
◼️মাহবুব আলম–কাফরুল
সম্প্রতি বিমান ক্রাশে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সাবেক স্বাস্থ্য ক্যাডার কর্মকর্তা ডা. শফিকুর রহমান। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে ঘিরে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। কেউ বলছেন, “তিনি ফুটেজের রাজনীতি করছেন”, আবার কেউ বলছেন, “এই সময় ওনার যাওয়া উচিত হয়নি”। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিষয়টা কি সত্যিই শুধুই ফুটেজের জন্য?
যারা সমালোচনা করছেন, তারা হয়তো জানেন না—পঞ্চগড়ের ভয়াবহ লঞ্চ দুর্ঘটনায় ৮০ জন মানুষ মারা গেলে, কোনো মিডিয়া কভারেজ ছাড়াই তিনি ছুটে গিয়েছিলেন। প্রত্যেকটি পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ২৫ লাখ টাকার সমান একটি তহবিল।
চট্টগ্রামের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে যখন প্রাণ গেল অসংখ্য মানুষের, তিনি সরাসরি সেখানে পৌঁছে প্রত্যেকটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসেন—তাও কোনো ক্যামেরা বা প্রচারের তোয়াক্কা না করেই।
সিলেটের ভয়াবহ বন্যায় যখন বহু মানুষ পানিবন্দি ছিল, তখন তিনিই ছিলেন প্রথম জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিক, যিনি সিলেটবাসীর পাশে দাঁড়ান। জামায়াতের পক্ষ থেকে ১০ কোটির বেশি অর্থ সহায়তা করা হয়, যা গণমাধ্যমে খুব একটা আসে নি।
জুলাইয়ের শহিদ পরিবারের প্রতিও তার ছিলো সমান আন্তরিকতা। প্রত্যেক পরিবারকে দিয়েছেন দুই লাখ টাকা করে সাহায্য। তখন কেউ বলেনি, তিনি “ফুটেজ নিচ্ছেন”।
আজ যখন তিনি দগ্ধ শিক্ষার্থীদের দেখতে গেছেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে চিকিৎসার জন্য ৫০ লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছেন, তখন অনেকে সেটিকে রাজনীতি হিসেবে দেখছেন। অথচ বাস্তবতা হলো—এই অর্থ দিয়েই চিকিৎসকদের অনিশ্চয়তা দূর হয়েছে। হাসপাতালে অতিরিক্ত চিকিৎসা, ওষুধ, খাবার ও সরঞ্জামের প্রয়োজন মেটাতে তাৎক্ষণিকভাবে যে সাহস ও সহযোগিতা দরকার, সেটাই করেছেন তিনি। একজন সাবেক চিকিৎসক হিসেবে তিনি জানেন, হাসপাতালে আর্থিক নিশ্চয়তা না থাকলে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
অন্যদিকে দেখা গেছে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মী হাসপাতাল ভেতরে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন, ডাক্তারদের কাজে বাধা দিয়েছেন।
ডা. শফিকুর রহমান যদি সেই মুহূর্তে না যেতেন, তাহলে হয়তো পরদিনই শোনা যেত—“হাসপাতালে দগ্ধ শিক্ষার্থীরা মারা যাচ্ছে আর জামায়াত নেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিচ্ছেন”।
এটা যদি রাজনীতি হয়, তবে সমাজ এই রাজনীতিই চায়—যেখানে সমস্যা দেখা দিলেই মানুষকে সাহায্য করতে রাজনীতিবিদরা ছুটে যান, ক্যামেরার জন্য নয়, বরং আন্তরিক মানবিকতায়।
সমালোচনা হোক, কিন্তু সত্যটাও জানা উচিত।
প্রতিবেদকের নাম 






















