Dhaka ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

কুড়িগ্রামে আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন: মাদরাসা শিক্ষক আটক

8 / 100 SEO Score
print news

কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি আবাসিক মাদরাসার ১১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় ওই মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে তাৎক্ষণিক আটক করা হলে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধরের চেষ্টা চালায়, পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) ভুক্তভোগী শিশুর মা উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে।

 

আটককৃত শিক্ষকের নাম হাবিবুল্লাহ (২৫)। তিনি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের দোখলাপাড়া গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে। তিনি ওই এলাকারই একটি আবাসিক মাদরাসায় শিক্ষাকতা করছিলেন।

 

মামলার এজাহার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে আবাসিক মাদরাসার পড়াশোনা শেষে শিশুটি অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে শিক্ষক হাবিবুল্লাহ শিশুটিকে ডেকে নিজের বিছানায় নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন চালান। নির্যাতন শেষে ঘটনাটি কাউকে না জানাতে বা প্রকাশ করলে কঠোর শাস্তির ভয়ভীতি দেখান ওই শিক্ষক।

 

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার জানায়, ঘটনার পরদিন বুধবার ভোরে শিশুটি সুকৌশলে মাদরাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরে আসে এবং পরিবারকে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা দ্রুত তাকে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে উলিপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযানে নেমে মাদরাসা থেকেই অভিযুক্ত হাবিবুল্লাহকে আটক করে। শিক্ষক আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা মাদরাসার সামনে এসে জমা হতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এবং উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশের উপস্থিতিতেই গণধোলাই দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে আটক করেছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

কুড়িগ্রামে আবাসিক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন: মাদরাসা শিক্ষক আটক

আপডেটের সময়: ০৫:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
8 / 100 SEO Score
print news

কুড়িগ্রামের উলিপুরে একটি আবাসিক মাদরাসার ১১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় ওই মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে তাৎক্ষণিক আটক করা হলে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধরের চেষ্টা চালায়, পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) ভুক্তভোগী শিশুর মা উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে।

 

আটককৃত শিক্ষকের নাম হাবিবুল্লাহ (২৫)। তিনি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের দোখলাপাড়া গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে। তিনি ওই এলাকারই একটি আবাসিক মাদরাসায় শিক্ষাকতা করছিলেন।

 

মামলার এজাহার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে আবাসিক মাদরাসার পড়াশোনা শেষে শিশুটি অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে শিক্ষক হাবিবুল্লাহ শিশুটিকে ডেকে নিজের বিছানায় নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন চালান। নির্যাতন শেষে ঘটনাটি কাউকে না জানাতে বা প্রকাশ করলে কঠোর শাস্তির ভয়ভীতি দেখান ওই শিক্ষক।

 

ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার জানায়, ঘটনার পরদিন বুধবার ভোরে শিশুটি সুকৌশলে মাদরাসা থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরে আসে এবং পরিবারকে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা দ্রুত তাকে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করেন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে উলিপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযানে নেমে মাদরাসা থেকেই অভিযুক্ত হাবিবুল্লাহকে আটক করে। শিক্ষক আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা মাদরাসার সামনে এসে জমা হতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এবং উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশের উপস্থিতিতেই গণধোলাই দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুল্লাহকে আটক করেছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”