Dhaka ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

গ্রাম থেকে শহরে তালের মেলা: চলনবিলের প্রাকৃতিক উপহার

print news

◼️এস.এম.রুহুল তাড়াশী–চলনবিল প্রতিনিধি

 

বর্ষার ঋতু মানেই চলনবিলাঞ্চলের বিস্তৃত জলাভূমি ও উর্বর মাটিতে প্রস্ফুটিত হয় এক প্রাকৃতিক ধন – পাকা তাল। বিশেষত তাড়াশ উপজেলার গ্রামগুলো দীর্ঘদিন ধরে তালের জন্য খ্যাত। শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে এই তাল বিশেষভাবে পাকা হয়, যা গ্রামীণ জীবনের আনন্দ ও সৌন্দর্যকে আরও উদ্ভাসিত করে।

এ অঞ্চলের তালের বৃক্ষ কোনো অতিরিক্ত পরিচর্যার দাবি রাখে না। গবাদি পশু যেমন গরু ও ছাগলও গাছের ক্ষতি করতে পারে না। ফলে গ্রামীণ পরিবারগুলো সহজেই পাকা তাল সংগ্রহ করতে পারে।

পাকা তাল শুধুমাত্র গ্রামীণ জীবনকে সমৃদ্ধ করছে না, এটি বাণিজ্যিক সম্ভাবনারও এক উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গ্রামের গৃহস্থরা বাড়ি-ঘর সাজিয়ে আত্মীয়-স্বজন এবং অতিথিদের জন্য বিভিন্ন প্রকার পিঠা-পুলি, খিরসা, পায়েস, তালের পিঠি ও তালের বড়া তৈরি করেন। এই প্রথা খাদ্যচর্চার পাশাপাশি বাঙালির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মহিষলুটি বাজারের তালের ব্যবসায়ী ইয়াকুব আকন্দ জানান, স্থানীয়ভাবে পাকা তাল আকারভেদে প্রতি পিছ ৫ থেকে ২০ টাকায় ক্রয় করা যায়। শহরের বাজারে তা বিক্রি করলে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত মূল্য অর্জন সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গ্রামে গাছ থেকে সরাসরি তাল সংগ্রহ করলে ব্যবসায়িক লাভ আরও বৃদ্ধি পায়।

চলনবিলের এই প্রাকৃতিক ধন কেবল অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও অনন্য। বর্ষার এই প্রাকৃতিক উপহার গ্রামীণ জীবনের আনন্দ ও অতিথিসেবার প্রথাকে আরও সমৃদ্ধ করে, মানুষের হৃদয় ভরে তোলে মধুর স্মৃতি ও আনন্দে।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

গ্রাম থেকে শহরে তালের মেলা: চলনবিলের প্রাকৃতিক উপহার

আপডেটের সময়: ০৫:৪৫:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫
print news

◼️এস.এম.রুহুল তাড়াশী–চলনবিল প্রতিনিধি

 

বর্ষার ঋতু মানেই চলনবিলাঞ্চলের বিস্তৃত জলাভূমি ও উর্বর মাটিতে প্রস্ফুটিত হয় এক প্রাকৃতিক ধন – পাকা তাল। বিশেষত তাড়াশ উপজেলার গ্রামগুলো দীর্ঘদিন ধরে তালের জন্য খ্যাত। শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে এই তাল বিশেষভাবে পাকা হয়, যা গ্রামীণ জীবনের আনন্দ ও সৌন্দর্যকে আরও উদ্ভাসিত করে।

এ অঞ্চলের তালের বৃক্ষ কোনো অতিরিক্ত পরিচর্যার দাবি রাখে না। গবাদি পশু যেমন গরু ও ছাগলও গাছের ক্ষতি করতে পারে না। ফলে গ্রামীণ পরিবারগুলো সহজেই পাকা তাল সংগ্রহ করতে পারে।

পাকা তাল শুধুমাত্র গ্রামীণ জীবনকে সমৃদ্ধ করছে না, এটি বাণিজ্যিক সম্ভাবনারও এক উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। গ্রামের গৃহস্থরা বাড়ি-ঘর সাজিয়ে আত্মীয়-স্বজন এবং অতিথিদের জন্য বিভিন্ন প্রকার পিঠা-পুলি, খিরসা, পায়েস, তালের পিঠি ও তালের বড়া তৈরি করেন। এই প্রথা খাদ্যচর্চার পাশাপাশি বাঙালির সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মহিষলুটি বাজারের তালের ব্যবসায়ী ইয়াকুব আকন্দ জানান, স্থানীয়ভাবে পাকা তাল আকারভেদে প্রতি পিছ ৫ থেকে ২০ টাকায় ক্রয় করা যায়। শহরের বাজারে তা বিক্রি করলে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত মূল্য অর্জন সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গ্রামে গাছ থেকে সরাসরি তাল সংগ্রহ করলে ব্যবসায়িক লাভ আরও বৃদ্ধি পায়।

চলনবিলের এই প্রাকৃতিক ধন কেবল অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও অনন্য। বর্ষার এই প্রাকৃতিক উপহার গ্রামীণ জীবনের আনন্দ ও অতিথিসেবার প্রথাকে আরও সমৃদ্ধ করে, মানুষের হৃদয় ভরে তোলে মধুর স্মৃতি ও আনন্দে।