Dhaka ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত কক্সবাজারের রামুতে আগামীকাল ‘ওয়াক ফর জাস্টিস, এগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ পদযাত্রা কুড়িগ্রামে সাংবাদিক জুবায়েরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের আইনের আওতার দাবি সুনামগঞ্জে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর অবমাননার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ ও শাস্তির দাবি বগুড়ার শাজাহানপুরে নদী থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার ২০ হাজার অবৈধ অটোরিকশার দখলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, প্রশাসনিক ঠেলাঠেলিতে স্থবির জনজীবন নওগাঁর রাণীনগরে নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত: শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সংবর্ধনা খুলনার দাকোপে প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত নরসিংদীতে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

আন্দোলনকারীদের ফাঁসি দিতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা: ট্রাইব্যুনালে ফোনালাপ প্রকাশ

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১২:০৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৯৩ সময় দেখুন
print news

◼️মাহবুব আলম–কাফরুল

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চানখারপুল গণহত্যা মামলার সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শেখ হাসিনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামালের ফোনালাপের লিখিত রূপ উপস্থাপন করেন। প্রসিকিউশনের দাবি—এই আলাপে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের রাজাকার আখ্যা দিয়ে ফাঁসি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

মাকসুদ কামাল বলেন, “প্রত্যেক হল থেকে ছেলেমেয়েরা তালা ভেঙে বের হয়ে গেছে। রাজু ভাস্কর্যে চার-পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে, মল চত্বরে জমা হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে আমার বাসাও আক্রমণ করতে পারে।”

শেখ হাসিনা জবাব দেন, “তোমার বাসার নিরাপত্তার কথা বলে দিচ্ছি। তবে লাঠিসোঁটা নিয়ে হবে না, পুলিশ, বিজিবি সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছি। এরা রাজাকার হতে চাইছে, রাজাকারের ফাঁসি দিয়েছি, এবার তোদেরও তাই করব—একটাও ছাড়ব না।”

মাকসুদ কামাল বলেন, “অতিরিক্ত বেড়ে গেছে পরিস্থিতি। আপা, ক্যাম্পাস আর আমার বাসার নিরাপত্তা একটু বাড়ান।”

শেখ হাসিনা বলেন, “সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে—বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ মোতায়েন আছে। তবে এত বাড়াবাড়ি ভালো না।”

আলাপে মাকসুদ কামাল অভিযোগ করেন, “বিজয় একাত্তর হলে ছাত্রলীগের ছেলেদের মেরেছে, আরও কিছু হলে একই ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা আমার বাসায় ছিল, আমি তাদের হলে গিয়ে সংঘবদ্ধ থাকতে বলেছি।”

শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোন দেশে বাস করি আমরা! রাজাকারদের ফাঁসি দিয়েছি, এবার তোদেরও ছাড়ব না। আজ সহ্য করছি, এরপর অ্যারেস্ট করবে, যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে। ইংল্যান্ডে এমন হলে কতগুলোকে মেরে ফেলেছে।”

মাকসুদ কামাল আশ্বাস দিয়ে বলেন, “এই ঝামেলা শেষ হলে আমিও নিজে ধরে ধরে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বহিষ্কার করব।”

শেখ হাসিনা যোগ করেন, “এইগুলাকে বাইরে করে দিতে হবে। অ্যাকশন না নিয়ে উপায় নাই, সহনশীলতার সীমা পার হয়েছে।”

মাকসুদ কামাল বলেন, “ছাত্রলীগকে বলে রেখেছি কোনো উত্তেজনাপূর্ণ কাজ না করতে, আদালত নিষ্পত্তি করবে।”

তবে শেখ হাসিনা বলেন, “না, এটা আদালত করবে না, এরা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিচ্ছে রাষ্ট্রপতিকে—বেয়াদবিরও একটা সীমা আছে।”

শেষে মাকসুদ কামাল বলেন, “আপাকে যদি কিছু জানানো লাগে, জানাব।”

শেখ হাসিনা জবাব দেন, “কোনো অসুবিধা নেই, আমি সব সময়ই ফ্রি।”

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

আন্দোলনকারীদের ফাঁসি দিতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা: ট্রাইব্যুনালে ফোনালাপ প্রকাশ

আপডেটের সময়: ১২:০৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
print news

◼️মাহবুব আলম–কাফরুল

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চানখারপুল গণহত্যা মামলার সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শেখ হাসিনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামালের ফোনালাপের লিখিত রূপ উপস্থাপন করেন। প্রসিকিউশনের দাবি—এই আলাপে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের রাজাকার আখ্যা দিয়ে ফাঁসি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

মাকসুদ কামাল বলেন, “প্রত্যেক হল থেকে ছেলেমেয়েরা তালা ভেঙে বের হয়ে গেছে। রাজু ভাস্কর্যে চার-পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে, মল চত্বরে জমা হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে আমার বাসাও আক্রমণ করতে পারে।”

শেখ হাসিনা জবাব দেন, “তোমার বাসার নিরাপত্তার কথা বলে দিচ্ছি। তবে লাঠিসোঁটা নিয়ে হবে না, পুলিশ, বিজিবি সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছি। এরা রাজাকার হতে চাইছে, রাজাকারের ফাঁসি দিয়েছি, এবার তোদেরও তাই করব—একটাও ছাড়ব না।”

মাকসুদ কামাল বলেন, “অতিরিক্ত বেড়ে গেছে পরিস্থিতি। আপা, ক্যাম্পাস আর আমার বাসার নিরাপত্তা একটু বাড়ান।”

শেখ হাসিনা বলেন, “সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে—বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ মোতায়েন আছে। তবে এত বাড়াবাড়ি ভালো না।”

আলাপে মাকসুদ কামাল অভিযোগ করেন, “বিজয় একাত্তর হলে ছাত্রলীগের ছেলেদের মেরেছে, আরও কিছু হলে একই ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা আমার বাসায় ছিল, আমি তাদের হলে গিয়ে সংঘবদ্ধ থাকতে বলেছি।”

শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোন দেশে বাস করি আমরা! রাজাকারদের ফাঁসি দিয়েছি, এবার তোদেরও ছাড়ব না। আজ সহ্য করছি, এরপর অ্যারেস্ট করবে, যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে। ইংল্যান্ডে এমন হলে কতগুলোকে মেরে ফেলেছে।”

মাকসুদ কামাল আশ্বাস দিয়ে বলেন, “এই ঝামেলা শেষ হলে আমিও নিজে ধরে ধরে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বহিষ্কার করব।”

শেখ হাসিনা যোগ করেন, “এইগুলাকে বাইরে করে দিতে হবে। অ্যাকশন না নিয়ে উপায় নাই, সহনশীলতার সীমা পার হয়েছে।”

মাকসুদ কামাল বলেন, “ছাত্রলীগকে বলে রেখেছি কোনো উত্তেজনাপূর্ণ কাজ না করতে, আদালত নিষ্পত্তি করবে।”

তবে শেখ হাসিনা বলেন, “না, এটা আদালত করবে না, এরা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিচ্ছে রাষ্ট্রপতিকে—বেয়াদবিরও একটা সীমা আছে।”

শেষে মাকসুদ কামাল বলেন, “আপাকে যদি কিছু জানানো লাগে, জানাব।”

শেখ হাসিনা জবাব দেন, “কোনো অসুবিধা নেই, আমি সব সময়ই ফ্রি।”