস্তাটি উন্নয়ন হলে মানুষের চলাচল সহজ হবে এবং বাজারের ভিড়ও কমবে।
মঙ্গলকাটা গ্রামের আরেক বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন বলেন, বর্ষার সময় এই রাস্তায় হাঁটা যায় না। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ছেলে মেয়েদের স্কুল কলেজে যাতায়াত করতে অনেক কষ্ট হয়। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণ করা হোক।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোতালিব হোসেন বলেন, এই কাঁচা রাস্তার কারণে এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে আছেন। বর্ষাকালে রাস্তাটি পানিতে তলিয়ে যায়। দ্রুত উঁচু করে পাকা করা হলে হাজারো মানুষের কষ্ট লাঘব হবে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বলেন, মঙ্গলকাটা গ্রামের এই বাইপাস সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। রাস্তাটি নিচু ও কাঁচা হওয়ায় বর্ষায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। জনস্বার্থে দ্রুত সড়কটি পাকা করা অত্যন্ত জরুরি।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মঙ্গলকাটা গ্রামের ৭০০ মিটার কাঁচা রাস্তা পাকাকরণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া মাত্রই কাজ শুরু করা হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পাকাকরণ করবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে তাদের মুক্তি দেবে।
এরশাদুল হক–সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 

























