
◼️মাহবুব আলম–কাফরুল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চানখারপুল গণহত্যা মামলার সূচনা বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম শেখ হাসিনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামালের ফোনালাপের লিখিত রূপ উপস্থাপন করেন। প্রসিকিউশনের দাবি—এই আলাপে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের রাজাকার আখ্যা দিয়ে ফাঁসি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
মাকসুদ কামাল বলেন, “প্রত্যেক হল থেকে ছেলেমেয়েরা তালা ভেঙে বের হয়ে গেছে। রাজু ভাস্কর্যে চার-পাঁচ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে, মল চত্বরে জমা হয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে আমার বাসাও আক্রমণ করতে পারে।”
শেখ হাসিনা জবাব দেন, “তোমার বাসার নিরাপত্তার কথা বলে দিচ্ছি। তবে লাঠিসোঁটা নিয়ে হবে না, পুলিশ, বিজিবি সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছি। এরা রাজাকার হতে চাইছে, রাজাকারের ফাঁসি দিয়েছি, এবার তোদেরও তাই করব—একটাও ছাড়ব না।”
মাকসুদ কামাল বলেন, “অতিরিক্ত বেড়ে গেছে পরিস্থিতি। আপা, ক্যাম্পাস আর আমার বাসার নিরাপত্তা একটু বাড়ান।”
শেখ হাসিনা বলেন, “সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে—বিজিবি, র্যাব, পুলিশ মোতায়েন আছে। তবে এত বাড়াবাড়ি ভালো না।”
আলাপে মাকসুদ কামাল অভিযোগ করেন, “বিজয় একাত্তর হলে ছাত্রলীগের ছেলেদের মেরেছে, আরও কিছু হলে একই ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা আমার বাসায় ছিল, আমি তাদের হলে গিয়ে সংঘবদ্ধ থাকতে বলেছি।”
শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোন দেশে বাস করি আমরা! রাজাকারদের ফাঁসি দিয়েছি, এবার তোদেরও ছাড়ব না। আজ সহ্য করছি, এরপর অ্যারেস্ট করবে, যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে। ইংল্যান্ডে এমন হলে কতগুলোকে মেরে ফেলেছে।”
মাকসুদ কামাল আশ্বাস দিয়ে বলেন, “এই ঝামেলা শেষ হলে আমিও নিজে ধরে ধরে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বহিষ্কার করব।”
শেখ হাসিনা যোগ করেন, “এইগুলাকে বাইরে করে দিতে হবে। অ্যাকশন না নিয়ে উপায় নাই, সহনশীলতার সীমা পার হয়েছে।”
মাকসুদ কামাল বলেন, “ছাত্রলীগকে বলে রেখেছি কোনো উত্তেজনাপূর্ণ কাজ না করতে, আদালত নিষ্পত্তি করবে।”
তবে শেখ হাসিনা বলেন, “না, এটা আদালত করবে না, এরা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিচ্ছে রাষ্ট্রপতিকে—বেয়াদবিরও একটা সীমা আছে।”
শেষে মাকসুদ কামাল বলেন, “আপাকে যদি কিছু জানানো লাগে, জানাব।”
শেখ হাসিনা জবাব দেন, “কোনো অসুবিধা নেই, আমি সব সময়ই ফ্রি।”
প্রতিবেদকের নাম 






















