Dhaka ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

দীর্ঘ ৫ ঘন্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করলেন ইবি শিক্ষার্থীরা

print news

◼️ইবি প্রতিনিধি

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহর রহস্যজনক মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ শুরু করেন, যা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর প্রশাসনের লিখিত আশ্বাসে প্রত্যাহার করা হয়।

সকাল থেকেই ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারাও। হাতে প্ল্যাকার্ড ধরে তারা শ্লোগান দেন— ‘তুমি কে আমি কে, সাজিদ সাজিদ’, ‘জাস্টিস ফর সাজিদ’, ‘শিক্ষার্থী মর্গে, প্রশাসন ঘুমায় স্বর্গে’, ‘ইবির পুকুরে ভাসছে লাশ, তদন্ত চলবে দুই মাস’, ইত্যাদি।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সাজিদ সুসাঁতারু হওয়ায় পানিতে ডুবে মৃত্যু অসম্ভব। তারা বলেন, লাশ পাওয়ার ৪০ মিনিট পর আসে অ্যাম্বুলেন্স, তিন ঘণ্টা পর হলে আসে প্রশাসন। ফোন বন্ধ থাকলেও তার নম্বরে মৃত্যুর আগমুহূর্তে কল রিসিভ হয় বলে দাবি করেছেন ঘনিষ্ঠরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে সাজিদের শরীরে আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসনের নির্লিপ্ততা প্রমাণ করে তারা দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থ। ঘটনাস্থলে সময়মতো কেউ না আসা এবং দুই দিন পেরিয়ে গেলেও ভিসি বা প্রো-ভিসির অনুপস্থিতি তাদের আরও ক্ষুব্ধ করে।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রারসহ অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ভবনে অবরুদ্ধ করেন। পরে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম এবং কোরআন বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ জাকির হোসেন শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন সাজিদের বন্ধু আজহারুল ইসলাম।

১৫ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ, নিরাপত্তার ব্যর্থতায় এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় আনা, হলে এন্ট্রি-এক্সিট মনিটরিং, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি।

এদিন সকালে ছাত্রদলের মানববন্ধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া প্রতিবাদে পরে ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র ইউনিয়ন, তালাবায়ে আরাবিয়াসহ বিভিন্ন সংগঠন সংহতি প্রকাশ করে। শেষে ফুটবল মাঠে সাজিদের গায়েবানা জানাজা শেষে ফের বিক্ষোভ মিছিল করে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, “সাজিদ আমার বিভাগেরই ছাত্র। প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। আজ থেকেই সিসিটিভি বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। আমরা যা-ই করি, সাজিদ আর ফিরে আসবে না। তবে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

দীর্ঘ ৫ ঘন্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করলেন ইবি শিক্ষার্থীরা

আপডেটের সময়: ০৭:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
print news

◼️ইবি প্রতিনিধি

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহর রহস্যজনক মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবরোধ শুরু করেন, যা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর প্রশাসনের লিখিত আশ্বাসে প্রত্যাহার করা হয়।

সকাল থেকেই ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারাও। হাতে প্ল্যাকার্ড ধরে তারা শ্লোগান দেন— ‘তুমি কে আমি কে, সাজিদ সাজিদ’, ‘জাস্টিস ফর সাজিদ’, ‘শিক্ষার্থী মর্গে, প্রশাসন ঘুমায় স্বর্গে’, ‘ইবির পুকুরে ভাসছে লাশ, তদন্ত চলবে দুই মাস’, ইত্যাদি।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সাজিদ সুসাঁতারু হওয়ায় পানিতে ডুবে মৃত্যু অসম্ভব। তারা বলেন, লাশ পাওয়ার ৪০ মিনিট পর আসে অ্যাম্বুলেন্স, তিন ঘণ্টা পর হলে আসে প্রশাসন। ফোন বন্ধ থাকলেও তার নম্বরে মৃত্যুর আগমুহূর্তে কল রিসিভ হয় বলে দাবি করেছেন ঘনিষ্ঠরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে সাজিদের শরীরে আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসনের নির্লিপ্ততা প্রমাণ করে তারা দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থ। ঘটনাস্থলে সময়মতো কেউ না আসা এবং দুই দিন পেরিয়ে গেলেও ভিসি বা প্রো-ভিসির অনুপস্থিতি তাদের আরও ক্ষুব্ধ করে।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রারসহ অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ভবনে অবরুদ্ধ করেন। পরে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম এবং কোরআন বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ জাকির হোসেন শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন সাজিদের বন্ধু আজহারুল ইসলাম।

১৫ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ, নিরাপত্তার ব্যর্থতায় এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় আনা, হলে এন্ট্রি-এক্সিট মনিটরিং, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি।

এদিন সকালে ছাত্রদলের মানববন্ধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া প্রতিবাদে পরে ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র ইউনিয়ন, তালাবায়ে আরাবিয়াসহ বিভিন্ন সংগঠন সংহতি প্রকাশ করে। শেষে ফুটবল মাঠে সাজিদের গায়েবানা জানাজা শেষে ফের বিক্ষোভ মিছিল করে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, “সাজিদ আমার বিভাগেরই ছাত্র। প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। আজ থেকেই সিসিটিভি বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। আমরা যা-ই করি, সাজিদ আর ফিরে আসবে না। তবে মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”