
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা◾
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় মনু নদে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ফলে উপজেলার টিলাগাঁও, হাজীপুর ও শরীফপুর ইউনিয়নে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের অন্তত ১১টি স্থান মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ক্রমাগত পানি বাড়তে থাকায় নদীতীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। স্থানীয়রা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মৌলভীবাজারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ মে) রাত ৯টার সময় কুলাউড়ার ‘মনু রেলসেতু পয়েন্টে’ নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা নদীর ‘শেরপুর পয়েন্টে’ ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
মনু নদের উৎপত্তি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে। এটি কুলাউড়ার শরীফপুর ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে হাজীপুর ও টিলাগাঁও ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা হয়ে কুশিয়ারা নদীতে গিয়ে মিশেছে।
হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওয়াদুদ বখশ বলেন, “বিকেল থেকেই পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে, সাথে স্রোতের তীব্রতাও বেড়েছে। রনচাপ, গাজীপুর, মন্দিরা, নয়াগ্রাম ও কাউকাপন—এই এলাকাগুলোর বাঁধগুলো বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা বাঁধের প্রতিটি পয়েন্ট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলেছি।”
টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মালিক জানান, তাঁর ইউনিয়নের মিয়ারপাড়া ও হাজীপুর গ্রামে তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ রয়েছে। তিনি বলেন, “হাজীপুরে স্থানীয়ভাবে প্রায় ৪০০ ফুট বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কাজ শেষ হওয়ার আগেই পানি বাড়তে শুরু করে। এখন সেই স্থানটিই সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে।”
শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, তাঁর ইউনিয়নের তেলিবিল, বাগজুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মাত্র কদিন আগেই (১৭ জুন) কুলাউড়ার বিভিন্ন এলাকা—ভূকশিমইল, জয়চণ্ডী, কাদিপুর, ব্রাহ্মণ বাজার, বরমচাল, ভাটেরা ইউনিয়ন ও পৌর শহর পানিতে প্লাবিত হয়েছিল। তখনকার পানি গিয়ে জমা হয় হাকালুকি হাওরে। তবে কুশিয়ারা নদীতে ধীরগতিতে পানি নামার কারণে সেই পানি এখনো পুরোপুরি নিষ্কাশিত হয়নি। ফলে নতুন করে আবারও বর্ষণ ও ঢলের কারণে এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত বাঁধ মেরামত ও নদী ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম প্রস্তুত রাখতে প্রশাসনকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদকের নাম 




















