
খাইরুল ইসলাম–ঢাকা◼️
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও সংখ্যালঘু ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সম্প্রতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ২৭ জন নিহত হয়েছেন এবং গত ১১ মাসে ২,৪৪২টি সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
তবে বাংলাদেশ পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে জানায়, নিহত ২৭ জনের মধ্যে ২২টি হত্যাকাণ্ড নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাকি ৫টি অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত। তদন্তে কোনো মৃত্যুকেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত পাওয়া যায়নি।
প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়—কোনো ঘটনা ঘটেছে জমি নিয়ে বিরোধে, কিছু আর্থিক দেনা-পাওনা ও চুরি/ডাকাতির সময়, আবার কয়েকটি আত্মহত্যা। এমনকি একটি মৃত্যু ঘটে তরমুজ কেনা নিয়ে ঝগড়ার জেরে। বাকি ১১টি মৃত্যুর তদন্ত চলছে। এসব ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, ১৫ জন আত্মসমর্পণ করেছে এবং ১৮ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গত ১১ মাসে ২০টি ধর্ষণ, যৌন হয়রানি বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানায়, এর মধ্যে ১৬টি মামলার ভিত্তিতে ২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৩টি ঘটনায় কোনো অভিযোগই করা হয়নি। রাজশাহীতে একজন আদিবাসী নারীর ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি; ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধের সঙ্গে জড়িত ছিল। মাগুরার কথিত গণধর্ষণ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত ১,৭৬৯টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও আক্রমণের অভিযোগ এসেছে। পুলিশ তদন্ত করে ৫৬টি জেলায় ১,৪৫৭টি ঘটনার সত্যতা পেয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে উঠে আসে—মাত্র ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখেই ১,৪৫২টি ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ১,২৩৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার অংশ। এ সময় ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পূজা মণ্ডপে হামলা-সংক্রান্ত ১২৭টি ঘটনার মধ্যে ৬৬টি মামলা এবং ৬১টি জিডি রেকর্ড করা হয়েছে। এর জেরে ৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
সংঘ ও মন্দিরভিত্তিক আরও ৬০টি ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
– ২০টি চুরির ঘটনায় ১৪টি মামলা, ৫টি জিডি।
– ২৪টি ভাঙচুরের ঘটনায় ১৮টি মামলা, ৪টি জিডি।
– এসব মামলায় ১৫ জন গ্রেফতার ও ১০ জন আত্মসমর্পণ করে।
– একটি চুরি ও দুটি ভাঙচুরের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
– ৪টি অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ২টি ঘটনাকে নাশকতা হিসেবে গণ্য করা হয়নি।
– ৪টি জমি/বাউন্ডারি সংক্রান্ত বিরোধের মধ্যে ২টি স্থানীয়ভাবে সমাধান হয়েছে।
– ৬টি জমি দখলের অভিযোগে কোনো প্রমাণ মেলেনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, খিলক্ষেতে রেলওয়ের জমিতে নির্মিত একটি অস্থায়ী পূজামণ্ডপ উচ্ছেদ করা হয় যৌথ অভিযানে, এবং বগুড়ায় শ্মশানের পিলার ভাঙার পর প্রশাসনই তা পুনর্নির্মাণ করে।
পুলিশ জানায়, সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো আরও কিছু ঘটনার তথ্য দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সেগুলো পাওয়ার পর তদন্ত করে যথাযথভাবে জানানো হবে।
বাংলাদেশ পুলিশ স্পষ্টভাবে জানায়, প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সব ঘটনাই ব্যক্তিগত বা স্থানীয় বিরোধ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফল।
জনগণের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—সত্য অনুসন্ধানে তারা অটল।
প্রতিবেদকের নাম 























