Dhaka ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আলোচনায় আব্দুল মমিন সুনামগঞ্জে শোভাযাত্রা ও পথসভার মধ্য দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত নরসিংদীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২৯ নরসিংদীর শিবপুর ও সদরে তিতাসের অভিযান: ১৮টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন নরসিংদীতে ডিবি পুলিশের ঝটিকা অভিযান: অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না রান্নার চুলা, দুর্ভোগে হাজারো পরিবার সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে জমি থেকে ৪০১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৯ কুড়িগ্রামে নিখোঁজের তিন সপ্তাহেও মেলেনি ১০ বছরের শিশু লতিফের সন্ধান সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে যুবক খুন, আহত ৫

শাক তুলে চলে সুফিয়ার সংসার,নেই বসতভিটা-তবুও চলছে জীবন

print news

বিশেষ প্রতিনিধি–◼️

নিঃশেষ জীবনের গল্প যেন নামেই সুফিয়া বেগম। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম কালিরডাঙ্গা গ্রামের এই নারী মানুষের জমিতে সামান্য টিনের ছাপড়ায় দুই মেয়ে ও পাঁচ নাতি-নাতনিকে নিয়ে দিন গুজরান করছেন।

প্রায় ২৬ বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর শুরু হয় তার সংগ্রাম। দুই মেয়েকে বড় করে বিয়ের পরেও পিছু ছাড়েনি দুর্ভাগ্য। একে একে মৃত্যুবরণ করেন দুই জামাই। তার পর থেকেই নাতি-নাতনিদের লালন-পালনের দায়িত্ব এসে পড়ে সুফিয়ার কাঁধে।

জীবিকার উৎস বলতে খাল-বিল, ঝোপঝাড় বা মাঠের পাশ থেকে সংগ্রহ করা শাকপাতা। সেগুলো আঁটি বেঁধে প্রতিদিন হেঁটে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে জলঢাকা বাজারে বিক্রি করতে যান। দিন শেষে যা আয় হয়, তাই দিয়ে চলতে হয় পুরো সংসার।

বর্ষা কিংবা শীত—কোনো ঋতুই স্বস্তি এনে দেয় না এই পরিবারের জন্য। টিনের ছাপড়ায় বৃষ্টির দিনে পানিতে ভেজা কষ্ট, শীতকালে ঠান্ডার যন্ত্রণা। নেই বিদ্যুৎ, নেই স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন এক চরম পরীক্ষা।

সুফিয়া বেগম আক্ষেপ করে বলেন,শুকনো দিনে কোনো মতে চলে, কিন্তু বৃষ্টি বা ঠান্ডা নামলে এই ঘরে থাকা যায় না। নিজের জায়গা তো নেই, থাকার কোনো উপায়ও নেই।

সুফিয়ার মতো একজন সংগ্রামী নারীর পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। সমাজের বিত্তবান কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের মানবিক নজরই হতে পারে তার বাকি জীবনের আশার আলো। একটি নিরাপদ বাসস্থান এই পরিবারটির স্বপ্ন নয়—অধিকার।

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয়

দেশে প্রথম নৌযান শুমারি: সর্বাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিয়ে শীর্ষে সুনামগঞ্জ

শাক তুলে চলে সুফিয়ার সংসার,নেই বসতভিটা-তবুও চলছে জীবন

আপডেটের সময়: ০৮:৪২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
print news

বিশেষ প্রতিনিধি–◼️

নিঃশেষ জীবনের গল্প যেন নামেই সুফিয়া বেগম। নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম কালিরডাঙ্গা গ্রামের এই নারী মানুষের জমিতে সামান্য টিনের ছাপড়ায় দুই মেয়ে ও পাঁচ নাতি-নাতনিকে নিয়ে দিন গুজরান করছেন।

প্রায় ২৬ বছর আগে স্বামীকে হারানোর পর শুরু হয় তার সংগ্রাম। দুই মেয়েকে বড় করে বিয়ের পরেও পিছু ছাড়েনি দুর্ভাগ্য। একে একে মৃত্যুবরণ করেন দুই জামাই। তার পর থেকেই নাতি-নাতনিদের লালন-পালনের দায়িত্ব এসে পড়ে সুফিয়ার কাঁধে।

জীবিকার উৎস বলতে খাল-বিল, ঝোপঝাড় বা মাঠের পাশ থেকে সংগ্রহ করা শাকপাতা। সেগুলো আঁটি বেঁধে প্রতিদিন হেঁটে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে জলঢাকা বাজারে বিক্রি করতে যান। দিন শেষে যা আয় হয়, তাই দিয়ে চলতে হয় পুরো সংসার।

বর্ষা কিংবা শীত—কোনো ঋতুই স্বস্তি এনে দেয় না এই পরিবারের জন্য। টিনের ছাপড়ায় বৃষ্টির দিনে পানিতে ভেজা কষ্ট, শীতকালে ঠান্ডার যন্ত্রণা। নেই বিদ্যুৎ, নেই স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন এক চরম পরীক্ষা।

সুফিয়া বেগম আক্ষেপ করে বলেন,শুকনো দিনে কোনো মতে চলে, কিন্তু বৃষ্টি বা ঠান্ডা নামলে এই ঘরে থাকা যায় না। নিজের জায়গা তো নেই, থাকার কোনো উপায়ও নেই।

সুফিয়ার মতো একজন সংগ্রামী নারীর পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। সমাজের বিত্তবান কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের মানবিক নজরই হতে পারে তার বাকি জীবনের আশার আলো। একটি নিরাপদ বাসস্থান এই পরিবারটির স্বপ্ন নয়—অধিকার।