Dhaka ০২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

রায়পুরে সরকারি স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়ম, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

print news

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৯নং দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়নে সরকারি স্যানিটেশন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় টুইনপিট ল্যাট্রিন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং তারা এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায় নির্মিত অধিকাংশ টুইনপিট ল্যাট্রিনের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের। কোথাও রিং স্ল্যাবে ফাটল দেখা দিয়েছে আবার কোথাও সিমেন্টের পরিমাণ কম হওয়ায় নির্মাণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ল্যাট্রিন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রকল্পের কাগজপত্রে সবকিছু ঠিকঠাক দেখানো হলেও বাস্তবে কাজের মান তার সম্পূর্ণ বিপরীত। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হয়েছে। ফলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ প্রকৃত সুফল দিতে পারছে না।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়ায় ওই কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে এবং তিনিই নেপথ্যে থেকে ঠিকাদারের ভূমিকা পালন করছেন। এতে প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন সরকার আমাদের জন্য ভালো উদ্যোগ নিয়েছে কিন্তু কাজের মান এত খারাপ যে অল্পদিনেই সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন নিয়ম মেনেই কাজ হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছে প্রকল্পে অনিয়মের সঠিক তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হবে। তারা জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরকারি অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি এখন সর্বস্তরের মানুষের।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

রায়পুরে সরকারি স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়ম, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

আপডেটের সময়: ১০:৩৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
print news

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৯নং দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়নে সরকারি স্যানিটেশন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় টুইনপিট ল্যাট্রিন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে এবং তারা এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায় নির্মিত অধিকাংশ টুইনপিট ল্যাট্রিনের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের। কোথাও রিং স্ল্যাবে ফাটল দেখা দিয়েছে আবার কোথাও সিমেন্টের পরিমাণ কম হওয়ায় নির্মাণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ল্যাট্রিন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রকল্পের কাগজপত্রে সবকিছু ঠিকঠাক দেখানো হলেও বাস্তবে কাজের মান তার সম্পূর্ণ বিপরীত। নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হয়েছে। ফলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ প্রকৃত সুফল দিতে পারছে না।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়ায় ওই কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে এবং তিনিই নেপথ্যে থেকে ঠিকাদারের ভূমিকা পালন করছেন। এতে প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন সরকার আমাদের জন্য ভালো উদ্যোগ নিয়েছে কিন্তু কাজের মান এত খারাপ যে অল্পদিনেই সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন নিয়ম মেনেই কাজ হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছে প্রকল্পে অনিয়মের সঠিক তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হবে। তারা জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সরকারি অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি এখন সর্বস্তরের মানুষের।