
◼️খাইরুল ইসলাম–ঢাকা
বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার কার্যালয়ের (OHCHR) সঙ্গে একটি তিন বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি মিশন পরিচালিত হবে, যার লক্ষ্য হবে দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে সহায়তা প্রদান।
এই মিশনের উদ্দেশ্য হলো সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংগঠনগুলোকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা, যাতে বাংলাদেশ তার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আরও সক্ষম হয়। এতে আইনি সহায়তা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানবাধিকার রক্ষায় কাঠামোগত উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার পর, এ উদ্যোগকে সরকার জবাবদিহিতা ও সংস্কার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।
সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশের সমাজ শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে গঠিত। অনেক নাগরিক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম যেন দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর বাইরে কোনো এজেন্ডা না চালায়। সেই প্রেক্ষাপটে OHCHR-এর মিশন শুধু গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ ও বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করবে। এতে সমাজিক কোনো বিতর্কিত বিষয় এজেন্ডাভুক্ত থাকবে না।
সরকার আশা করছে, মিশনটি সব সময় স্বচ্ছতা বজায় রেখে স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। জাতিসংঘ ইতিমধ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতাকে সম্পূর্ণভাবে সম্মান জানিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
চুক্তির অংশ হিসেবে সরকার সার্বভৌম ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে—যদি কোনো পর্যায়ে দেখা যায় এই অংশীদারিত্ব জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তবে সরকার চুক্তি থেকে সরে আসার অধিকার রাখে।
সরকার বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করে, যদি অতীত সরকারের সময় এই ধরনের একটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকতো, তবে অনেক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গণহত্যার ঘটনা যথাযথভাবে তদন্ত ও নথিভুক্ত হতো এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হতো।
মানবাধিকার রক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ বিচার ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে—কোনো মতাদর্শিক এজেন্ডার উপর নয়। বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, এই অংশীদারিত্ব দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করবে এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রতিবেদকের নাম 























