Dhaka ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত কক্সবাজারের রামুতে আগামীকাল ‘ওয়াক ফর জাস্টিস, এগেইনস্ট ফ্যাসিজম’ পদযাত্রা কুড়িগ্রামে সাংবাদিক জুবায়েরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের আইনের আওতার দাবি সুনামগঞ্জে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর অবমাননার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ ও শাস্তির দাবি বগুড়ার শাজাহানপুরে নদী থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার ২০ হাজার অবৈধ অটোরিকশার দখলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর, প্রশাসনিক ঠেলাঠেলিতে স্থবির জনজীবন নওগাঁর রাণীনগরে নানা আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত: শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সংবর্ধনা খুলনার দাকোপে প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত নরসিংদীতে যথাযথ মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

ইবিতে শিক্ষক–শিবির নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ

print news

◼️ইবি প্রতিনিধি

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) লোকপ্রশাসন বিভাগে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় ছাত্রশিবির নেতাদের সঙ্গে এক শিক্ষকের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

শিডিউল অনুযায়ী ওই সময়ে ক্লাস নিতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর আহ্বায়ক ও লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিবির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জানতে চান, “তোমরা কারা, এখানে কেন এসেছো?” এ সময় নেতাকর্মীরা জানান, বিভাগীয় সভাপতির অনুমতি নিয়েই তারা নবীনদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শিবির নেতাকর্মীরা নবীনদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। প্রফেসর মতিনুর রহমান এসে ক্লাসে উপস্থিতদের ‘গেট আউট’ বলে বেরিয়ে যেতে বলেন। নেতাকর্মীরা জানান, কথা শেষ করেই তারা চলে যাবেন। কিন্তু শিক্ষক জানান, “এটা সভাপতির বিষয় নয়, আমার ক্লাসের সময়।” এ নিয়ে তর্কাতর্কি হলে তিনি ক্লাস বাতিল করে চলে যান।

পরে করিডোরে বিভাগীয় সভাপতি প্রফেসর ড. ফকরুল ইসলামও ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানেও শিবির নেতাদের সঙ্গে মতিনুর রহমানের বাকবিতণ্ডা হয়। শিবির নেতারা বলেন, শিক্ষক তাদের ‘অপমানজনক’ভাবে বের করে দিয়েছেন।

এক শিবির নেতা বলেন, “আমরা ৭-৮ জন গিয়েছিলাম। সভাপতির অনুমতি নিয়েই নবীনদের সঙ্গে দেখা করতে যাই। জানলে যে ক্লাস আছে, আমরা যেতাম না।” তিনি জানান, বাইরে বের হওয়ার পরও শিক্ষকের সঙ্গে কিছু কথাকাটাকাটি হয়, যা পরে সভাপতির কক্ষে বৈঠকে মীমাংসা করা হয়।

দুপুর ১টার দিকে বিভাগের সভাপতির কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রফেসর মতিনুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বেগম রোকসানা মিলি, প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতি প্রফেসর ড. ফকরুল ইসলাম বলেন, “আমি জানতাম না ওই সময়ে কারো ক্লাস ছিল। জানলে অনুমতি দিতাম না। বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে, পরে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়েছে।”

প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রসংগঠন কথা বলতে পারে, তবে প্রক্রিয়া মেনে করতে হবে। সভাপতির উচিত ছিল অনুমতি দেওয়ার আগে ক্লাস শিডিউল দেখা। যদিও পরে তারা ক্ষমা চেয়েছে, তবু আচরণটি একজন শিক্ষকের প্রতি প্রত্যাশিত ছিল না।”

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিংক সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস গড়ার লক্ষ্যে স্কুল সেনসিটাইজেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

ইবিতে শিক্ষক–শিবির নেতাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ

আপডেটের সময়: ১১:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
print news

◼️ইবি প্রতিনিধি

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) লোকপ্রশাসন বিভাগে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় ছাত্রশিবির নেতাদের সঙ্গে এক শিক্ষকের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

শিডিউল অনুযায়ী ওই সময়ে ক্লাস নিতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর আহ্বায়ক ও লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিবির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জানতে চান, “তোমরা কারা, এখানে কেন এসেছো?” এ সময় নেতাকর্মীরা জানান, বিভাগীয় সভাপতির অনুমতি নিয়েই তারা নবীনদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শিবির নেতাকর্মীরা নবীনদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। প্রফেসর মতিনুর রহমান এসে ক্লাসে উপস্থিতদের ‘গেট আউট’ বলে বেরিয়ে যেতে বলেন। নেতাকর্মীরা জানান, কথা শেষ করেই তারা চলে যাবেন। কিন্তু শিক্ষক জানান, “এটা সভাপতির বিষয় নয়, আমার ক্লাসের সময়।” এ নিয়ে তর্কাতর্কি হলে তিনি ক্লাস বাতিল করে চলে যান।

পরে করিডোরে বিভাগীয় সভাপতি প্রফেসর ড. ফকরুল ইসলামও ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানেও শিবির নেতাদের সঙ্গে মতিনুর রহমানের বাকবিতণ্ডা হয়। শিবির নেতারা বলেন, শিক্ষক তাদের ‘অপমানজনক’ভাবে বের করে দিয়েছেন।

এক শিবির নেতা বলেন, “আমরা ৭-৮ জন গিয়েছিলাম। সভাপতির অনুমতি নিয়েই নবীনদের সঙ্গে দেখা করতে যাই। জানলে যে ক্লাস আছে, আমরা যেতাম না।” তিনি জানান, বাইরে বের হওয়ার পরও শিক্ষকের সঙ্গে কিছু কথাকাটাকাটি হয়, যা পরে সভাপতির কক্ষে বৈঠকে মীমাংসা করা হয়।

দুপুর ১টার দিকে বিভাগের সভাপতির কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রফেসর মতিনুর রহমান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বেগম রোকসানা মিলি, প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও ছাত্রসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতি প্রফেসর ড. ফকরুল ইসলাম বলেন, “আমি জানতাম না ওই সময়ে কারো ক্লাস ছিল। জানলে অনুমতি দিতাম না। বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে, পরে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয়েছে।”

প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রসংগঠন কথা বলতে পারে, তবে প্রক্রিয়া মেনে করতে হবে। সভাপতির উচিত ছিল অনুমতি দেওয়ার আগে ক্লাস শিডিউল দেখা। যদিও পরে তারা ক্ষমা চেয়েছে, তবু আচরণটি একজন শিক্ষকের প্রতি প্রত্যাশিত ছিল না।”