
বিশেষ প্রতিনিধি–◼️
নিঃশেষ জীবনের গল্প যেন নামেই সুফিয়া বেগম। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম কালিরডাঙ্গা গ্রামের এই নারী মানুষের জমিতে সামান্য টিনের ছাপড়ায় দুই মেয়ে ও পাঁচ নাতি-নাতনিকে নিয়ে দিন গুজরান করছেন।
প্রায় ২৬ বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর শুরু হয় তার সংগ্রাম। দুই মেয়েকে বড় করে বিয়ের পরেও পিছু ছাড়েনি দুর্ভাগ্য। একে একে মৃত্যুবরণ করেন দুই জামাই। তার পর থেকেই নাতি-নাতনিদের লালন-পালনের দায়িত্ব এসে পড়ে সুফিয়ার কাঁধে।
জীবিকার উৎস বলতে খাল-বিল, ঝোপঝাড় বা মাঠের পাশ থেকে সংগ্রহ করা শাকপাতা। সেগুলো আঁটি বেঁধে প্রতিদিন হেঁটে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে জলঢাকা বাজারে বিক্রি করতে যান। দিন শেষে যা আয় হয়, তাই দিয়ে চলতে হয় পুরো সংসার।
বর্ষা কিংবা শীত—কোনো ঋতুই স্বস্তি এনে দেয় না এই পরিবারের জন্য। টিনের ছাপড়ায় বৃষ্টির দিনে পানিতে ভেজা কষ্ট, শীতকালে ঠান্ডার যন্ত্রণা। নেই বিদ্যুৎ, নেই স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন এক চরম পরীক্ষা।
সুফিয়া বেগম আক্ষেপ করে বলেন,শুকনো দিনে কোনো মতে চলে, কিন্তু বৃষ্টি বা ঠান্ডা নামলে এই ঘরে থাকা যায় না। নিজের জায়গা তো নেই, থাকার কোনো উপায়ও নেই।
সুফিয়ার মতো একজন সংগ্রামী নারীর পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। সমাজের বিত্তবান কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের মানবিক নজরই হতে পারে তার বাকি জীবনের আশার আলো। একটি নিরাপদ বাসস্থান এই পরিবারটির স্বপ্ন নয়—অধিকার।
প্রতিবেদকের নাম 

























