Dhaka ১০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

পুলিশ নয়: নিজেরাই অভিযান চালিয়ে চোরাই গাড়ি উদ্ধার করলেন স্বামী-স্ত্রী

print news

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 

পুলিশের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো সাড়া না পেয়ে চুরি যাওয়া গাড়ি নিজেরাই খুঁজে বের করলেন যুক্তরাজ্যের এক সাহসী দম্পতি। পশ্চিম লন্ডনের ব্রুক গ্রিন এলাকার বাসিন্দা মিয়া ফোর্বস পিরি ও মার্ক সিম্পসনের জাগুয়ার ই-পেস গাড়িটি এ মাসের শুরুতে চুরি হয়। তবে নিরুৎসাহী পুলিশের সহায়তা না পেয়ে দম্পতি নিজেরাই গোয়েন্দার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন এবং একপ্রকার চোরের কাছ থেকেই নিজের গাড়ি ফিরিয়ে আনেন।

 

চুরি যাওয়া গাড়িটিতে আগে থেকেই সংযুক্ত ছিল ‘গোস্ট ইমোবিলাইজার’ ও ‘এয়ারট্যাগ লোকেটর’। চুরির পরপরই তারা গাড়ির অবস্থান জানতে পারেন লোকেটরের মাধ্যমে এবং তা সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেন পুলিশের ৯৯৯ নম্বরে। কিন্তু পুলিশের সাড়া আসে না। বরং জানানো হয়, তারা খুব ব্যস্ত—এখন তদন্ত করা বা অভিযান চালানো সম্ভব নয়। এমনকি কবে থেকে তদন্ত শুরু করা যাবে, তাও নিশ্চিত করে বলা হয়নি।

হতাশ না হয়ে সাহসিক সিদ্ধান্ত নেন মিয়া ও মার্ক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লজিস্টিক সাপোর্ট ছাড়াই তারা নামেন অভিযানে। গাড়িটি প্রথমে ভোর ৩টা ২০ মিনিটে তাদের বাড়ির সামনে অবস্থান করছিল, পরে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে দেখা যায় চিসউইকে। সেই তথ্য অনুযায়ী দ্রুত ছুটে যান দম্পতি। এক নির্জন সড়কে খুঁজে পান গাড়িটি। ততক্ষণে চোরেরা ভেতরের কার্পেট ছিঁড়ে ফেলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত করেছে অভ্যন্তরীণ অংশ।

গাড়ি উদ্ধারের পর মিয়া ফোর্বস পিরি তার লিঙ্কডইন পোস্টে লেখেন, “গাড়ি উদ্ধার করাটা একভাবে রোমাঞ্চকর ছিল, কিন্তু এটাও ভাবিয়ে তোলে—এটা কি আমাদেরই করার কথা ছিল? পুলিশের কোনো আগ্রহ না থাকাটা কি স্বাভাবিক?”

পরে মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, ফরেনসিক টিম পাঠানো হবে। গাড়ির ভেতর, বিশেষ করে কার্পেট ও ফিউজ বক্সে চোরের আঙুলের ছাপ খুঁজবে তারা। তবে মিয়া বলেন, “আমরা গাড়ি উদ্ধারের পর অনেকেই গাড়িটি স্পর্শ করেছে। এখন চোর শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে গেছে।”

এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। মিয়া মন্তব্য করেন, “যদি চুরি বা অপরাধের জন্য শাস্তি না হয়, তাহলে মানুষ খারাপ কাজ করা থেকে বিরত হবে কেন?”

