
হৃদয় আহমেদ–জামালপুর জেলা◼️
জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা। সোমবার দুপুরে শহরের সকাল বাজার এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দ্বিতীয় তলায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২৬ জুন নুরুল মমিন আকন্দ কাউছারকে আহ্বায়ক ও মঞ্জুরুল করিম সুমনকে সদস্য সচিব করে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে এই কমিটিতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের জায়গা দেওয়া হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, আহ্বায়ক কাউছার একজন মাদকাসক্ত এবং ৫ আগস্টের পর থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও লুটপাটে জড়িত ছিলেন। অপরদিকে সদস্য সচিব সুমনের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল, সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রীর শ্লীলতাহানি সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সুমনের পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বক্তারা বলেন, বিতর্কিত ও অযোগ্য ব্যক্তিদের দ্বারা গঠিত এ কমিটি জামালপুরের স্বেচ্ছাসেবক দলের জন্য ক্ষতিকর। তারা এই কমিটি বাতিল করে নতুন করে দলীয় আদর্শে বিশ্বাসী, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠনের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পূর্ববর্তী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আবু বকর সিদ্দিকী বাবু, পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক এ এস এম মিজানুর রহমান মিলন, সহ-কোষাধ্যক্ষ মো. ফয়সালসহ আরও অনেক সাবেক নেতাকর্মী।
অভিযোগ প্রসঙ্গে নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক নুরুল মমিন আকন্দ কাউছার বলেন, “আমাদের একটি দুই সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময় ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগ করলেই সত্য হয়ে যায় না। বিষয়টি কেন্দ্রকে জানানো হবে।”
সদস্য সচিব মঞ্জুরুল করিম সুমন বলেন, “আমি দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলাম। আমার ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার কারণে ছাত্রদল থেকে সরে এসেছি। স্টেশনের কোনো অপকর্মের সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার রাজনৈতিক অবস্থান সবার জানা। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলন ঘিরে জেলা রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে চুলচেরা আলোচনা।
প্রতিবেদকের নাম 






















