Dhaka ১০:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা

print news

আরিফুর রহমান তীব্র–লক্ষ্মীপুর সদর◼️

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকা এখন যেন মাদক চোরাকারবারিদের একটি হটস্পটে রূপ নিয়েছে। যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য হাতের নাগালে মিলছে ভয়াবহ নেশাদ্রব্য। এলাকাবাসী অভিযোগ করছে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন চলছে মাদক বেচাকেনা আর সেবনের ভয়াল উৎসব।

বিশেষ করে চন্দ্রগঞ্জ থানার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নির্দিষ্ট এলাকাগুলো এখন মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের নিরাপদ ঘাঁটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সীমান্তবর্তী অবস্থানের সুযোগ নিয়ে নোয়াখালীর সদর ও বেগমগঞ্জ থেকে প্রবেশ করা মাদক দ্রব্য সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে পুরো চন্দ্রগঞ্জ এলাকায়।

স্থানীয়রা জানায়, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের দেওপাড়া, উত্তর-পূর্ব পাঁচপাড়া, বসুদুহিতা, চরশাহী ইউনিয়নের স্টিলের ব্রিজ, মিয়ার বাজার, নতুন হাট এবং হাজিরপাড়া ইউনিয়নের বড়ভল্লবপুর, দীঘলি ইউনিয়নের রাজাপুর—এই এলাকাগুলো এখন মাদকের আস্তানা। এখান থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের বাজার, পাড়া ও জনপদে।

বিচ্ছিন্নভাবে ছোট চালানে মাদক সরবরাহ করে পুলিশি নজরদারি এড়িয়ে যাচ্ছে একদল সংঘবদ্ধ চক্র। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, চন্দ্রগঞ্জে কিছু নামধারী সাংবাদিক, কথিত ডাক্তার, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থাকা ব্যক্তি পর্যন্ত মাদকের করাল ছায়ায় ঢুকে পড়েছে। ফলে এই অপরাধ নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা কঠিন হয়ে পড়েছে প্রশাসনের জন্য।

আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বেশ কিছু মাদকসেবী ও খুচরা বিক্রেতা একবার ধরা পড়লেও পরে ‘মুচলেকা’ দিয়ে সহজেই ছাড়া পেয়ে যায়, আবারও ফিরে আসে সেই অপরাধচক্রে।

এ অবস্থায় স্থানীয় সচেতন মানুষজন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, চন্দ্রগঞ্জকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে বাঁচাতে কঠোর অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার জন্য। একই সঙ্গে এ সমস্যার মূল শিকড় তুলে ফেলে, সমাজ থেকে এই বিষদ্রব্য নির্মূল করতে দরকার নিয়মিত মনিটরিং, আইনি পদক্ষেপ এবং সামাজিক সচেতনতা।

চন্দ্রগঞ্জের মানুষ এখন চায়—একটি নিরাপদ, নেশামুক্ত প্রজন্ম এবং সুস্থ সমাজ। এজন্য এখনই সময়, চন্দ্রগঞ্জকে বাঁচাতে একযোগে এগিয়ে আসার।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা

আপডেটের সময়: ১২:৩৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
print news

আরিফুর রহমান তীব্র–লক্ষ্মীপুর সদর◼️

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানা এলাকা এখন যেন মাদক চোরাকারবারিদের একটি হটস্পটে রূপ নিয়েছে। যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য হাতের নাগালে মিলছে ভয়াবহ নেশাদ্রব্য। এলাকাবাসী অভিযোগ করছে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন চলছে মাদক বেচাকেনা আর সেবনের ভয়াল উৎসব।

বিশেষ করে চন্দ্রগঞ্জ থানার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নির্দিষ্ট এলাকাগুলো এখন মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের নিরাপদ ঘাঁটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সীমান্তবর্তী অবস্থানের সুযোগ নিয়ে নোয়াখালীর সদর ও বেগমগঞ্জ থেকে প্রবেশ করা মাদক দ্রব্য সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে পুরো চন্দ্রগঞ্জ এলাকায়।

স্থানীয়রা জানায়, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের দেওপাড়া, উত্তর-পূর্ব পাঁচপাড়া, বসুদুহিতা, চরশাহী ইউনিয়নের স্টিলের ব্রিজ, মিয়ার বাজার, নতুন হাট এবং হাজিরপাড়া ইউনিয়নের বড়ভল্লবপুর, দীঘলি ইউনিয়নের রাজাপুর—এই এলাকাগুলো এখন মাদকের আস্তানা। এখান থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের বাজার, পাড়া ও জনপদে।

বিচ্ছিন্নভাবে ছোট চালানে মাদক সরবরাহ করে পুলিশি নজরদারি এড়িয়ে যাচ্ছে একদল সংঘবদ্ধ চক্র। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, চন্দ্রগঞ্জে কিছু নামধারী সাংবাদিক, কথিত ডাক্তার, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থাকা ব্যক্তি পর্যন্ত মাদকের করাল ছায়ায় ঢুকে পড়েছে। ফলে এই অপরাধ নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলা কঠিন হয়ে পড়েছে প্রশাসনের জন্য।

আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বেশ কিছু মাদকসেবী ও খুচরা বিক্রেতা একবার ধরা পড়লেও পরে ‘মুচলেকা’ দিয়ে সহজেই ছাড়া পেয়ে যায়, আবারও ফিরে আসে সেই অপরাধচক্রে।

এ অবস্থায় স্থানীয় সচেতন মানুষজন প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, চন্দ্রগঞ্জকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে বাঁচাতে কঠোর অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার জন্য। একই সঙ্গে এ সমস্যার মূল শিকড় তুলে ফেলে, সমাজ থেকে এই বিষদ্রব্য নির্মূল করতে দরকার নিয়মিত মনিটরিং, আইনি পদক্ষেপ এবং সামাজিক সচেতনতা।

চন্দ্রগঞ্জের মানুষ এখন চায়—একটি নিরাপদ, নেশামুক্ত প্রজন্ম এবং সুস্থ সমাজ। এজন্য এখনই সময়, চন্দ্রগঞ্জকে বাঁচাতে একযোগে এগিয়ে আসার।