এ ঘটনা শুধু পুলিশের দায়িত্বহীনতাই নয়, একজন সাধারণ নাগরিকের অধিকার আদায়ে নিজেরাই কীভাবে সাহসিকতার সঙ্গে ভূমিকা রাখতে পারেন, তারও এক উজ্জ্বল উদাহরণ। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিপরীতে এক দম্পতির সচেতনতা, কৌশল ও দৃঢ় মনোবলের গল্প হয়ে রইল এই ঘটনা।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

"'দৈনিক ক্রাইম তালাশ' একটি অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম, যা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে নিরন্তর তথ্য ও সত্য সংবাদ প্রদান করা।"
জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

পুলিশ নয়: নিজেরাই অভিযান চালিয়ে চোরাই গাড়ি উদ্ধার করলেন স্বামী-স্ত্রী

আপডেটের সময়: ১০:১৯:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫
print news

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

 

পুলিশের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো সাড়া না পেয়ে চুরি যাওয়া গাড়ি নিজেরাই খুঁজে বের করলেন যুক্তরাজ্যের এক সাহসী দম্পতি। পশ্চিম লন্ডনের ব্রুক গ্রিন এলাকার বাসিন্দা মিয়া ফোর্বস পিরি ও মার্ক সিম্পসনের জাগুয়ার ই-পেস গাড়িটি এ মাসের শুরুতে চুরি হয়। তবে নিরুৎসাহী পুলিশের সহায়তা না পেয়ে দম্পতি নিজেরাই গোয়েন্দার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন এবং একপ্রকার চোরের কাছ থেকেই নিজের গাড়ি ফিরিয়ে আনেন।

 

চুরি যাওয়া গাড়িটিতে আগে থেকেই সংযুক্ত ছিল ‘গোস্ট ইমোবিলাইজার’ ও ‘এয়ারট্যাগ লোকেটর’। চুরির পরপরই তারা গাড়ির অবস্থান জানতে পারেন লোকেটরের মাধ্যমে এবং তা সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেন পুলিশের ৯৯৯ নম্বরে। কিন্তু পুলিশের সাড়া আসে না। বরং জানানো হয়, তারা খুব ব্যস্ত—এখন তদন্ত করা বা অভিযান চালানো সম্ভব নয়। এমনকি কবে থেকে তদন্ত শুরু করা যাবে, তাও নিশ্চিত করে বলা হয়নি।

হতাশ না হয়ে সাহসিক সিদ্ধান্ত নেন মিয়া ও মার্ক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লজিস্টিক সাপোর্ট ছাড়াই তারা নামেন অভিযানে। গাড়িটি প্রথমে ভোর ৩টা ২০ মিনিটে তাদের বাড়ির সামনে অবস্থান করছিল, পরে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে দেখা যায় চিসউইকে। সেই তথ্য অনুযায়ী দ্রুত ছুটে যান দম্পতি। এক নির্জন সড়কে খুঁজে পান গাড়িটি। ততক্ষণে চোরেরা ভেতরের কার্পেট ছিঁড়ে ফেলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত করেছে অভ্যন্তরীণ অংশ।

গাড়ি উদ্ধারের পর মিয়া ফোর্বস পিরি তার লিঙ্কডইন পোস্টে লেখেন, “গাড়ি উদ্ধার করাটা একভাবে রোমাঞ্চকর ছিল, কিন্তু এটাও ভাবিয়ে তোলে—এটা কি আমাদেরই করার কথা ছিল? পুলিশের কোনো আগ্রহ না থাকাটা কি স্বাভাবিক?”

পরে মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, ফরেনসিক টিম পাঠানো হবে। গাড়ির ভেতর, বিশেষ করে কার্পেট ও ফিউজ বক্সে চোরের আঙুলের ছাপ খুঁজবে তারা। তবে মিয়া বলেন, “আমরা গাড়ি উদ্ধারের পর অনেকেই গাড়িটি স্পর্শ করেছে। এখন চোর শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে গেছে।”

এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। মিয়া মন্তব্য করেন, “যদি চুরি বা অপরাধের জন্য শাস্তি না হয়, তাহলে মানুষ খারাপ কাজ করা থেকে বিরত হবে কেন?”

এ ঘটনা শুধু পুলিশের দায়িত্বহীনতাই নয়, একজন সাধারণ নাগরিকের অধিকার আদায়ে নিজেরাই কীভাবে সাহসিকতার সঙ্গে ভূমিকা রাখতে পারেন, তারও এক উজ্জ্বল উদাহরণ। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিপরীতে এক দম্পতির সচেতনতা, কৌশল ও দৃঢ় মনোবলের গল্প হয়ে রইল এই ঘটনা।