
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পুলিশের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো সাড়া না পেয়ে চুরি যাওয়া গাড়ি নিজেরাই খুঁজে বের করলেন যুক্তরাজ্যের এক সাহসী দম্পতি। পশ্চিম লন্ডনের ব্রুক গ্রিন এলাকার বাসিন্দা মিয়া ফোর্বস পিরি ও মার্ক সিম্পসনের জাগুয়ার ই-পেস গাড়িটি এ মাসের শুরুতে চুরি হয়। তবে নিরুৎসাহী পুলিশের সহায়তা না পেয়ে দম্পতি নিজেরাই গোয়েন্দার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন এবং একপ্রকার চোরের কাছ থেকেই নিজের গাড়ি ফিরিয়ে আনেন।
চুরি যাওয়া গাড়িটিতে আগে থেকেই সংযুক্ত ছিল ‘গোস্ট ইমোবিলাইজার’ ও ‘এয়ারট্যাগ লোকেটর’। চুরির পরপরই তারা গাড়ির অবস্থান জানতে পারেন লোকেটরের মাধ্যমে এবং তা সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেন পুলিশের ৯৯৯ নম্বরে। কিন্তু পুলিশের সাড়া আসে না। বরং জানানো হয়, তারা খুব ব্যস্ত—এখন তদন্ত করা বা অভিযান চালানো সম্ভব নয়। এমনকি কবে থেকে তদন্ত শুরু করা যাবে, তাও নিশ্চিত করে বলা হয়নি।
হতাশ না হয়ে সাহসিক সিদ্ধান্ত নেন মিয়া ও মার্ক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লজিস্টিক সাপোর্ট ছাড়াই তারা নামেন অভিযানে। গাড়িটি প্রথমে ভোর ৩টা ২০ মিনিটে তাদের বাড়ির সামনে অবস্থান করছিল, পরে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে দেখা যায় চিসউইকে। সেই তথ্য অনুযায়ী দ্রুত ছুটে যান দম্পতি। এক নির্জন সড়কে খুঁজে পান গাড়িটি। ততক্ষণে চোরেরা ভেতরের কার্পেট ছিঁড়ে ফেলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত করেছে অভ্যন্তরীণ অংশ।
গাড়ি উদ্ধারের পর মিয়া ফোর্বস পিরি তার লিঙ্কডইন পোস্টে লেখেন, “গাড়ি উদ্ধার করাটা একভাবে রোমাঞ্চকর ছিল, কিন্তু এটাও ভাবিয়ে তোলে—এটা কি আমাদেরই করার কথা ছিল? পুলিশের কোনো আগ্রহ না থাকাটা কি স্বাভাবিক?”
পরে মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, ফরেনসিক টিম পাঠানো হবে। গাড়ির ভেতর, বিশেষ করে কার্পেট ও ফিউজ বক্সে চোরের আঙুলের ছাপ খুঁজবে তারা। তবে মিয়া বলেন, “আমরা গাড়ি উদ্ধারের পর অনেকেই গাড়িটি স্পর্শ করেছে। এখন চোর শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে গেছে।”
এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। মিয়া মন্তব্য করেন, “যদি চুরি বা অপরাধের জন্য শাস্তি না হয়, তাহলে মানুষ খারাপ কাজ করা থেকে বিরত হবে কেন?”
এ ঘটনা শুধু পুলিশের দায়িত্বহীনতাই নয়, একজন সাধারণ নাগরিকের অধিকার আদায়ে নিজেরাই কীভাবে সাহসিকতার সঙ্গে ভূমিকা রাখতে পারেন, তারও এক উজ্জ্বল উদাহরণ। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিপরীতে এক দম্পতির সচেতনতা, কৌশল ও দৃঢ় মনোবলের গল্প হয়ে রইল এই ঘটনা।
প্রতিবেদকের নাম 


























