
মোঃ মাসুদ রানা–স্টাফ রিপোর্টার◼️
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার নিউ মার্কেট, উপজেলা রোড ও আশপাশের বাজারে নামিদামি দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। অধিকাংশ দোকানে এখন ভরে গেছে নকল ও মানহীন কসমেটিকস পণ্যে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মুনাফার লোভে এসব নকল পণ্য বাজারজাত করে ঠেলে দিচ্ছে মানুষকে স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে।
বাজারে এখন সহজেই মিলছে বিদেশি নামধারী ফেয়ারনেস ক্রিম, শ্যাম্পু, তেল, নেইল পলিশ, বডি স্প্রে, লোশন, মেহেদি, ভ্যাসলিনসহ নানা ধরনের কসমেটিকস। কিন্তু এই পণ্যের অধিকাংশই তৈরি করা হয় ঢাকার চকবাজারসহ কিছু উৎস থেকে। আসল পণ্যের মোড়ক বা নাম অনুকরণ করে বানানো হয় ‘মেরিট’, ‘মরিল’, ‘জুহি’, ‘জুন’, ‘এ্যারোমা’, ‘বিব্বাত’—এমন অসংখ্য নকল ব্র্যান্ড।
এতে যেমন ত্বকে চুলকানি, র্যাশ, ফুসকুড়ি ও চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তেমনি দীর্ঘদিন ব্যবহারে বাড়ছে ক্যান্সারের ঝুঁকি।
স্থানীয় ক্রেতা কনকা বলেন, বাজার থেকে ‘ফেয়ার এন্ড লাভলী’ কিনে ব্যবহার করতেই ত্বকে সমস্যা দেখা দেয়। পরে দেখেন পণ্যের নাম ছিল ‘ফেয়ার এন্ড লাডলী’। আরেকজন ক্রেতা পিংকি বলেন, দোকানদার যা দেয় তাই বিশ্বাস করে নিই, বুঝতে পারি না কোনটা নকল।
অনেক দোকানদারও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পণ্যের গায়ে বারকোড থাকলেও স্ক্যান করলে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। আমরাও চাই এসব ভেজাল পণ্য বাজার থেকে উঠিয়ে দেওয়া হোক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, খালি কৌটা এনে নকল প্রসাধনী ভরে আসল নামে বিক্রি করা হয়, যাতে সহজে কেউ ধরতেই পারে না। এর পেছনে রয়েছে গোছানো সিন্ডিকেট।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এইচ সি কর্মকার (সুদীপ) জানান, এসব নকল প্রসাধনী দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বক মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়, এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও তৈরি হয়।
ভোক্তারা দাবি করেছেন, এ ধরনের প্রতারণা রোধে বাজারে আরও কঠোর মনিটরিং ও নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হোক। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানো হোক আসল-নকল পণ্য সনাক্তে।
নকল প্রসাধনীর দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিপাকে পড়বে আরও অসংখ্য পরিবার—এমনটাই বলছেন সচেতন মহল।
প্রতিবেদকের নাম 

























