Dhaka ০৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের পাশে দাঁড়ানো কি রাজনীতি?সমালোচনার মুখে জামায়াতে আমীর

print news

◼️মাহবুব আলম–কাফরুল

 

সম্প্রতি বিমান ক্রাশে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সাবেক স্বাস্থ্য ক্যাডার কর্মকর্তা ডা. শফিকুর রহমান। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে ঘিরে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। কেউ বলছেন, “তিনি ফুটেজের রাজনীতি করছেন”, আবার কেউ বলছেন, “এই সময় ওনার যাওয়া উচিত হয়নি”। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিষয়টা কি সত্যিই শুধুই ফুটেজের জন্য?

যারা সমালোচনা করছেন, তারা হয়তো জানেন না—পঞ্চগড়ের ভয়াবহ লঞ্চ দুর্ঘটনায় ৮০ জন মানুষ মারা গেলে, কোনো মিডিয়া কভারেজ ছাড়াই তিনি ছুটে গিয়েছিলেন। প্রত্যেকটি পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ২৫ লাখ টাকার সমান একটি তহবিল।

চট্টগ্রামের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে যখন প্রাণ গেল অসংখ্য মানুষের, তিনি সরাসরি সেখানে পৌঁছে প্রত্যেকটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসেন—তাও কোনো ক্যামেরা বা প্রচারের তোয়াক্কা না করেই।

সিলেটের ভয়াবহ বন্যায় যখন বহু মানুষ পানিবন্দি ছিল, তখন তিনিই ছিলেন প্রথম জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিক, যিনি সিলেটবাসীর পাশে দাঁড়ান। জামায়াতের পক্ষ থেকে ১০ কোটির বেশি অর্থ সহায়তা করা হয়, যা গণমাধ্যমে খুব একটা আসে নি।

জুলাইয়ের শহিদ পরিবারের প্রতিও তার ছিলো সমান আন্তরিকতা। প্রত্যেক পরিবারকে দিয়েছেন দুই লাখ টাকা করে সাহায্য। তখন কেউ বলেনি, তিনি “ফুটেজ নিচ্ছেন”।

আজ যখন তিনি দগ্ধ শিক্ষার্থীদের দেখতে গেছেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে চিকিৎসার জন্য ৫০ লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছেন, তখন অনেকে সেটিকে রাজনীতি হিসেবে দেখছেন। অথচ বাস্তবতা হলো—এই অর্থ দিয়েই চিকিৎসকদের অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে। হাসপাতালে অতিরিক্ত চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার ও সরঞ্জামের প্রয়োজন মেটাতে তাৎক্ষণিকভাবে যে সাহস ও সহযোগিতা দরকার, সেটাই করেছেন তিনি। একজন সাবেক চিকিৎসক হিসেবে তিনি জানেন, হাসপাতালে আর্থিক নিশ্চয়তা না থাকলে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

অন্যদিকে দেখা গেছে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মী হাসপাতাল ভেতরে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন, ডাক্তারদের কাজে বাধা দিয়েছেন।

ডা. শফিকুর রহমান যদি সেই মুহূর্তে না যেতেন, তাহলে হয়তো পরদিনই শোনা যেত—“হাসপাতালে দগ্ধ শিক্ষার্থীরা মারা যাচ্ছে আর জামায়াত নেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিচ্ছেন”।

এটা যদি রাজনীতি হয়, তবে সমাজ এই রাজনীতিই চায়—যেখানে সমস্যা দেখা দিলেই মানুষকে সাহায্য করতে রাজনীতিবিদরা ছুটে যান, ক্যামেরার জন্য নয়, বরং আন্তরিক মানবিকতায়।

সমালোচনা হোক, কিন্তু সত্যটাও জানা উচিত।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের পাশে দাঁড়ানো কি রাজনীতি?সমালোচনার মুখে জামায়াতে আমীর

আপডেটের সময়: ১২:০৪:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
print news

◼️মাহবুব আলম–কাফরুল

 

সম্প্রতি বিমান ক্রাশে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সাবেক স্বাস্থ্য ক্যাডার কর্মকর্তা ডা. শফিকুর রহমান। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে ঘিরে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। কেউ বলছেন, “তিনি ফুটেজের রাজনীতি করছেন”, আবার কেউ বলছেন, “এই সময় ওনার যাওয়া উচিত হয়নি”। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিষয়টা কি সত্যিই শুধুই ফুটেজের জন্য?

যারা সমালোচনা করছেন, তারা হয়তো জানেন না—পঞ্চগড়ের ভয়াবহ লঞ্চ দুর্ঘটনায় ৮০ জন মানুষ মারা গেলে, কোনো মিডিয়া কভারেজ ছাড়াই তিনি ছুটে গিয়েছিলেন। প্রত্যেকটি পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ২৫ লাখ টাকার সমান একটি তহবিল।

চট্টগ্রামের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে যখন প্রাণ গেল অসংখ্য মানুষের, তিনি সরাসরি সেখানে পৌঁছে প্রত্যেকটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসেন—তাও কোনো ক্যামেরা বা প্রচারের তোয়াক্কা না করেই।

সিলেটের ভয়াবহ বন্যায় যখন বহু মানুষ পানিবন্দি ছিল, তখন তিনিই ছিলেন প্রথম জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিক, যিনি সিলেটবাসীর পাশে দাঁড়ান। জামায়াতের পক্ষ থেকে ১০ কোটির বেশি অর্থ সহায়তা করা হয়, যা গণমাধ্যমে খুব একটা আসে নি।

জুলাইয়ের শহিদ পরিবারের প্রতিও তার ছিলো সমান আন্তরিকতা। প্রত্যেক পরিবারকে দিয়েছেন দুই লাখ টাকা করে সাহায্য। তখন কেউ বলেনি, তিনি “ফুটেজ নিচ্ছেন”।

আজ যখন তিনি দগ্ধ শিক্ষার্থীদের দেখতে গেছেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে চিকিৎসার জন্য ৫০ লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছেন, তখন অনেকে সেটিকে রাজনীতি হিসেবে দেখছেন। অথচ বাস্তবতা হলো—এই অর্থ দিয়েই চিকিৎসকদের অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে। হাসপাতালে অতিরিক্ত চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার ও সরঞ্জামের প্রয়োজন মেটাতে তাৎক্ষণিকভাবে যে সাহস ও সহযোগিতা দরকার, সেটাই করেছেন তিনি। একজন সাবেক চিকিৎসক হিসেবে তিনি জানেন, হাসপাতালে আর্থিক নিশ্চয়তা না থাকলে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

অন্যদিকে দেখা গেছে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মী হাসপাতাল ভেতরে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন, ডাক্তারদের কাজে বাধা দিয়েছেন।

ডা. শফিকুর রহমান যদি সেই মুহূর্তে না যেতেন, তাহলে হয়তো পরদিনই শোনা যেত—“হাসপাতালে দগ্ধ শিক্ষার্থীরা মারা যাচ্ছে আর জামায়াত নেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিচ্ছেন”।

এটা যদি রাজনীতি হয়, তবে সমাজ এই রাজনীতিই চায়—যেখানে সমস্যা দেখা দিলেই মানুষকে সাহায্য করতে রাজনীতিবিদরা ছুটে যান, ক্যামেরার জন্য নয়, বরং আন্তরিক মানবিকতায়।

সমালোচনা হোক, কিন্তু সত্যটাও জানা উচিত।