
ইসলামিক ডেস্ক◼️
মানুষের জীবনে রিজিক (জীবিকা) কখনো বাড়ে, কখনো কমে। অনেকে মনে করেন—আয় কমে যাওয়া মানেই হয়তো আল্লাহ্র অসন্তুষ্টি। কিন্তু একজন মুমিনের জন্য এটা কেবল পরীক্ষা হতে পারে। রিজিকের ক্ষেত্রে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওয়াদা করেছেন, যেগুলোর প্রতি ভরসা রাখলে মনের ভয় দূর হয়, অন্তরে আসে প্রশান্তি।
পবিত্র কুরআনে বহু জায়গায় আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের রিজিকের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। এখানে তুলে ধরা হলো আল্লাহর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াদা, যা আমাদেরকে ভরসা ও ধৈর্যের উপর দৃঢ় রাখতে সাহায্য করে।
১. তাকওয়ার সঙ্গে রিজিক মিলবে অপ্রত্যাশিত পথে
আল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উপায় বের করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দেন, যেখান থেকে সে কল্পনাও করতে পারে না।”
(সূরা তালাক: আয়াত ২-৩)
তাফসিরকারীরা বলেন, তাকওয়া মানে শুধু গুনাহ থেকে বাঁচা নয়—বরং জীবনের প্রতিটি কাজে আল্লাহর ভয় রাখা। যার ভেতরে এই গুণ আছে, আল্লাহ তাঁর জন্য এমন দরজা খুলে দেন, যা সে ভাবেনি।
২. শুকরিয়া দিলে রিজিক বাড়বে
আল্লাহ বলেন, “তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, তবে অবশ্যই আমি তোমাদের জন্য (রিজিক) আরও বাড়িয়ে দেব।”
(সূরা ইব্রাহিম: আয়াত ৭)
অনেক সময় আমরা যা পাই, তার কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলে যাই। অথচ আল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা তাঁর রহমতকে বাড়িয়ে দেয়। শুধু মুখে বললেই হবে না—কাজেও তা প্রকাশ করতে হবে।
৩. দোয়া করলে আল্লাহ রিজিক দেন
আল্লাহ বলেন, “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।”
(সূরা গাফির: আয়াত ৬০)
রিজিক চাওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো দোয়া। অনেকেই বলেন—“অনেক দোয়া করছি, কিছু হচ্ছে না।” কিন্তু আল্লাহ কখনো বান্দার দোয়া ফেলেন না। হয়তো দেরি হচ্ছে, কিন্তু সেটা হয়তো তাঁর কোনো বড় পরিকল্পনার অংশ। তাই দোয়া করা থেকে বিরত থাকা ঠিক নয়।
রিজিক বাড়ানো বা কমানোর মালিক একমাত্র আল্লাহ। তিনি কখনো পরীক্ষা করতে রিজিক কমিয়ে দেন, আবার ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতা দেখলে দ্বিগুণ দিয়ে দেন। তাই রিজিকের ক্ষেত্রে হতাশ হওয়া নয়, বরং তাঁর ওয়াদার উপর ভরসা করাটাই একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় অবলম্বন।
প্রতিবেদকের নাম 

























